1. admin@bangladeshkhabarpratidin.com : admin :
সুনামগঞ্জ-বিশ্বম্ভরপুর সড়কে ৮৭ কোটি টাকার কাজে অনিয়মের অভিযোগ,পরিদর্শনে এমপি নুরুল ইসলাম - বাংলাদেশ খবর প্রতিদিন
বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ০৮:১৪ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
বেলকুচিতে প্রশাসনের অভিযানের পরও থামছে না ডাইং কারখানার দূষণ নারীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে মিনি ম্যারাথন প্রতিযোগিতা আয়োজনের লক্ষ্যে প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে আট দফা দাবিতে জাতীয় প্রেসক্লাবে শিক্ষক কর্মচারী ঐক্যজোটের সংবাদ সম্মেলন পাঁচবিবিতে ভারতীয় সিরাপ ও ইয়াবাসহ আটক ৩ পাঁচবিবিতে উচ্চতা ৪ ফুট তবু থেমে নেই জীবনযুদ্ধ ১৬ বছর ধরে পরিশ্রমে সংসার চালান আল-আমিন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে কলকলিয়া ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী আলহাজ্ব মুহিত মিয়ার নির্বাচনী মতবিনিময় সভা  সাতক্ষীরায় যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালিত বাগমারায় সাংবাদিকের ফেসবুক আইডি হ্যাক করে ৪০ হাজার টাকা হাতিয়ে নিল প্রতারক চক্র ​সাতক্ষীরা সীমান্তে অভিনব কায়দা: মলদ্বারে লুকিয়ে পাচারের সময় ১.৫৫ কোটি টাকার স্বর্ণসহ ভারতীয় নাগরিক আটক পাবিপ্রবিতে ডিবেটিং সোসাইটির কমিটি নিয়ে বিতর্ক, আলোচনায় শিবির সভাপতি

সুনামগঞ্জ-বিশ্বম্ভরপুর সড়কে ৮৭ কোটি টাকার কাজে অনিয়মের অভিযোগ,পরিদর্শনে এমপি নুরুল ইসলাম

স্টাফ রিপোর্টার
  • প্রকাশের সময় : বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২৬
  • ৩০ বার পঠিত

স্টাফ রিপোর্টার

সুনামগঞ্জ-কাছিরগাতি-বিশ্বম্ভরপুর সড়কে প্রায় ৮৭ কোটি টাকার উন্নয়ন কাজে ব্যাপক অনিয়ম, নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার ও ধীরগতির অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে স্থানীয় এলাকাবাসীর ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

খবর পেয়ে বুধবার সকালে সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলীসহ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রেস ব্রিফিং করেছেন সুনামগঞ্জ -৪ ( সদর ও বিশ্বম্ভরপুর) আসনের স্থানীয় সংসদ সদস্য এ্যাডভোকেট নুরুল ইসলাম নুরুল। এ সময় কাজের গাফিলতি ও তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা চাঁদা দাবির অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেন তিনি।

এর আগে মঙ্গলবার বিশ্বম্ভরপুর থেকে ফেরার পথে স্থানীয় বাসিন্দারা সংসদ সদস্যের পথ আটকে একটি সেতুর সংযোগ সড়কের গার্ডওয়ালে ত্রুটি ও ফাটল দেখান। পরে বুধবার বেলা ১১টায় সরেজমিন পরিদর্শনে আসার জন্য সুনামগঞ্জ সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলীকে আমন্ত্রণ জানান এমপি। তবে নির্ধারিত সময়ে প্রকৌশলী ও এলাকাবাসী উপস্থিত হলেও ঠিকাদার বা সাব-ঠিকাদার উপস্থিত হননি।

