1. admin@bangladeshkhabarpratidin.com : admin :
ঝিরিঝিরি বৃষ্টিতেও প্লাবিত মহেশখালীর নিম্নাঞ্চল, দুই জনের মৃত্যু ও একজন নিখোঁজ.. - বাংলাদেশ খবর প্রতিদিন
বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ০১:৩০ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
ঠাকুরগাঁও-১ আসনের সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিলেন মির্জা ফয়সল আমীন ​দেবহাটায় জামায়াতের কর্মী ও সুধী সমাবেশ অনুষ্ঠিত: সৎ নেতৃত্বের মাধ্যমেই ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠন সম্ভব। দিরাই জারুলিয়া গ্রামে ১৪টি বসতঘর ও আসবাবপত্র পুড়ে ছাই,আনুমানিক ৪/৫ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি বেলকুচিতে প্রশাসনের অভিযানের পরও থামছে না ডাইং কারখানার দূষণ নারীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে মিনি ম্যারাথন প্রতিযোগিতা আয়োজনের লক্ষ্যে প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে আট দফা দাবিতে জাতীয় প্রেসক্লাবে শিক্ষক কর্মচারী ঐক্যজোটের সংবাদ সম্মেলন পাঁচবিবিতে ভারতীয় সিরাপ ও ইয়াবাসহ আটক ৩ পাঁচবিবিতে উচ্চতা ৪ ফুট তবু থেমে নেই জীবনযুদ্ধ ১৬ বছর ধরে পরিশ্রমে সংসার চালান আল-আমিন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে কলকলিয়া ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী আলহাজ্ব মুহিত মিয়ার নির্বাচনী মতবিনিময় সভা  সাতক্ষীরায় যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালিত

ঝিরিঝিরি বৃষ্টিতেও প্লাবিত মহেশখালীর নিম্নাঞ্চল, দুই জনের মৃত্যু ও একজন নিখোঁজ..

সুমন চন্দ্র দে, মহেশখালী (কক্সবাজার) প্রতিনিধি 
  • প্রকাশের সময় : শুক্রবার, ৩০ মে, ২০২৫
  • ১৮৬ বার পঠিত

সুমন চন্দ্র দে, মহেশখালী (কক্সবাজার) প্রতিনিধি 
টানা দুই দিনের ঝিরিঝিরি বৃষ্টিতে কক্সবাজারের মহেশখালীর উপকূলীয় এলাকাগুলোতে নেমে এসেছে হাহাকার। শুক্রবার (৩০ মে) সকাল থেকে শুরু হওয়া গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি দুপুর নাগাদ বাড়তে থাকে এবং জোয়ারের পানির তোড়ে প্লাবিত হয় পৌরসভার নিম্নাঞ্চল, কুতুবজোম, মাতারবাড়ির সাইরার ডেইল, ধলঘাটা ও ছোট মহেশখালীর নিম্নাঞ্চল। লোকালয়ের রাস্তাঘাট, দোকানপাট ও শত শত ঘরবাড়ি পানির নিচে তলিয়ে যায়। ভেঙে পড়ে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে তীব্রভাবে চলছে লোডশেডিং। 

সাগর উত্তাল থাকায় উপজেলার পৌরসভার নিম্নাঞ্চল, ছোট মহেশখালী, কুতুবজোম, মাতারবাড়ির জালিয়াপাড়া ও ধলঘাটা ঘুরে দেখা গেছে, উপকূলীয় লোকজন আতঙ্কিত হয়ে ঘর ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ছোটাছুটি করছে। সাগরের উপর ঘনীভূত লঘুচাপ নিম্নচাপে পরিণত হওয়ায় হঠাৎই জোয়ারের পানি স্বাভাবিক চেয়ে দ্বিগুণ উচ্চতায় প্রবাহিত হয়। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয় ছোট মহেশখালীর মূল সড়ক। পানি ঢুকে পড়ে বিভিন্ন ইউনিয়নের বাজার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও বসতবাড়িতে। অনেকের সম্পদ পানির তোড়ে ভেসে যায়।

দুপুরের দিকে ঘটিভাঙ্গার পশ্চিমে বেড়ীবাঁধ বিলীন হয়ে লোকালয়ে সাগরের পানি প্রবেশ, জেলে পাড়া, বাহির পাড়া’সহ বেড়ীবাঁধের বাহিরের অধিকাংশ ঘরবাড়ী জোয়ারের পানিতে প্লাবিত।

এই পর্যন্ত বৃহস্পতিবার সকালে কুতুবজোম ইউনিয়নের ঘটিভাঙা এলাকায় দানু মিয়া (৪২) নামের এক ব্যক্তি জোয়ারের পানিতে ডুবে মারা যান এবং হোয়ানক বেক্সিকো নতুন খালে লবণবাহী ট্রলার থেকে পড়ে মাঝি সেকাফ উদ্দিন নিখোঁজ!

