
মো ইয়াকুব আলী তালুকদার
স্টাফ রিপোর্টার, গাজীপুর।
বিশেষ স্বাক্ষাৎকারে উস্তাদ সুলতান নাঈম বলেন বিশ্ব মুসলমানদের উপর পশ্চিমা হস্তক্ষেপ, আগ্রাসন আর আধিপত্য বিস্তার এবং তাদের সাথে সম্মিলিত পরিকল্পনা করে ইসলাম ও মুসলিম শাসন উত্থান ঠেকানো এবং ইসলাম ও মুসলমানদের ধ্বংসের সকল বন্দবস্ত করে আসছে। এটা নতুন কোন বিষয় নয়।
আট বছর আগে ঘটে যাওয়া এক ভয়াবহ ঘটনা আজ আবারও সামনে এসেছে। একজন সাবেক সেনা কর্মকর্তা, দেশপ্রেমিক মুসলিম, মেজর জাহিদ—যিনি বহু বছর মাতৃভূমির জন্য অকুতোভয় দায়িত্ব পালন করেছেন—তাঁকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। তাঁর স্ত্রী ও দুই কন্যা সন্তানকে চোখ বেঁধে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে গিয়ে বন্দি ও নির্যাতন করা হয়। সেদিন তাঁকে বলা হয়েছিল—”তোমার স্বামী জঙ্গি, স্বীকার করো, না হলে তোমাকেও তাঁর কাছে পাঠিয়ে দেব!”
এরপর সরাসরি জানানো হয়—”আমরাই তোমার স্বামীকে হত্যা করেছি!”
এই ঘটনা কোনো বিচ্ছিন্ন অপরাধ ছিল না, বরং একটি ধারাবাহিক রাষ্ট্রীয় কৌশলের অংশ—যেখানে “Counter Terrorism” নামের আড়ালে নিজের নাগরিকদের ওপরই সন্ত্রাস চালানো হয়।
মার্কিন রাজনৈতিক বিশ্লেষক মাইকেল স্টোল, স্পষ্ট করে বলেছেন:
“Governments often engage in terrorism against their own citizens and call it Counter Terrorism”
(অনেক সময় রাষ্ট্র নিজেই নাগরিকদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাস চালায়, আর তাকে বলে সন্ত্রাস দমন)।
বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও এর শিকড় আমাদের মুক্তির ইতিহাসে নয়, বরং ঔপনিবেশিক আমলে। ব্রিটিশরা যে পুলিশ, সামরিক ও গোয়েন্দা কাঠামো গড়ে দিয়েছিল—তার মূল লক্ষ্য ছিল জনগণকে শাসন, দমন, ও খাজনা আদায়। স্বাধীনতার পরেও আমরা সেই কাঠামো ভেঙে নতুন কোনো জনগণমুখী ব্যবস্থা তৈরি করতে পারিনি। ফলে আজও বাহিনীগুলোর আচরণ দখলদারদের মতো—শক্তের ভক্ত, নরমের যম।
যারা ইতিহাস জানেন, তারা জানেন—ব্রিটিশ, ফরাসি, ডাচ—সব ঔপনিবেশিক শক্তিই “Counter Insurgency” চালাতে গিয়ে নারীদের বন্দি, শিশুদের নির্যাতন, গ্রাম জ্বালানো, এবং বিপ্লবীদের লাশ ঝুলিয়ে রাখার মতো নৃশংসতা করত। আজকের “Counter Terrorism” সেই পুরনো নকশারই আধুনিক রূপ। গাজা, কাশ্মীর, আফগানিস্তান—সবখানেই একই চিত্র।
বাংলাদেশে ২০০৪ সাল থেকে বিদেশি গোয়েন্দা নির্দেশে গুম, নির্যাতন, যৌন নিপীড়নের মতো অপরাধ প্রাতিষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়। আর এসব অপরাধের বৈধতা দান করে প্রথম আলোর মতো কুলাঙ্গার সব পত্রিকা গুলো। প্রতিটা দ্বীনদার মানুষগুলোকে টার্গেট করার পর তারাই মিথ্যা জঙ্গি নেগেটিভ তৈরি করে তাদেরকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেয়। তাদের বানানো মিথ্যা নিউজে প্রভাবিত হয়ে পরবর্তীতে সেই সব নিরপরাধ বন্দিদের কে হত্যা করা হয়। যদি আমরা বলতে যাই তাহলে বলতে হয় সকল মিথ্যা জঙ্গি নেগেটিভ তৈরির মাস্টারমাইন্ড প্রথম আলো ডেইলি স্টারের মতো পত্রিকা গুলো এবং তাদের ন্যারেটিভ এর মাধ্যমে সকল হত্যা গুলোকে বৈধ করা হয়েছে। এখানে ‘আইনশৃঙ্খলা’ আসলে শক্তির প্রদর্শনী, ন্যায়বিচার নয়। বাংলাদেশে আসলে ন্যায় বিচার নেই।
এখানে আইন আদালত বিক্রি হয়। বিক্রি হয় আইনজীবীরা এমনকি বিচারপতিরাও। বিক্রি হয় সাক্ষী, বিক্রি হয় মিডিয়া।
এমনকি সরকার বিক্রি হয়ে যায় অন্য দেশের সরকারের কাছে।
আমরা যতবারই দেখি—একজন পুরুষকে হত্যা করা হলে, তাঁর স্ত্রী ও সন্তানদেরও শিকার করা হয়—এটি কোনো দুর্ঘটনা নয়। এটি হলো মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধের অংশ—যেখানে শত্রু শুধু একজন মানুষকে নয়, মূলতঃ পক্ষে ওদের শত্রু হলো আল্লাহর দেওয়া পরিপূর্ণ দ্বীন ইসলাম। পরিপূর্ণ দ্বীন ইসলামের অনুসারীরা। পরিপূর্ণ দ্বীন ইসলাম মানতে চাওয়া ধার্মিক দ্বীনদারেরা। তারা চায় এর মাধ্যমে ইসলাম মানতে যাওয়া ব্যক্তিদেরকে ধ্বংস করতে। এর সাথে সাথে তার পরিবার, সম্মান ও স্মৃতিকেও ধ্বংস করে দিতে চায়।
বাংলাদেশের মুসলিমদের জন্য এটি এক গভীর শিক্ষা—
যতক্ষণ আমরা আমাদের এই স্বাধীন বাংলাদেশে ষড়যন্ত্রকারী পশ্চিমাদের ঔপনিবেশিক কাঠামো ভাঙতে না পারবো, যতক্ষণ নিজেদের রাষ্ট্রীয় শক্তিকে ইসলামী ন্যায়বিচারের ভিত্তিতে পুনর্গঠন না করবো , ততক্ষণ আমরা স্বাধীন নই—শুধুই পতাকা বদলেছে, প্রভু বদলায়নি।
তাই আমাদের করণীয়—ইতিহাস ভুলে না যাওয়া, সত্য বলা, ন্যায়ের জন্য দাঁড়ানো, এবং উম্মাহর ঐক্য ফিরিয়ে আনা। কারণ স্বাধীনতা কেবল রাজনৈতিক স্লোগানে নয়—তা আসে যখন উম্মাহ নিজের কাঠামো, নীতি ও ন্যায়বিচারকে আল্লাহর হুকুমে সাজিয়ে নেয়।