প্রেস ব্রিফিংয়ে সুনামগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য এ্যাডভোকেট নুরুল ইসলাম নুরুল বলেন, “আমার বিরুদ্ধে এক কোটি টাকা চাঁদা দাবির যে অভিযোগ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে দেওয়া হয়েছে, আমি নিজেই এর সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করছি। বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলের মতো সিন্ডিকেট ও মাফিয়া চক্র এখনো অপচেষ্টা চালাচ্ছে। কাজের মান নিশ্চিত করতে গেলে যদি স্ক্যান্ডাল রটিয়ে আমাকে দমিয়ে রাখার চেষ্টা করা হয়, তা সফল হবে না। নিজের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগটিকে উদ্দেশ্যমূলক বানোয়াট ভিত্তিহীন বলে অভিহিত করেন তিনি।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন,সড়ক ও জনপদ উপ বিভাগীয় প্রকৌশলী মোঃ সাজিদুর রহমান,জেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য মোঃ আকবর আলী,মোঃ রেজাউল হক,বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান হারুনুর রশিদ হারুন,বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা বিএনপি নেতা মোঃ আব্দুল হাই,জেলা যুবদলের যুগ্ম আহবায়ক মমিনুল হক কালারচাঁন,সাংগঠনিক সম্পাদক কামরুল হাসান রাজু ও জেলা ছাত্রদল নেতা নাঈম আহমদ শিশির প্রমুখ।

জানা গেছে, ২০২২ সালের বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত সুনামগঞ্জ-হবিগঞ্জ সড়ক বিভাগের বিভিন্ন সড়ক ও কালভার্ট জরুরি পুনর্বাসন প্রকল্পের আওতায় লালপুর-সালামপুর ব্রিজ এবং প্রায় ৫ কিলোমিটার সড়কের সংস্কার ও গার্ডওয়াল নির্মাণে ৮৬ কোটি ৬০ লাখ টাকার কাজ চলছে। কাজটি পেয়েছিলেন ঢাকার গোপালগঞ্জের ঠিকাদার মোঃ বদরুল ইকবাল লিঃ । তবে আওয়ামী লীগ আমলের প্রভাবে শুরুতে এর সাব-ঠিকাদার করা হয় বালিজুড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নেতা আজাদ হোসেনকে।

সাব-ঠিকাদার আজাদ হোসেন জানান, তিনি এই প্রকল্পে তিনি প্রায় ২০ কোটি টাকা পুঁজি বিনিয়োগ করলেও ২০২৪ সালের ৫ ই আগস্টের পর সিলেটের শফিকুল ইসলামকে কাজের দায়িত্ব দেওয়া হয় এবং তার পুঁজি ফেরত দেওয়া হয়নি। বর্তমানে কাজের আধাআধি বিল সড়ক ও ঠিকাদারের লোকজন ভাগাভাগি করে নিচ্ছে এবং প্রধান ঠিকাদার বদরুল ইকবাল দেশ ছেড়েছেন বলে দাবি করেন তিনি। বুধবার সরেজমিনে স্থানীয়রা কাজের মান নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন।

লালপুর গ্রামের বাসিন্দা বাদশা মিয়া অভিযোগ করেন, সড়কের কাজে অত্যন্ত নিম্নমানের ইট,বালি,ভিটবালি ব্যবহার করা হচ্ছে। যেকারণে এর গার্ডওয়াল ধসে পড়ছে। ফসলি জমি কেটে মাটি ফেলায় আগামী বর্ষার আগেই রাস্তা ভেঙে নদীগর্ভে তলিয়ে যাওয়ার শঙ্কা রয়েছে। আরেক বাসিন্দা আরিফ রব্বানী হিমেল বলেন, ইঞ্জিনিয়ারিং নিয়মের ন্যূনতম তোয়াক্কা না করে ‘আর্থ কম্প্যাকশন’ ও ‘মেকাডাম’-এর কাজ তছরুপ করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে ব্রীজের সামনের প্রতিরক্ষা দেয়ালগুলো হেলে পড়তে শুরু করেছে।

এ ব্যাপারে সুনামগঞ্জ সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী জহিরুল ইসলাম জানান, ৮৭ কোটি ৬০ লাখ টাকার এই প্রকল্পের প্রায় অর্ধেক কাজ সম্পন্ন হয়েছে এবং ৩৭ কোটি ২৩ লাখ ৮০ হাজার টাকার বিল পরিশোধ করা হয়েছে। গার্ডওয়াল হেলে পড়ার বিষয়ে তিনি বলেন, “এটি চলমান কাজ, বিষয়টি আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাবো এবং ঠিকাদারকে ভালো কাজের জন্য বারবার সতর্ক করা হয়েছে।” তবে ব্যক্তিগত বা স্থানীয় পাওনা-দেনার বিষয়ে বিভাগ অবগত নয় বলে জানান তিনি।

Facebook Comments Box
এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ
© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৪ বাংলাদেশ খবর প্রতিদিন
প্রযুক্তি সহায়তায় Shakil IT Park