
আব্দুর রাজ্জাক বাবু, সিরাজগঞ্জ:
সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার সলঙ্গায় হাটিকুমরুল সিআরবিসি এলাকায় সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের জায়গায় থাকা এক বৃদ্ধ ও তার প্রতিবন্ধী ছেলের দই-মিষ্টির দোকান লুটপাট ও ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে বিএনপি ও জামায়াতের দুই নেতার বিরুদ্ধে।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, চাঁদা ও দোকান ছেড়ে দেওয়ার দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে তাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছিল।
এরই ধারাবাহিকতায় গত রবিবার ( ৬সেপ্টেম্বর) রাত আনুমানিক সাড়ে ৯টার দিকে জামায়াত নেতা আলী হাসান ও তার বড় ভাই হাটিকুমরুল ইউনিয়নের ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সভাপতি আশরাফুল ইসলাম হাসুর নেতৃত্বে প্রায় ১০০ থেকে ১৫০ জন লোক এসে দোকানটিতে লুটপাট ও ভাঙচুর চালান। এ সময় দোকানের আসবাবপত্র, ঘরের টিনসহ বিভিন্ন মালামাল নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী সলঙ্গা থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
ভুক্তভোগী আব্দুল হাকিমের ছেলে শামীম বলেন, হাটিকুমরুল সিআরবিসি এলাকায় সওজ বিভাগের জায়গায় প্রায় ২২ বছর ধরে তার বাবা ও প্রতিবন্ধী ভাই দই-মিষ্টি ও সিঙ্গারার দোকান চালিয়ে আসছেন। এটিই তাদের পরিবারের একমাত্র উপার্জনের মাধ্যম।
তিনি অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে আলী হাসান ও তার ভাই হাসু দোকানটি ছেড়ে দেওয়ার জন্য চাপ দিয়ে আসছিলেন। তাদের কথায় রাজি না হওয়ায় বিভিন্ন সময়ে তার বাবার কাছে দোকান ভাড়া ও অগ্রিম টাকা দাবি করা হয়। এরই মধ্যে তাদের কাছ থেকে বেশ কিছু টাকা নেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
শামীম আরও বলেন, সওজের ওই এলাকায় অভিযুক্তদেরও কয়েকটি দোকান রয়েছে। আমার বাবা ও প্রতিবন্ধী ভাইয়ের দোকান উচ্ছেদের জন্য সওজের নাম ব্যবহার করে কয়েকবার ভুয়া উকিল নোটিশ পাঠিয়ে জায়গাটি নিজেদের দাবি করা এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ছেড়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। একপর্যায়ে সোমবার রাতে লোকজন নিয়ে এসে দোকানটি ভেঙে মালামাল লুট করে নিয়ে যাওয়া হয়।
শামীম বলেন, সড়ক ও জনপথ বিভাগের প্রয়োজন হলে তারা তাদের জায়গা দখলমুক্ত করতে পারে। কিন্তু বিএনপি নেতা হাসু ও তার ভাই জামায়াত নেতা হাসান আলী ক্ষমতার প্রভাব দেখিয়ে অবৈধভাবে দোকান ভেঙে আমাদেরকে পথে বসিয়ে দিয়েছেন। আমি এ ঘটনার বিচার ও ক্ষতিপূরণ চাই।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, সওজের জায়গায় ওই এলাকায় আরও অনেক দোকান রয়েছে। তবে একজন বৃদ্ধ ও তার প্রতিবন্ধী ছেলের দোকান এভাবে ভেঙে দেওয়া মানবিক হয়নি। তারা ঘটনার তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি ভুক্তভোগী পরিবারকে ন্যায়বিচার দেওয়ার জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি করেন।
অভিযোগের বিষয়ে জামায়াত নেতা আলী হাসানের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, শুধু আমরা এই উচ্ছেদ করিনি। কয়েক গ্রামের মানুষের গণস্বাক্ষর নিয়ে সড়ক ও জনপথ বিভাগে লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পর ওই জায়গা দখলমুক্ত করা হয়েছে।
সওজ বিভাগ থেকে উচ্ছেদের লিখিত অনুমতি নেওয়া হয়েছিল কি না—এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, অনুমতি লাগবে না। এটা জনগণ ২৪ এর গণঅভ্যুত্থানের ধারাবাহিকতা অবৈধ দখলমুক্ত করেছে, নির্বাচিত গণত্রান্ত্রিক সরকার রয়েছে জানতে চাইলে এ বিষয়ে বিস্তারিত কথা বলতে রাজি হননি।
সলঙ্গা সিআরবিসি এলাকায় সড়ক ও জনপথ (সওজ)এর জায়গায় দোকান লুট ভাংচুর বিষয়ে জানতে চাইলে সলঙ্গা থানা অফিসার ইনচার্জ আসলাম আলী বলেন, লিখিত অভিযোগ পেয়েছি, আদলতের একটি অনুমতি এসেছে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রায়গঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. সাইফুল ইসলাম খানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, এ বিষয়ে সলঙ্গা থানায় অভিযোগ হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।