
সুমন চন্দ্র দে, মহেশখালী (কক্সবাজার) প্রতিনিধি
মহেশখালীর মাতারবাড়ী ইউনিয়নের উদীয়মান লেগ স্পিনার নোমান ইবনে জামাল বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) আয়োজিত ‘রিস্ট স্পিনার স্কিল ক্যাম্প ২০২৫’ এর চূড়ান্ত তালিকায় জায়গা করে নিয়েছেন। দেশের শীর্ষ ২০ জন রিস্ট স্পিনারের মধ্যে নির্বাচিত হয়ে এই ক্যাম্পে অংশগ্রহণের সুযোগ পাওয়া নিঃসন্দেহে নোমানের ক্যারিয়ারের এক গর্বজনক মাইলফলক।
নোমান এর আগে বিসিবির আয়োজিত সব রিস্ট স্পিনার ক্যাম্পে অংশ নিয়ে প্রশংসনীয় পারফরম্যান্স প্রদর্শন করেছেন। তার এই ধারাবাহিকতা এবং পরিশ্রমের ফলস্বরূপ এবার তিনি তৃতীয়বারের মতো এই মর্যাদাপূর্ণ ক্যাম্পে ডাক পেয়েছেন। উল্লেখ্য এই বারের ক্যাম্পটি রিস্ট স্পিনারদের জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ।
বিসিবির গেম ডেভেলপমেন্ট বিভাগের তত্ত্বাবধানে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পরিচালিত অনুসন্ধান ও পর্যবেক্ষণ কার্যক্রমের মাধ্যমে হাজারো সম্ভাবনাময় রিস্ট স্পিনারের মধ্যে থেকে ১৩ মে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত করা হয় ২০ জনকে। সেখান থেকেই প্রকাশিত তালিকায় স্থান পেয়েছেন নোমান। তিনি চট্টগ্রাম বিভাগ থেকে “LACM” (Legbreak and Googly with Control and Mastery) বিভাগে প্রতিনিধিত্ব করবেন।
এই বিশেষ স্কিল ক্যাম্পটি ১৬ মে থেকে ২৯ মে ২০২৫ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে ঢাকার সাভারে অবস্থিত বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (বিকেএসপি)-তে। দুই সপ্তাহব্যাপী এই ক্যাম্পে অংশগ্রহণকারীরা আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণ ও মূল্যায়নের সুযোগ পাবেন।
ক্যাম্পের মূল কার্যক্রমসমূহের মধ্যে রয়েছে: ফিজিক্যাল ট্রেনিং (জিম ও মাঠে) ট্যাকটিক্যাল ও মানসিক দৃঢ়তা গঠন, ম্যাচ-ভিত্তিক অনুশীলন, ভিডিও অ্যানালাইসিস, ক্লাসরুম লেকচার, ফিল্ডিং সেশন, ব্যক্তিগত মূল্যায়ন ও হোমওয়ার্ক সহ নানান সুযোগ সুবিধা।
এই ক্যাম্প পরিচালনা করছেন পাকিস্তানি লেগ স্পিন কোচ শাহেদ মোহাম্মদ। লক্ষ্য—বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ লেগ স্পিনারদের আন্তর্জাতিক পর্যায়ের জন্য প্রস্তুত করা, যারা একদিন জাতীয় দলে প্রতিনিধিত্ব করতে পারবেন।
নোমান ইতোমধ্যেই নিজ এলাকায় একজন সম্ভাবনাময় ক্রিকেটার হিসেবে পরিচিত। জাতীয় পর্যায়ের এই সুযোগ তাকে আরও বড় পরিসরে নিজেকে প্রমাণ করার মঞ্চ এনে দিয়েছে। এটি কেবলমাত্র তার প্রশিক্ষণের ক্ষেত্র নয়, বরং দেশের ক্রিকেটে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখার সম্ভাবনার একটি দরজা।
বিসিবির এই উদ্যোগ দেশের রিস্ট স্পিনার সংকট কাটিয়ে উঠতে ভূমিকা রাখবে বলে আশা করছেন ক্রিকেট সংশ্লিষ্টরা। আর নোমান ইবনে জামাল যদি তার মনোযোগ, আত্মবিশ্বাস ও পরিশ্রম ধরে রাখতে পারেন, তবে তিনি হতে পারেন চট্টগ্রাম বিভাগের গর্ব—এবং একদিন, গোটা বাংলাদেশেরও।