
মো ইয়াকুব আলী তালুকদার
স্টাফ রিপোর্টার, গাজীপুর
আজ ১৬ মে শুক্রবার মানবতার মঞ্চে যে আলোর দিশারী হয়ে আছেন একজন নিভৃতচারী আলেম
সমাজে যখন মানুষ নিজেদের পরিচিতির জন্য ভাইরাল হওয়ার জন্য কিংবা জনপ্রিয়তার মোহে মানবসেবার অভিনয় করে তখন কিছু মানুষ নিঃশব্দে, নির্বিচারে প্রকৃত মানবতার প্রদীপ জ্বালিয়ে যাচ্ছেন অবিরাম। তেমনই এক আলো ছড়ানো মানবতার ফেরিওয়ালার নাম হলো তরুণ আলেম ও দাঈ “সুলতান নাঈম বিন মুসলিম ” যিনি অনলাইনে ও অফলাইনে পরিচিত উস্তাদ সুলতান নাঈম নামে।
একজন আলেম, মাদ্রাসা শিক্ষক, ইমাম ও খতিব, কবি, প্রাবন্ধিক ও সুরকার হিসেবে যার পরিচয় বিস্তৃত হলেও তার প্রকৃত পরিচয় মানুষের হৃদয়ে গেঁথে গেছে তার নিঃস্বার্থ মানবসেবা ও দীন-সচেতন সামাজিক কাজের মাধ্যমে। তার জীবনের একটাই লক্ষ্য –দুনিয়ার বুকে অসহায় মানুষদের পাশে দাঁড়ানো এবং দীনের আলোতে পথহারা মানুষকে পথ দেখানো।
মানসিক স্বাস্থ্য ও আত্মহত্যা প্রতিরোধে আলোকবর্তিকার পথ প্রদর্শক
বিশ্ব যখন ক্রমাগত বিষণ্নতা ও আত্মহত্যার মতো মানসিক ব্যাধির থাবায় জর্জরিত, তখন ২০২০ সালের করোনা মহামারির সময় থেকে উস্তাদ সুলতান নাঈম অনলাইনে মানসিক বিপর্যস্ত, হতাশ ও আত্মহত্যার প্রবণ মানুষদের নিয়ে কাজ শুরু করেন।
তার কাজ ছিল সহজ। শোনার জন্য কান এবং বলার জন্য সহানুভূতির একটি হৃদয়।
তিনি বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে একান্তভাবে কথা বলে, মোটিভেশনাল অডিও, ভিডিও, পোস্ট ও ব্যক্তিগত কাউন্সিলিংয়ের মাধ্যমে হতাশাগ্রস্ত মানুষদের জীবনে ফিরিয়ে আনেন আশার আলো।
আজ পর্যন্ত তার মাধ্যমে শতাধিক মানুষ আত্মহত্যার চিন্তা থেকে ফিরে এসেছে, কেউ আবার পেশা ও জীবনের নতুন লক্ষ্য খুঁজে পেয়েছে তার নিজের কথায়।
মানুষ যখন বাঁচতে চায় না তখন তাকে শুধু বেঁচে থাকার কারণটা নতুন করে বুঝিয়ে দিতে হয়। কুরআন-সুন্নাহই সেই চিরন্তন আশার ঠিকানা।
২০২২ সালে তার পুরনো ফেসবুক আইডি এবং পেজ হ্যাক ও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ফলে কাজ কিছুদিন থেমে গেলেও, আজ আবার নতুন উদ্যমে তিনি মানুষকে সাহস ও দাওয়াত দিয়ে যাচ্ছেন নির্বিচারে।
অসহায় ও নির্যাতিতা নারীদের বিবাহের সুব্যবস্থাপক তিনি।
সুলতান নাঈম শুধু মোটিভেটরই নন, বাস্তব জীবনের একজন সমস্যা সমাধানকারী সহায়তাকারীও বটে।
বিধবা, তালাকপ্রাপ্ত, বন্ধ্যা, ধর্ষিতা কিংবা সামাজিকভাবে অবহেলিত এমন বহু নারীকে তিনি বিবাহের মাধ্যমে একটি নতুন জীবন শুরু করার সুযোগ করে দিয়েছেন।
তথ্য অনুসারে, এখন পর্যন্ত তার উদ্যোগ ও তত্ত্বাবধানে প্রায় ৯০ টিরও বেশি বিবাহ সম্পন্ন হয়েছে।
বিবাহের মধ্যে রয়েছেন:
* ৪ জন ধর্ষিতা
* ৩ জন যাদের অতীত ছিল সমাজের চোখে কালিমালিপ্ত
* অনেক বিধবা, ডিভোর্সি ও বন্ধ্যা নারী
* এমনকি সমাজের চোখে ‘অপ্রিয়’ নারীরাও
তাদেরকে তিনি নিজের মা বা বোনের মতো সম্মান দিয়ে বিবাহের ব্যবস্থা করেছেন, কোনো লোভ বা জনপ্রিয়তার আকাঙ্ক্ষা ছাড়াই।
মিডিয়ার নীরবতা ও বাস্তবতার বৈপরীত্য
দুঃখজনক হলেও সত্য, ইসলামী ঘরানার মানুষদের ভালো কাজগুলো অনেক সময় মিডিয়ার আলোয় আসে না।
বরং কিছু মিডিয়া বরাবরই আলেমদের দোষ-ত্রুটি খুঁজতে ব্যস্ত থাকে । তবুও সুলতান নাঈমের মতো নির্ভীক মানবসেবীরা তাদের নিঃস্বার্থ কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন ইনাম নয়, ইখলাসের প্রত্যয় নিয়ে।
একজন আলেম যখন কবি, শিল্পী ও সংগঠক**
উস্তাদ সুলতান নাঈম বাংলাদেশের ইসলামী সংগীত অঙ্গনেও সুপরিচিত।
তার লেখা ও সুর করা বহু ইসলামী সংগীত দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে।
একাধারে তিনি একজন কবি, গল্পকার, ঔপন্যাসিক ও প্রাবন্ধিক।
তবে সব পরিচয় ছাপিয়ে তিনি মানুষ হিসেবে মানুষের পাশে দাঁড়ানোতেই খুঁজে পান তার জীবনের সার্থকতা।
যোগাযোগের উপায়
আপনার পরিচিত কেউ যদি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত থাকেন বা জীবনের পুনর্গঠনের জন্য সহায়তা চান, অথবা কোনো অসহায় নারীর বিয়ের বিষয়ে পরামর্শ চান – তবে যোগাযোগ করতে পারেন সরাসরি উস্তাদ সুলতান নাঈম সাহেবের সাথে।
ফেসবুক আইডি:Ustad Sultan Nayeem
হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর: +8801682981828
মানবসেবা শুধু দান খয়রাত নয়, এটা হৃদয়ের দায়িত্ব।
সুলতান নাঈম সেই দায়িত্বকে আলেম পরিচয়ের আলোতে উদ্ভাসিত করেছেন।
আজকের প্রজন্ম তার মতো মানবসেবী আলেমদের অনুসরণ করুক – এমনটাই হোক আমাদের প্রত্যাশা।