1. admin@bangladeshkhabarpratidin.com : admin :
জীবিকার পথে বেরিয়ে আর ফেরা হলো না — সাতটি পরিবারের স্বপ্ন ভেঙে শোকে স্তব্ধ পুরো গ্রাম। - বাংলাদেশ খবর প্রতিদিন
বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ০৭:১৯ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
বেলকুচিতে প্রশাসনের অভিযানের পরও থামছে না ডাইং কারখানার দূষণ নারীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে মিনি ম্যারাথন প্রতিযোগিতা আয়োজনের লক্ষ্যে প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে আট দফা দাবিতে জাতীয় প্রেসক্লাবে শিক্ষক কর্মচারী ঐক্যজোটের সংবাদ সম্মেলন পাঁচবিবিতে ভারতীয় সিরাপ ও ইয়াবাসহ আটক ৩ পাঁচবিবিতে উচ্চতা ৪ ফুট তবু থেমে নেই জীবনযুদ্ধ ১৬ বছর ধরে পরিশ্রমে সংসার চালান আল-আমিন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে কলকলিয়া ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী আলহাজ্ব মুহিত মিয়ার নির্বাচনী মতবিনিময় সভা  সাতক্ষীরায় যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালিত বাগমারায় সাংবাদিকের ফেসবুক আইডি হ্যাক করে ৪০ হাজার টাকা হাতিয়ে নিল প্রতারক চক্র ​সাতক্ষীরা সীমান্তে অভিনব কায়দা: মলদ্বারে লুকিয়ে পাচারের সময় ১.৫৫ কোটি টাকার স্বর্ণসহ ভারতীয় নাগরিক আটক পাবিপ্রবিতে ডিবেটিং সোসাইটির কমিটি নিয়ে বিতর্ক, আলোচনায় শিবির সভাপতি

জীবিকার পথে বেরিয়ে আর ফেরা হলো না — সাতটি পরিবারের স্বপ্ন ভেঙে শোকে স্তব্ধ পুরো গ্রাম।

মোঃ ইব্রাহীম মিঞা, দিনাজপুর প্রতিনিধি:
  • প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২৬
  • ৯২ বার পঠিত

মোঃ ইব্রাহীম মিঞা, দিনাজপুর প্রতিনিধি:

কুমিল্লার দাউদকান্দিতে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত সাতজনের ঘটনায় দিনাজপুরের বিরামপুর ও নবাবগঞ্জ উপজেলার একাধিক গ্রামে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। জীবিকার তাগিদে ঘর ছেড়ে বের হওয়া মানুষগুলো আর ফিরে না আসায় স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে পুরো জনপদ।

মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) ভোররাত ৩টার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের দাউদকান্দি উপজেলার হাসানপুর এলাকায় চালবোঝাই একটি ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে যায়। এতে ট্রাকের ওপর থাকা ১৩ জনের মধ্যে ঘটনাস্থলেই সাতজন নিহত হন এবং আহত হন আরও ছয়জন।

নিহতরা হলেন—দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলার খালিবপুর এলাকার মো. আজাদের ছেলে আফজাল হোসেন (৩৫), একই এলাকার আলমের ছেলে সোহরাব হোসেন (৪০), ফজলুর রহমানের ছেলে সালেক (৪৫); বিরামপুর উপজেলার ভাইগড় গ্রামের পলাশ হোসেনের ছেলে সুমন বাবু (২২), সইফ উদ্দিনের ছেলে বিষু (৪৫), বীর মুক্তিযোদ্ধা মজির উদ্দিনের ছেলে আবু হোসেন (৪২) এবং রফিতুল্লাহ মন্ডলের ছেলে আব্দুর রশিদ (৬৫)।

মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) সরেজমিনে বিরামপুর উপজেলার ভাইগড় গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, একই গ্রামের একাধিক পরিবারের উপার্জনক্ষম সদস্য হারানোর বেদনায় পুরো গ্রাম নিস্তব্ধ। কেউ সান্ত্বনা দিচ্ছেন, কেউ নির্বাক হয়ে বসে আছেন—আবার কেউ কান্নায় ভেঙে পড়ছেন বারবার। স্থানীয়রা জানান, এমন হৃদয়বিদারক ঘটনা এই গ্রামে আগে কখনো ঘটেনি।

নিহত বিষুর পরিবারে রয়েছে এক ছেলে ও দুই মেয়ে। ছেলে দশম শ্রেণিতে পড়াশোনা করছে, সামনে এসএসসি পরীক্ষা। ছোট মেয়েটি এখনও প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়ে। পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারীকে হারিয়ে তাদের ভবিষ্যৎ এখন অনিশ্চয়তায় ঢাকা।

অন্যদিকে আব্দুর রশিদ রেখে গেছেন বৃদ্ধ স্ত্রী লাইলী বেগমকে। ছয় মেয়ের সবাই বিয়ে হয়ে গেলেও বার্ধক্যে স্ত্রীর একমাত্র ভরসা ছিলেন তিনি। কান্নাজড়িত কণ্ঠে স্বজনরা বলছেন—“এখন তাকে দেখবে কে?

আবু হোসেন রেখে গেছেন দুই ছেলে দুই মেয়ে ও এক স্ত্রীকে এছাড়াও পলাশের ছেলে সুমন সে তো এখনো বিয়ের পিঁড়িতে বসতেই পারেনি সংসার এর অভাব অনটনের দায়ে। সংসারের স্বচ্ছলতা আনার লক্ষ্যে দূরপাল্লায় জীবিকার তাগিদে পাড়ি দিয়ে না ফেরার দেশে চলে গেলেন তারা।

নবাবগঞ্জ উপজেলার খালিবপুর এলাকাতেও একই শোকের চিত্র। একই গ্রামের তিনজনের মৃত্যুতে সেখানে চলছে শোকের মাতম। স্বজন হারানোর বেদনায় বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন পরিবার-পরিজনরা।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক নেতারা শোকসন্তপ্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়াতে ছুটে যাচ্ছেন। দ্রুত লাশগুলো নিজ নিজ এলাকায় এনে দাফন সম্পন্ন করার জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন স্বজন ও এলাকাবাসী।

এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় শুধু সাতটি প্রাণই ঝরে যায়নি—একসাথে ভেঙে পড়েছে একাধিক পরিবারের স্বপ্ন, নিরাপত্তা আর বেঁচে থাকার অবলম্বন।

Facebook Comments Box
এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ
© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৪ বাংলাদেশ খবর প্রতিদিন
প্রযুক্তি সহায়তায় Shakil IT Park