
তাসলিমা রত্না ময়মনসিংহ জেলা
ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলার বালিপাড়া ইউনিয়নের চর ইছামতী গ্রামে ব্রহ্মপুত্র নদের চরে চীনা প্রতিষ্ঠান ফুজি সানতাইয়ের ফলের বাগান প্রকল্পের সীমানা ঘেঁষে মাটি কাটাকে কেন্দ্র করে বিরোধের অভিযোগ উঠেছে। প্রকল্প কর্তৃপক্ষ ও পাশের জমির মালিকদের মধ্যে বালুর ব্যবসা এবং মাটি সরানোকে কেন্দ্র করে এ বিরোধের সৃষ্টি হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, ফলের বাগান প্রকল্পের সীমানা ঘেঁষে অতিরিক্ত গর্ত করে মাটি কেটে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এতে প্রকল্পের সীমানাসংলগ্ন জমিতে ফাটল দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, এভাবে মাটি কাটা অব্যাহত থাকলে সীমানার মাটি ধসে পড়তে পারে এবং প্রকল্পটি ক্ষতির মুখে পড়তে পারে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও ইউপি সদস্য দেলোয়ার হোসেন মেম্বারের অভিযোগ, জসিম উদ্দিন ঢালী, সবুজ ঢালী, মাহতাব উদ্দিন ঢালী, লিটন ঢালী, রুবেল মিয়া, নুরুজ্জামানসহ আরও কয়েকজন ব্যক্তিগত আক্রোশের জেরে মাটি সরিয়ে প্রকল্পটির ক্ষতিসাধনের চেষ্টা করছেন। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত নুরুজ্জামান বলেন, আমাদের নিজেদের জমির মাটি আমরা বিক্রি করছি। অর্থাৎ, তিনি মাটি বিক্রির বিষয়টি নিজেদের জমির মালিকানার ভিত্তিতে ব্যাখ্যা করেছেন। তবে জমির সীমানা, মাটি কাটার বৈধতা এবং এর ফলে পাশের প্রকল্পের ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে কি না, সেসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
এদিকে, এ বিষয়ে ক্যামেরার সামনে কথা বলতে রাজি হননি অনেকেই। স্থানীয় কয়েকজনের দাবি, তাঁরা সাক্ষাৎকার দিলে মা/ম/লা ও হা/ম/লা/র শিকার হওয়ার আশঙ্কা করছেন। তবে তাঁদের এ আশঙ্কার বিষয়ে স্বাধীনভাবে কোনো সত্যতা যাচাই করা যায়নি।
স্থানীয়দের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৩৭ একর জমিতে প্রতিষ্ঠিত এ ফলের বাগান প্রকল্পে প্রায় ৫০ জনের কর্মসংস্থান হয়েছে। প্রকল্পটিতে চীনের ১৬ জন কর্মী ও দুজন দোভাষী কাজ করছেন বলে জানিয়েছেন তাঁরা। ফলে প্রকল্পটির নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা রক্ষা করা স্থানীয় কর্মসংস্থান এবং বিনিয়োগের স্বার্থেও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন এলাকাবাসী।
ভুক্তভোগীদের দাবি, বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের দ্রুত হস্তক্ষেপ প্রয়োজন। তাঁরা ঘটনাস্থল সরেজমিনে পরিদর্শন করে জমির সীমানা, মাটি কাটার স্থান, প্রয়োজনীয় অনুমোদন এবং প্রকল্পের সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি তদন্ত করার আহ্বান জানিয়েছেন।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন করে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে জমির মালিকানা ও মাটি বিক্রির বৈধতা যাচাই করে বিরোধের স্থায়ী সমাধান করা হবে, যাতে কোনো পক্ষের জমি বা স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত না হয় এবং এলাকায় শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় থাকে।