
তাসলিমা রত্না ময়মনসিংহ জেলা প্রতিনিধি
সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদপ্তরের কাজ বণ্টন নিয়ে আবারও উঠেছে অনিয়ম ও প্রভাব খাটানোর অভিযোগ।
অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যবসায়ী রায়হান মুস্তাফিজ ও তার প্রতিষ্ঠান ন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট ইঞ্জিনিয়ার্স (এনডিই)।অভিযোগ অনুযায়ী, রাজনৈতিক প্রভাব কাজে লাগিয়ে মাত্র ছয় বছরে প্রায় ৮ হাজার ৬৫০ কোটি টাকার কাজ বাগিয়ে নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এ বিশাল অঙ্কের কাজ পাওয়ার পেছনে শক্তিশালী একটি প্রভাবশালী চক্র কাজ করেছে।সূত্র জানায়, এই চক্রের সঙ্গে সাবেক সরকারের ঘনিষ্ঠ কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তির সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। বিশেষ করে সাবেক সামরিক উপদেষ্টা তারেক আহমেদ সিদ্দিকী এবং সাবেক চিক গ্রুপের নুর-ই-আলম চৌধুরী লিটনের নাম আলোচনায় এসেছে।
এছাড়া, পারিবারিক ও ব্যবসায়িক সম্পর্কের মাধ্যমেও প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ রয়েছে। জানা গেছে, রায়হান মুস্তাফিজের স্ত্রী নুর-ই-আলম চৌধুরী লিটনের শ্যালিকা। একইসঙ্গে ব্যবসায়িক অংশীদার হিসেবে যুক্ত রয়েছেন শেখ রেহানার ছেলে রেদওয়ান মুজিব সিদ্দিক ববিও। অভিযোগ রয়েছে, এই প্রভাব বলয়ের মাধ্যমেই সওজে ‘ডন’ হিসেবে পরিচিতি পান রায়হান মুস্তাফিজ।সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সওজের কাজ বণ্টনে স্বচ্ছতার অভাব এবং রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত ও জবাবদিহিতার দাবি উঠেছে বিভিন্ন মহল থেকে।
ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে স্বল্পসময়ে সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদপ্তরে ‘ডন’ হিসাবে পরিচিতি পান রায়হান মুস্তাফিজ। গণপূর্তের বড় বড় কাজেও ছিল তার একচেটিয়া প্রভাব। মাত্র ছয় বছরের ব্যবধানে একক ও যৌথভাবে শুধু সড়কের ৮ হাজার ৬৫০ কোটি টাকার কাজ বাগিয়ে নেয় রায়হানের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান ন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট ইঞ্জিনিয়ার্স (এনডিই)।
অভিজ্ঞতা ছাড়াই প্রতিষ্ঠানটিকে একের পর এক বিভিন্ন মেগা প্রকল্পের কাজ দেওয়া হয়। এতে বিস্মিত হয়েছেন সংশ্লিষ্টরা; কিন্তু কিছু বলতে পারেননি। এখন তারা বলছেন, ক্ষমতার কালো কাপড়ে বাঁধা ছিল তাদের চোখ। রায়হানের স্ত্রী পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের ক্ষমতার কেন্দ্রে থাকা সাবেক চিফ হুইপ নূরে আলম চৌধুরী লিটনের স্ত্রীর বোন। এ সুবাদে লিটনের ভায়রা হওয়ায় রায়হানের দাপটে সবাই ছিলেন অসহায়। ভায়রার তদবিরেই সড়কের ঠিকাদারি কাজের ‘মাফিয়া চক্রের’ সদস্য বনে যান তিনি। ব্যবসায়িক অংশীদার করেন ববি সিদ্দিকীকে