1. admin@bangladeshkhabarpratidin.com : admin :
মুসলিম হয়ে সামাজিক কাজ করা আর জন্মাষ্টমী পালন করা এক নয়: উস্তাদ সুলতান নাঈম - বাংলাদেশ খবর প্রতিদিন
বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ০৪:৩৩ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
নারীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে মিনি ম্যারাথন প্রতিযোগিতা আয়োজনের লক্ষ্যে প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে আট দফা দাবিতে জাতীয় প্রেসক্লাবে শিক্ষক কর্মচারী ঐক্যজোটের সংবাদ সম্মেলন পাঁচবিবিতে ভারতীয় সিরাপ ও ইয়াবাসহ আটক ৩ পাঁচবিবিতে উচ্চতা ৪ ফুট তবু থেমে নেই জীবনযুদ্ধ ১৬ বছর ধরে পরিশ্রমে সংসার চালান আল-আমিন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে কলকলিয়া ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী আলহাজ্ব মুহিত মিয়ার নির্বাচনী মতবিনিময় সভা  সাতক্ষীরায় যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালিত বাগমারায় সাংবাদিকের ফেসবুক আইডি হ্যাক করে ৪০ হাজার টাকা হাতিয়ে নিল প্রতারক চক্র ​সাতক্ষীরা সীমান্তে অভিনব কায়দা: মলদ্বারে লুকিয়ে পাচারের সময় ১.৫৫ কোটি টাকার স্বর্ণসহ ভারতীয় নাগরিক আটক পাবিপ্রবিতে ডিবেটিং সোসাইটির কমিটি নিয়ে বিতর্ক, আলোচনায় শিবির সভাপতি ​সাতক্ষীরায় ছাত্রশিবিরের ২০২৭ সালের ইংরেজি নববর্ষ প্রকাশনার উদ্বোধন।

মুসলিম হয়ে সামাজিক কাজ করা আর জন্মাষ্টমী পালন করা এক নয়: উস্তাদ সুলতান নাঈম

মো ইয়াকুব আলী তালুকদার স্টাফ রিপোর্টার, গাজীপুর।
  • প্রকাশের সময় : রবিবার, ১৭ আগস্ট, ২০২৫
  • ২৪২ বার পঠিত

 

মো ইয়াকুব আলী তালুকদার
স্টাফ রিপোর্টার, গাজীপুর।

গতকাল হিন্দু সম্প্রদায়ের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব জন্মাষ্টমী বা কৃষ্ণাষ্টমী পালিত হচ্ছে। এই উপলক্ষে অনেক মুসলমানকে তাদের হিন্দু বন্ধু, প্রতিবেশী বা সহকর্মীদের শুভেচ্ছা জানাতে দেখা যাচ্ছে। কেউ কেউ আবার উৎসবে অংশগ্রহণ করতেও যাচ্ছেন। এটা দেখে মনে হতে পারে যে এটি একটি সামাজিক শিষ্টাচার বা আন্তঃধর্মীয় সম্প্রীতির নিদর্শন। কিন্তু ইসলামী দৃষ্টিকোণ থেকে এই বিষয়টি গভীরভাবে বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন।

ইসলামে আল্লাহর সাথে শরীক করা বা শিরক হলো সবচেয়ে বড় অপরাধ। কুরআনে কারীমে আল্লাহ তাআলা স্পষ্টভাবে বলেছেন, **”নিশ্চয়ই আল্লাহ তাকে ক্ষমা করবেন না, যে তাঁর সাথে শরীক করে। তবে এর নিচের যেসব অপরাধ আছে, সেগুলো যাকে ইচ্ছা তিনি ক্ষমা করবেন।”** (সূরা আন-নিসা, ৪:৪৮)। শিরক এমন একটি পাপ যা যদি কোনো ব্যক্তির আমলে থেকে যায়, তবে তার সমস্ত নেক আমল বিনষ্ট হয়ে যেতে পারে।

