
মহেশখালীতে দুর্বৃত্তদের গুলিতে এক যুবক নিহত হয়েছেন। মৃত্যুর আগে পুলিশের কাছে জবানবন্দি দিয়েছেন ওই যুবক। তার ভাষ্যমতে, তিন বন্ধু তাকে গুলি করে পালিয়ে যান।
সোমবার (৫ মে) দিনগত রাত ৩টার দিকে মহেশখালী উপজেলার কালারমারছড়া ইউনিয়নের মারাক্কা ঘোনা এলাকায় তাকে গুলি করা হয়। পরে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে নেওয়ার পর মঙ্গলবার (০৬ মে) ভোর ৬টার দিকে তিনি মারা যান বলে জানিয়েছেন নিহতের বড় ভাই উকিল আহমদ।
নিহত রফিকুল ইসলাম মামুন (৩০) কালারমারছড়া ইউনিয়নের ছামিরাঘোনা এলাকার মনজুর আলমের ওরফে রসুর ছেলে। তার বিরুদ্ধে হত্যাসহ অন্তত ১১টি মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
প্রত্যক্ষদর্শী স্থানীয় গাড়িচালক নাজেম উদ্দিন জানান, রাতে ঝাপুয়া হয়ে বাড়ি ফেরার পথে তিনি ডাক্তার কাইছারের দোকানের সামনে এক যুবককে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। তখনও তার দেহে প্রাণ ছিল বলে মনে হয়েছিল। পরে পুলিশকে খবর দিলে দ্রুত ঘটনাস্থলে যায় তারা। কে বা কারা গুলি করেছে সে বিষয়ে কিছু বলতে পারেননি নাজেম। তবে আশপাশে থাকা লোকজন আতঙ্কে কিছু বলতে রাজি হয়নি।
নিহতের বড় ভাই উকিল আহমদ জানান, চার দিন আগে একটি মামলায় আদালতে হাজিরা দিতে তার ভাই কক্সবাজারে যান। সেখান থেকে সোমবার রাতে বাড়ি ফেরার পথে স্থানীয় কিছু লোক পরিকল্পিতভাবে তার ভাইকে গুলি করেছেন।
তিনি আরও জানান, একই ব্যক্তিরা পাঁচ বছর আগে তার বাবাকেও হত্যা করেন। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করে মামুনকে প্রথমে পার্শ্ববর্তী চকরিয়া উপজেলার বদরখালী জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে সেখান থেকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পর মারা যান রফিকুল ইসলাম মামুন।
বদরখালী জেনারেল হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. মোহাম্মদ রাকিবুল হোছাইন বলেন, গুলিতে রফিকুল ইসলামের যকৃৎ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য চমেক হাসপাতালে পাঠানো হয়।
মহেশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ কাইছার বলেন, নিহত রফিকুল ইসলাম মামুনের মৃত্যুর আগে বদরখালী জেনারেল হাসপাতালে পুলিশের কাছে ঘটনার বিষয়ে জবানবন্দি দিয়েছেন। তার ভাষ্য ছিল, তিন বন্ধুসহ একটি অটোরিকশায় করে নিজ এলাকায় ফিরছিলেন মামুন। পথে তাকে গাড়ি থেকে নামিয়ে দিয়ে গুলি করে ওই বন্ধুরা পালিয়ে যান।