
আব্দুর রাজ্জাক বাবু,বেলকুচি সিরাজগঞ্জ:
সিরাজগঞ্জের বেলকুচি উপজেলার ধুকুরিয়াবেড়া ইউনিয়নের ১২২ নম্বর চরঘুঘাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সরকারি জমি দখল করে বসতঘর ও গোয়ালঘর নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ফরহাদ আলীর বিরুদ্ধে দখলদারদের সহযোগিতা করার অভিযোগ করেছেন স্থানীয় এলাকাবাসী। তাঁরা বিদ্যালয়ের জমি দখলমুক্ত করার পাশাপাশি অভিযোগ তদন্ত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিদ্যালয়টি ১৯৯০ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। সেই সময় মিজানুর রহমান, হারিবুর রহমান ও ইসমাইল হোসেন (ফিরোজ) গংদের কাছে ৩৩ শতাংশ জমি চরঘুঘাট সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নামে ক্রয় করা হয়, দীর্ঘ ৩৫ বছর অতিবাহিত হলেও বিদ্যালয়ের জায়গা বুঝিয়ে দিতে অস্বীকৃতী জানান তারা। বিষয়টি বিদ্যালয়ের সাবেক ম্যানেজিং কমিটি এবং এলাকার সচেতন ব্যক্তিরা জমি দাতাদের স্কুলের জায়গা পরিমাপ করে বুঝিয়ে দেওয়ার কথা বার বার বলা সত্বেও তারা দিতে অস্বীকৃতি জানান।
এ বিষয়ে ১৩ অক্টোবর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে একটি লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।
অভিযোগসূত্রে উল্লেখ করা হয়, বিদ্যালয়ের সরকারি মালিকানাধীন জমির পুর্ব পাশে বেশ কিছু জায়গা অবৈধভাবে দখল করে বাড়ির প্রাচীর ও স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে। এতে বিদ্যালয়ের পরিবেশ নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি কোমলমতি শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক শিক্ষার পরিবেশ ও শারীরিক স্বাস্থ্যের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়ছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ফরহাদ আলী দখলদারদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ না নিয়ে তাঁদের সহযোগিতা করছেন। এ বিষয়ে অভিভাবক ও এলাকাবাসী তাকে জানানোর পরও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগকারীদের দাবি।
লিখিত অভিযোগে মিজানুর রহমান, হারিবুর রহমান ও ইসমাইল হোসেন (ফিরোজ) নামের তিন ব্যক্তির বিরুদ্ধে বিদ্যালয়ের জমি দখলের অভিযোগ আনা হয়েছে।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নাহিদা ইয়াসমিন বলেন, চরঘুঘাট প্রাথমিক বিদ্যালয়ে জায়গা যে বেদখল আছে প্রধান শিক্ষক এত দিন পর্যন্ত আমাদের জানায়নি। যখন কমিটি নিয়ে দু’পক্ষের ঝামেলা হলো তখন আমরা জানতে পারলাম এক পক্ষর কাছ থেকে জমি বেদখল আছে। আমরা সরজমিনে যাবো দেখবো জায়গা ঠিক আছে কিনা তারপর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আফরিন জাহান বলেন, চরঘুঘাট প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জায়গা দখল করে স্থাপনা করেছে এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। সহকারী কমিশনার ভূমিকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।