
সুমন চন্দ্র দে, কক্সবাজার জেলা প্রতিনিধি:
কক্সবাজারের মহেশখালীর সোনাদিয়া দ্বীপে প্যারাবন (ম্যাংগ্রোভ বন) ধ্বংসের ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বেড়েই চলেছে। পরিবেশ সুরক্ষার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই বনভূমি কেটে ফেলা, দখল এবং অবৈধভাবে ব্যবহার করার অভিযোগ দীর্ঘদিনের হলেও এখনো দৃশ্যমান কোনো কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।
প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তার সুযোগ নিয়ে আবারও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে প্যারাবন নিধনকারী চক্র। বন মামলা হলেও মূল অভিযুক্ত ও ভূমিদস্যুরা গ্রেপ্তার না হওয়ায় নির্বিচারে চলছে বনের গাছ কাটার উৎসব। এতে উপকূলীয় এই দ্বীপের জীববৈচিত্র্য ও প্রাকৃতিক সুরক্ষা বলয় মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, বন বিভাগ লোকদেখানো মামলা দিলেও পর্দার আড়ালে প্রভাবশালীদের সঙ্গে কর্মকর্তাদের রয়েছে গোপন আঁতাত। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে হাজার হাজার একর প্যারাবন কেটে চিংড়ি ঘের ও লবণ মাঠ তৈরি করা হচ্ছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বাসিন্দা জানান, ‘মামলা হলেও আসামিরা ধরাছোঁয়ার বাইরে। উল্টো তারা এখন আরও জোরেশোরে বন কাটছে, প্রতিবাদ করলে আমাদের উল্টো হুমকি দেওয়া হচ্ছে।’
স্থানীয় সূত্রে আরো জানা যায়, সোনাদিয়ার বিভিন্ন অংশে রাতের আঁধারে প্যারাবনের গাছ কেটে ফেলা হচ্ছে। কিছু জায়গায় গাছ উজাড় করে তৈরি করা হচ্ছে চিংড়ি ঘের, আবার কোথাও জমি দখলের উদ্দেশ্যে বনভূমি পরিষ্কার করা হচ্ছে। এতে করে উপকূলীয় পরিবেশ মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়ছে।
পরিবেশবাদীরা বলছেন, উপকূলীয় অঞ্চলের প্যারাবন কেবল জীববৈচিত্র্য রক্ষা করে না, বরং ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে উপকূলকে সুরক্ষা দেয়। এভাবে প্যারাবন ধ্বংস হতে থাকলে দীর্ঘমেয়াদী পরিবেশগত বিপর্যয় দেখা দেবে।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে একাধিকবার অভিযোগ দেওয়া হলেও কার্যকর কোনো অভিযান পরিচালনার খবর পাওয়া যায়নি। স্থানীয়দের দাবি, এ ঘটনায় মামলা দায়ের হলেও এখন পর্যন্ত কোনো আসামিকে গ্রেফতার করা হয়নি, যা প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে।
একজন স্থানীয় বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “প্রতিদিনই গাছ কাটা হচ্ছে, কিন্তু কেউ কিছু বলছে না। যারা করছে তারা প্রভাবশালী, তাই কেউ বাধা দিতে পারছে না।”
এদিকে পরিবেশ রক্ষায় দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল। তারা বলছেন, অবিলম্বে প্যারাবন নিধন বন্ধে অভিযান পরিচালনা, জড়িতদের গ্রেফতার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় অচিরেই সোনাদিয়ার এই গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক সম্পদ পুরোপুরি বিলীন হয়ে যেতে পারে।