
দুর্নীতির পর্ব-১
স্টাফ রিপোর্টার লক্ষ্মীপুর। লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার লাহারকান্দি উচ্চ বিদ্যালয় এর প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম এর বিরুদ্ধে বিদ্যালয় এর অর্থ আত্মসাৎ সহ নানান অনিয়মের গুরুতর অভিযোগ ফেসবুকে ঘুরপাক খাচ্ছে। বিভিন্ন পোস্টের প্রেক্ষিতে অনুসন্ধান করে জানা যায় গত ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর মাসে লাহারকান্দি উচ্চ বিদ্যালয় এর প্রধান শিক্ষক জাহাঙ্গীর আলম এ রব উচ্চ বিদ্যালয় থেকে বিভিন্ন অভিযোগে অভিযুক্ত হয়ে লাহারকান্দি উচ্চ বিদ্যালয়ে আওয়ামী ফ্যাসিস্টদের ছত্রছায়ায় যোগদান করেন। যোগদানের পরপরই ম্যানেজিং কমিটির সাথে নিবিড় সম্পর্ক প্রতিষ্ঠিত করেন। আর সেই সুবাদে বিদ্যালয় এর দান, অনুদান বিদ্যালয় এর নিজস্ব জায়গা বিক্রয়লদ্ধ অর্থ সেশন ফি ভর্তি ফি সার্ভিস চার্জ সহ লক্ষ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ করেন । সন্ধানে জানা যায় স্কুল ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি সাবেক পৌর মেয়র জনাব মাসুম ভূঁইয়া অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য এক লক্ষ টাকা প্রদান করলেও তা আজ অবধি প্রতিষ্ঠানের ক্যাশবুকে যুক্ত হয়নি। বিদ্যালয়ের নিজস্ব জমি বিক্রয়ের দুই লক্ষাধিক টাকা প্রতিষ্ঠানের নামে জমা হয়নি। এসএসসি ২০২৪ এ ৬১ জন শিক্ষার্থীর ফরম ফিলাপ বাবদ এক লক্ষ চার হাজারপাঁচশত টাকা বোর্ড ব্যাংক একাউন্ট থেকে কেটে নিলেও তিনি ভাউচারের মাধ্যমে স্কুল ফান্ড থেকে সে টাকা নিজের পকেটস্থ করেন । একই বিল তিনি বারবার ভাউচারের মাধ্যমে উত্তোলন করেন। উপবৃত্তির ছাত্রছাত্রীরা স্কুলে বেতন পরিশোধ করার বিধান না থাকলেও তিনি ভূয়া রেজুলেশন করে প্রায় ২০০শতাধিক শিক্ষার্থীর কাছ থেকে সার্ভিস চার্জ আদায় করেন। গত ২৬ শে জুন বিদ্যালয়ের একজন প্রাক্তন ছাত্র সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেন জনাব জাহাঙ্গীর আলম দুর্নীতিবাজ আওয়ামী লীগের দোসর কিশোর গ্যাসের সহযোগিতায় নিয়োগ প্রাপ্ত হন এবং স্কুলের ফান্ডে অর্থনৈতিক গড়মিলের কথা উল্লেখ করেন সেই সূত্র ধরেই আমাদের এই প্রতিবেদন। অন্য আরেকজন ফেসবুকে একই রকম আরেকটি স্ট্যাটাস দেন। বিষয়টি ধীরে ধীরে যখন ভারী হতে থাকে তখন প্রধান শিক্ষক নিজকে বাঁচানোর জন্য বিদ্যালয়ের তিনজন সিনিয়র শিক্ষকের মাধ্যমে তথাকথিত অডিটের ব্যবস্থা করেন। সেই অডিটে বেরিয়ে আসে থলের বিএয়াল।গত মে ২০২৪ সালে চর বশু থেকে দুই লক্ষ টাকা এবং মেয়র মাসুম ভূঁইয়ার নিকট থেকে প্রাপ্ত 2 লক্ষ 50 হাজার টাকা ক্যাশবুকে জমা হয়নি। গত ১৩ ৭ ২০২৫ তারিখে সুনির্দিষ্ট বাউচার না দেখাতে পাড়াই ৫৬ হাজার ৮০০ টাকা আসিফ ইকবাল শরীফ দায়ী স্বীকার করেন। অন্যদিকে আসিফ ইকবাল শরীফ মুঠোফোনে জানান এর দিগুন টাকা প্রধান শিক্ষক তার নিকট থেকে নিয়ে ব্যাংকে জমা করে দিয়েছেন। ভাউচার নং ৫৩ তারিখ ১৯/০৯-২০২৪ ইং টাকার পরিমান 7992 আরেকটি ভাউচার নং ৫৪ তারিখ ৩০-০৯-২০২৪ ইং টাকার পরিমান দশ হাজার দুইশত নিরানব্বই টাকা আরেকটি ভাউচার নং ৯৭ তারিখ২৬/১১/২০২৪ টাকা ২৪ হাজার ৫৩০ মোট ৪২৮২১ আত্মসাৎ এর কথা প্রধান শিক্ষক শিকার করেন অডিট কমিটির নিকট। গত ২৪-৭-২০২৫ তারিখে খোদ প্রধান শিক্ষক জাঙ্গীর আলম এক লক্ষ ৪৫০০ টাকার বিষয়ে জানেন না বলে তিনি বিদ্যালয়টির অফিস সহকারী আসিফ ইকবালকে দোষারোপ করেন। অথচ ভাউচার নং ১২৫ প্রধান শিক্ষক স্বাক্ষরিত ২০/১/২৫ এক লক্ষ ৪৫০০ টাকার টাকার একটি ভাউচার ইতিমধ্যে আমাদের অফিসে এসে পৌঁছেছে। শুধু তাই নয় তিনি ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির 15 টির মত ব্ল্যাংক চেকে স্বাক্ষর করিয়ে নেন। ইতিমধ্যে ইসলামী ব্যাংকের একটি স্টেটমেন্টে আমরা দেখতে পাই সেখানে সভাপতিির স্বাক্ষরিত চেক mcq 04986861 থেকে65 পর্যন্ত চেক ব্যবহার করা হলেও ৬২ নং চেকটি ব্যবহৃত হয়নি ব্যাংকে। যা চেক বইয়ের সাথে সংযুক্ত নেই বা কোন কাজে ব্যবহৃত হয়েছে তাহা ও লিপিবদ্ধ নেই । অডিট টিমের দুইজন সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে দুজন শিক্ষক জানান হিসেবে যথেষ্ট গড়মিল রয়েছে। অবশেষে তিনি টাকা দিতে স্বীকার করেন। বিস্তারিত নিয়ে আসছি দ্বিতীয় পর্বে অপেক্ষায় থাকুন চোখ রাখুন।