এখন প্রশ্ন হলো, যখন কোনো মুসলিম একজন মুশরিককে তার শিরকমূলক কর্মকাণ্ডের জন্য শুভেচ্ছা জানায় বা তার উৎসবে অংশগ্রহণ করে, তখন সে কি পরোক্ষভাবে সেই শিরককে স্বীকৃতি দেয় না? একজন খুনি বা ধর্ষককে তার অপরাধের জন্য কেউ অভিনন্দন দেয় না, কিন্তু শিরকের মতো মহাপাপকে যখন কেউ সমর্থন করে, তখন তা কতটা ভয়াবহ হতে পারে?

ইসলাম অমুসলিমদের সাথে সদাচরণ, ন্যায়বিচার ও মানবিক সম্পর্ক বজায় রাখতে বলে। কিন্তু ধর্মীয় অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ বা শিরকমূলক কাজে সমর্থন দেওয়ার অনুমতি দেয় না। রাসূলুল্লাহ (সা.) মক্কায় কাফিরদের অনুরোধ সত্ত্বেও তাদের উৎসবে যোগ দেননি। বরং তিনি বলেছেন, **”যে ব্যক্তি কোনো সম্প্রদায়ের সাথে সাদৃশ্য রাখবে, সে তাদের দলভুক্ত বলে গণ্য হবে।”** (আবু দাউদ)।

অনেকে মনে করেন, শুভেচ্ছা জানানো বা উৎসবে যোগ দেওয়া সামাজিকতা মাত্র। কিন্তু ইসলামে ঈমানের দাবি হলো—আল্লাহর সন্তুষ্টিকে সব কিছুর ঊর্ধ্বে রাখা। যদি সামাজিকতা ঈমানের সাথে সাংঘর্ষিক হয়, তবে একজন মুসলিমের জন্য আল্লাহর হুকুমই অগ্রাধিকার পাবে। অমুসলিমরা তাদের ধর্ম পালন করবে, এটা তাদের ব্যাপার। কিন্তু একজন মুসলিম হিসেবে আমাদের দায়িত্ব হলো তাওহীদের চেতনা অক্ষুণ্ণ রাখা এবং শিরক থেকে দূরে থাকা।

বর্তমান সময়ে অনেক মুসলিম ধর্মীয় সচেতনতা হারিয়ে ফেলেছেন। তারা ভাবেন, শুভেচ্ছা বিনিময় বা উৎসব উদযাপন একটি সাধারণ বিষয়। কিন্তু ইসলামের শিক্ষা হলো—আল্লাহর দেওয়া সীমানা রক্ষা করা। আমরা অমুসলিমদের সাথে সুসম্পর্ক রাখব, তাদের অধিকার দেব, অন্যায় করব না, কিন্তু তাদের ধর্মীয় রীতিনীতিতে জড়াব না। কারণ ঈমানের দাবি হলো—আল্লাহর জন্য ভালোবাসা ও তাঁর জন্য ঘৃণা করা।

সুতরাং, জন্মাষ্টমীর মতো উৎসবে শুভেচ্ছা জানানো বা অংশগ্রহণ করা ইসলামী আকিদার পরিপন্থী। এটি শুধু একটি সামাজিক কাজ নয়, বরং এটি একটি ধর্মীয় সীমালঙ্ঘন। একজন মুসলিম হিসেবে আমাদের কর্তব্য হলো দ্বীনের সঠিক জ্ঞান অর্জন করা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির পথে অবিচল থাকা। আমরা অমুসলিমদের প্রতি সুন্দর আচরণ করব, কিন্তু তাদের ধর্মীয় কর্মকাণ্ডে সম্মতি দেব না। কারণ ঈমানের মূল ভিত্তিই হলো—লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ।

Facebook Comments Box
এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ
© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৪ বাংলাদেশ খবর প্রতিদিন
প্রযুক্তি সহায়তায় Shakil IT Park