
সুমন চন্দ্র দে, মহেশখালী (কক্সবাজার) প্রতিনিধি:
কক্সবাজারের মহেশখালী মাতারবাড়ি কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্পের ১৫ কোটি টাকার ক্যাবল চুরি কান্ডের মুল হোতা পস্কো কোম্পানিতে কর্মরত কিউসি ম্যানেজার নাহিদ হাসান চাকুরির পাশাপাশি অঘোষিত ভাবে গড়ে তুলেছেন একটি কমিশন বাণিজ্যের সিন্ডিকেট। এই সিন্ডিকেটের কারণে সরকারের অগ্রাধিকার প্রকল্পের কাজ পাচ্ছে না ক্ষতিগ্রস্থ জমির মালিক ও স্থানীয় শ্রমিকেরা।
ফলে দিন দিন তার বিরুদ্ধে পাহাড়সম অভিযোগ উঠলেও অদৃশ্য শক্তির বলয়ে বহাল তবিয়তে রয়ে গেছে সমহিমায়। আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর পস্কো কোম্পানীর সিকিউরিটি অফিসার নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ নেতা সুমন বাপ্পিকে নিয়ে এখন স্থানীয় একটি রাজনৈতিক প্রভাবশালী জনৈক ব্যক্তিদের সঙ্গে সিন্ডিকেট করে নামে-বেনামে কোম্পানি খুলে চালিয়ে যাচ্ছেন কমিশন বাণিজ্য।
অভিযোগ ও প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্পের পস্কো কোম্পানির কয়েকজন বাঙ্গালি অফিসারের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে বিভিন্ন সময় গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হলে তৌড়জোড় শুরু করে সরকারের বিভিন্ন সংস্থা ও সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। তাদের তদন্তে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে চাকুরিচ্যুত হয় নীল, জসিম, গুপ্তদাস,আল আমিন, কিরণসহ অনেকেই। কিন্তু প্রকল্পের প্রায় ১৫ কোটি টাকার ক্যাবল চুরির মুল হোতা পস্কো কোম্পানিতে কর্মরত কিউসি ম্যানেজার নাহিদ হাসান রয়েছে বহাল তবিয়তে। তার বিরুদ্ধে তদন্তের দাবি তুলেছেন স্থানীয়রা।
কিউসি ম্যানেজার নাহিদ হাসান নরসিংদীর চাঁদপুর বেলাবু এলাকার নুরুল ইসলাম এর পুত্র। সিন্ডিকেট করে নিজের লোকজনের নামে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান খুলে বহু কাজ ভাগিয়ে নেয়ার অভিযোগ দীর্ঘদিনের। তিনি কয়েক বছরে অনন্ত পক্ষে কয়েক কোটি টাকা অবৈধভাবে আয় করেছে। তার অবৈধ আয়ে এলাকায় গড়ে তোলাছেন বহুতল আলিশান বাড়ী।
বিগত কয়েক বছর আগে মাতারবাড়ী বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে প্রায় ১৫ কোটি টাকার ক্যাবল চুরি করে পাচারের সময় আটক করে নৌ-বাহিনীর সদস্যরা। এসময় পস্কো কোম্পানিতে কর্মরত ৬ জনকে আটক করা হয়। উক্ত ঘটনায় কিউসি ম্যানেজার নাহিদ হাসান সহ প্রকল্পের বিভিন্ন কোম্পানীর কর্মকর্তারা জড়িত ছিলেন বলে সংবাদমাধ্যম খবর প্রচার হয়। ক্যাবল গুলো আটকের পর দীর্ঘদিন নাহিদ হাসানরা গা ঢাকা দিয়েছিলেন। ক্যাবল চুরির মুল হোতা হয়েও নাহিদ হাসান এখনো কোনো এক অদৃশ্য শক্তির বলয়ে বহাল তবিয়তে রয়ে গেছে সমহিমায়।
পস্কোর কিউসি ম্যানেজার নাহিদ হাসান এর বিরুদ্ধে বিগত সময় বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে স্থানীয় শ্রমিক ও চাকুরীজিবীদের চাকুরীচুৎ করে মোটা টাকার বিনিময়ে বহিরাগতদের চাকুরী দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া নিজের লোকের নামে বিভিন্ন সাব ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান খুলে অবকাঠামো নির্মানের কাজ ভাগিয়ে নিয়েছিলেন। এভাবে অনন্তপক্ষে গত কয়েক বছরে কয়েক কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে।
সে ধারাবাহিকতা বজায় রেখে সরকার পতনের পর পস্কো কোম্পানীর সিকিউরিটি অফিসার নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতা সুমন বাপ্পিকে নিয়ে স্থানীয় একটি রাজনৈতিক প্রভাবশালী চক্রের সঙ্গে সিন্ডিকেট করে নামে-বেনামে কোম্পানি খুলে চালিয়ে যাচ্ছেন কমিশন বাণিজ্য। তার এসব দুর্নীতি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবী জানান অভিযোগকারীরা।
এদিকে অভিযুক্ত পস্কোর কিউসি ম্যানেজার নাহিদ হাসান এর সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে ফোন রিসিভ না করায় বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।