
মোঃ সাইদুল বাসার সাতক্ষীরা প্রতিনিধি :
ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’-এর প্রভাবে সাতক্ষীরার উপকূলীয় উপজেলা আশাশুনির প্রতাপনগর ইউনিয়নে নদীর পানির অস্বাভাবিক চাপ বৃদ্ধি পাওয়ায় তীব্র নদী ভাঙন ও প্লাবনের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। আকস্মিক এই পরিস্থিতিতে এলাকাবাসীর মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। ভাঙন রোধে ও নিজেদের বসতভিটা রক্ষায় ইতিমধ্যে স্থানীয়রা মাইকিং করে জনসাধারণকে সতর্ক করার পাশাপাশি রাতভর স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে বাঁধ রক্ষার চেষ্টা চালাচ্ছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে সৃষ্ট জলোচ্ছ্বাস ও নদ-নদীর পানির উচ্চতা বেড়ে যাওয়ায় প্রতাপনগর ইউনিয়নের বিভিন্ন পয়েন্টের দুর্বল বেড়িবাঁধ নতুন করে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে সন্ধ্যার পর থেকে পরিস্থিতি বেগতিক আকার ধারণ করলে স্থানীয় যুবসমাজ ও সাধারণ মানুষ মাইকিং করে পুরো এলাকায় সতর্কতা জারি করেন। এরপর রাতেও টর্চলাইট জ্বালিয়ে, বালুভর্তি বস্তা এবং অন্যান্য জরুরি উপকরণ নিয়ে বাঁধ সুরক্ষায় মাঠে নামে এলাকাবাসী।
ভুক্তভোগী স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, প্রতাপনগর এলাকাটি ভৌগোলিকভাবে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। এর আগে বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগে এখানকার বেড়িবাঁধ ভেঙে বিস্তীর্ণ জনপদ প্লাবিত হয়েছে এবং মানুষ সর্বস্বান্ত হয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে যেভাবে নদীর ঢেউ বেড়িবাঁধের গায়ে আছড়ে পড়ছে, তাতে যেকোনো মুহূর্তে বাঁধ ভেঙে লোকালয়ে পানি ঢুকে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
তবে ক্ষোভ প্রকাশ করে আব্দুস সাঈদ সহ এলাকাবাসী জানান, বারবার এই ধরনের অস্থায়ী পদক্ষেপ বা স্বেচ্ছাশ্রম কোনো স্থায়ী সমাধান দিতে পারে না। একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “প্রতিটি দুর্যোগেই আমাদের এভাবে নির্ঘুম রাত কাটাতে হয়। জিও ব্যাগ বা মাটির বস্তা দিয়ে সাময়িক রক্ষা পাওয়া গেলেও জোয়ারের চাপে তা টিকিয়ে রাখা কঠিন। এই ঝুঁকিপূর্ণ অংশগুলোতে যদি দ্রুত স্থায়ী ও টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা না হয়, তবে যেকোনো সময় পুরো জনপদ মানচিত্র থেকে হারিয়ে যাওয়ার উপক্রম হবে।”
এদিকে নদী ভাঙনের এই চরম ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) ও স্থানীয় প্রশাসনের জরুরি ও কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী। তাদের দাবি, কোনো বড় ধরণের বিপর্যয় ঘটার আগেই যেন দ্রুততম সময়ের মধ্যে ভাঙনকবলিত ও ঝুঁকিপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে স্থায়ী প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়।