শুক্রবার শাপলাপুর ইউনিয়নের ছেড়াদিয়ায় চিংড়ী ঘেরে  বজ্রপাতে ইমন নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা যায়।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপের ফলে কক্সবাজার উপকূলে স্বাভাবিকের চেয়ে ২ থেকে ৩ ফুট উচ্চতায় জোয়ার হতে পারে। নিম্নচাপটি আরও ঘনীভূত হয়ে গভীর নিম্নচাপে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা থাকায় উপকূলীয় এলাকায় সতর্কতা জারি করা হয়েছে। মহেশখালী ও কুতুবদিয়া উপকূলের নিকটবর্তী নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সেইসঙ্গে ছোট ট্রলার ও নৌযানকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি থাকতে বলা হয়েছে।

সাগরের ঢেউয়ের ধাক্কায় বদরখালী নৌ-চ্যানেলে অবস্থানরত বহু ফিশিং ট্রলারের জাল ছিঁড়ে গেছে। দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে তারা নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য তীরে ফিরে এসেছে। জেলেরা জানান, কয়েকদিনের খরচের জন্য সাগরে মাছ ধরতে গিয়েছিলেন, কিন্তু উত্তাল সাগরের ঢেউয়ের মুখে পড়ে প্রায় সব জাল ছিঁড়ে গেছে। জেটিঘাটে গিয়ে দেখা যায়, অনেক জেলে বসে ছেঁড়া জাল মেরামতের কাজে ব্যস্ত। তারা দুর্যোগে আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কায় পড়েছেন।

ছোট মহেশখালী ইউনিয়নের জালিয়াপাড়া এলাকার সোনা মিয়া জানান, তার শেষ সম্বল ছিলো ঘরটি, সেটিও এখন সাগরে বিলীন হওয়ার পথে। তিনি বলেন, ‘নির্ঘুম রাত কাটিয়েছি পরিবারের সবাইকে নিয়ে। ঘরটি সরিয়ে নেয়ার সামর্থ্য আমার নেই। একই গ্রামের রহিমা বেগম বলেন, ‘বেড়িবাঁধ না থাকায় প্রতিবছর এই দুর্ভোগ পোহাতে হয়। এবার ঘরে পানি ঢুকে সব নষ্ট হয়ে গেছে। তারা জরুরি ভিত্তিতে টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণের দাবি জানান।

এদিকে, বৈরী আবহাওয়ার কারণে বৃহস্পতিবার সকাল ১১টা থেকে মহেশখালী-কক্সবাজার নৌরুটে সী-ট্রাক সহ অন্যান্য যান চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ করে দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। পাশাপাশি ছোট মহেশখালী ইউনিয়নের সাগর তীরবর্তী এলাকাগুলোর মানুষজনকে দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে চলে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে আশ্রয়কেন্দ্রগুলো প্রস্তুত রাখা হয়েছে বলে জানা গেছে। এছাড়া দুর্গত এলাকাগুলোতে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।

মহেশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. হেদায়েত উল্যাহ্ জানান- ঘূর্ণিঝড়টি লঘুচাপ থেকে নিম্নচাপে পরিণত হয়, এতে জোয়ারের পানি অস্বাভাবিক বৃদ্ধি পেয়ে মহেশখালীর প্রায় নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। সাগর উত্তাল থাকায় সী-ট্রাকসহ সব ধরনের নৌযান চলাচল বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। কর্মকর্তাদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে, জরুরি সভা করে উপজেলায় কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে, বিভিন্ন আশ্রয় কেন্দ্র উন্মুক্ত শুকনো খাবার প্রস্তুত রাখা হয়েছে। পাহাড়ি এলাকায় বসবাসরতদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে যেতে মাইকিং করা হচ্ছে। ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স এর ইউনিট প্রস্তুত রাখা হয়েছে। বিভিন্ন স্থানে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ায় তা মেরামত ও চালু রাখার চেষ্টা হচ্ছে।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন মহেশখালী প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসের কর্মকর্তা কাওসার আহমেদ জানান- মাতারবাড়ি, ছোট মহেশখালী, কুতুবজোমের ঘটিভাঙা ও পৌরসভার বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত হয়েছে। মাতারবাড়িতে বেশ কিছু বাড়ি পানির নিচে তলিয়ে যায় এবং দুই হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়লে তাদেরকে উদ্ধার করে সাইক্লোন সেল্টারে নিয়ে আসা হয়েছে। কুতুজোমের ঘটিভাঙ্গায় পানিতে ডুবে মারা যাওয়া এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। নিম্নাঞ্চল পাহাড়ে ঝুঁকিপূর্ণ ভাবে বসবাসকারী লোকজনকে সরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং এসব এলাকায় মাইকিং করা হচ্ছে। সেল্টারে আশ্রয় নেওয়া লোকজনকে জরুরি খাবার সরবরাহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং জেলা প্রশাসনের কাছে জরুরি ত্রাণ সহায়তা চাওয়া হয়েছে।

Facebook Comments Box
এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ
© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৪ বাংলাদেশ খবর প্রতিদিন
প্রযুক্তি সহায়তায় Shakil IT Park