
মোঃ ইব্রাহীম মিঞা, দিনাজপুর প্রতিনিধি:
মালয়েশিয়া থেকে একদিন আগেই দেশে ফিরেছিলেন মাহমুদুল হাসান। স্ত্রী, এক ছেলে ও ১১ মাসের শিশুকন্যাকে নিয়ে মোটরসাইকেলে করে যাচ্ছিলেন গ্রামের বাড়িতে। কিন্তু পথেই ঘটে গেল মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। মুহূর্তের মধ্যে স্বামী-সন্তানদের চোখের সামনে প্রাণ হারালেন স্ত্রী রুমি আক্তার (২৮)। মায়ের কোলে থাকায় ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হয়ে পায়ে আঘাত পাওয়ায় গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে কাতরাচ্ছে ১১ মাসের শিশু মারিয়া মাহরীন। একই ঘটনায় বাবার সাথে আহত হয়েছে সাত বছরের ছেলে আব্দুর রহমানও।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) দুপুর আনুমানিক আড়াইটার দিকে দিনাজপুর-গোবিন্দগঞ্জ মহাসড়কের বিরামপুর পৌর শহরের জনতা ব্যাংক সংলগ্ন এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত রুমি আক্তার নবাবগঞ্জ উপজেলার জগন্নাথপুর গ্রামের মতিয়ার রহমানের ছেলে মাহমুদুল হাসান এর স্ত্রী। তাঁর স্বামী মাহমুদুল হাসান (৫০) দীর্ঘদিন মালয়েশিয়ায় প্রবাসজীবন কাটিয়ে গতকালই দেশে ফেরেন বলে স্বজনরা জানিয়েছেন।
আত্মীয়-স্বজন সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার দুপুরে মাহমুদুল হাসান বিরামপুর উপজেলার দিওড় ইউনিয়নের নলিয়াপাড়া এলাকা থেকে স্ত্রী রুমি আক্তার, ছেলে আব্দুর রহমান (৭) ও ১১ মাসের মেয়ে মারিয়া মাহরীনকে নিয়ে মোটরসাইকেলে করে নবাবগঞ্জের জগন্নাথপুর গ্রামের বাড়ির উদ্দেশে রওনা দেন।পথে বিরামপুর পৌর শহরের জনতা ব্যাংক সংলগ্ন এলাকায় দিনাজপুরগামী একটি মাছবাহী পিকআপের ধাক্কায় মোটরসাইকেলটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কে পড়ে যায়। এ সময় সামনে থেকে আসা গোবিন্দগঞ্জগামী ঢাকা মেট্রো -ট ১২ ৩৫৮৮ নাম্বারের একটি ট্রাক রুমি আক্তারকে চাপা দিলে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়।
দুর্ঘটনায় তাঁর ১১ মাসের শিশুকন্যা মারিয়া মাহরীনের পায়ে গুরুতর আঘাত লাগে। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে বিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন। স্বামী মাথায় আঘাত পান এবং সাত বছরের ছেলে আব্দুর রহমানও দুর্ঘটনায় আহত হয়েছে বলে স্বজনরা জানিয়েছেন।
এদিকে দুর্ঘটনার পর বিরামপুর ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা এসে দূর্ঘটনায় নিহতের লাশ ও আহতদের বিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নেয়। এসময় স্থানীয়রা ঘাতক ট্রাকটি আটক করলেও ট্রাকের চালক ও হেলপার পালিয়ে যায়।
একদিন আগেই প্রবাস থেকে ফেরা মাহমুদুল হাসানের জন্য পরিবারের সঙ্গে এই যাত্রাটি ছিল আনন্দের। কিন্তু কয়েক মিনিটের ব্যবধানে সেই আনন্দ পরিণত হয়েছে শোকের মাতমে। মাকে হারিয়ে ১১ মাসের শিশু মারিয়া এখন হাসপাতালে—আর স্বজনদের চোখে-মুখে শুধু স্বজন হারানোর বেদনা।
এ বিষয়ে বিরামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামীম আল মামুন বলেন, ঘাতক ট্রাকটি পুলিশ হেফাজতে রয়েছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।