
একেএম মাহমুদ রিয়াজ,লক্ষ্মীপুর
রামগতিতে হাত-পা বেঁধে ১৪ বছর বয়সী এক কিশোরীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় রাজু (১৮) ও শরীফ (২৪) নামের দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
শুক্রবার (১৩ জুন) ভোরে অভিযুক্ত শরীফকে উপজেলার চরগাজী ইউনিয়নের দক্ষিণ টুমচর গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে ও দুপুর একটার দিকে এ মামলার প্রধান আসামি রাজুকে একই এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এর আগে মেয়েকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে ভুক্তভোগী কিশোরীর মা বাদি হয়ে চারজনকে আসামি করে রামগতি থানায় একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন।
জানা যায়, ভুক্তভোগী কিশোরী ও অভিযুক্তরা চরগাজী ইউনিয়নের দক্ষিণ টুমচর গ্রামের বাসিন্দা।
গত বুধবার (১১ জুন) সকালে বাড়ির পাশে একটি ছাড়া বাড়িতে ছাগল বেঁধে এসেছিলেন ওই কিশোরী। দুপুর একটার দিকে ছাগলটি আনতে গেলে জুয়েল (১৮), আজাদ (১৭), রাজু (১৮) ও শরীফ (২৪) তার হাত-পাঁ বেঁধে তাকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ করেন। পরে মেয়েটির চিৎকার শুনে স্থানীয়রা ছুটে আসলে অভিযুক্তরা পালিয়ে যায়।
পরবর্তীতে এ ঘটনা কাউকে না জানাতে ভুক্তভোগীর পরিবারকে নানা হুমকি ধমকি দেয় অভিযুক্তরা।
এ দিকে ঘটনাটি মীমাংসা করার কথা বলে ভুক্তভোগী কিশোরীর পরিবারকে ১০ হাজার টাকা দিতে চাপ প্রয়োগ করেন স্থানীয় কৃষকদল নেতা আব্দুর রহমান ও সাহাব উদ্দীন।
চরগাজী ইউনিয়নের তিন নম্বর ওয়ার্ড কৃষক দলের সভাপতি আব্দুর রহমান বলেন, আমি ঘটনাটি শুনার পর মীমাংসা করার জন্য দায়িত্ব নিই।এজন্য পুলিশকে জানানো হয়নি।
ধর্ষণের বিচার আপনি করার এখতিয়ার রাখেন কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, করলে সমস্যা কি? আমরা এরকম আরো করেছি। কোন সমস্যা হবে না।
বিষয়টি জানাজানি হলে গত বৃহস্পতিবার (১২ জুন) রাতে ভুক্তভোগী কিশোরী ও তার পরিবারকে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ। পরে এ ঘটনায় কিশোরীর মা বাদী হয়ে চারজনকে আসামি করে রামগতি থানায় ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন।
অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রামগতি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কবির হোসেন। তিনি বলেন, গ্রেপ্তাররা ধর্ষণের ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। এ মামলা বাকি দুই আসামিকেও খুব দ্রুত গ্রেপ্তার করা হবে। এ ব্যাপারে পুলিশ কাজ করছে।