
সম্পর্কের ভিত তৈরি হয় বিশ্বাস ও ভালোবাসার বন্ধনে। কিন্তু সেই বিশ্বাসেই যখন আঘাত লাগে, তখন সম্পর্ক বা সংসার তাসের ঘরের মতো ভাঙে। একে অপরের ওপর থেকে বিশ্বাস চলে যায়। মন খারাপ হতে থাকে। কী করা উচিত তখন, সেসব কোনো কিছুই যেন মাথায় আসে না।
এ রকম পরিস্থিতির মুখে অনেকেই পড়েছেন। অনেক নারীই এ অভিজ্ঞতার কথা শেয়ার করেছেন যে, তাদের স্বামী হয়তো জীবনের কোনো না কোনো সময়ে তাদের ঠকিয়েছেন। আবার এটাও হয়েছে যে, নারীরাই হয়তো পরকীয়া করেছেন।
১০ বছরের দাম্পত্য জীবনের ইতি টানলেন ছোট কাশিপুরের সেলুন কর্মচারী প্রসাদ দাসের। তবে প্রসাদ রেনুকার ডিভোর্সের কারণ কী?
উঠে আসছে বটিয়াঘাটার সুকান্ত ঘোষের নাম। একাধিক নারী কেলেঙ্কারির অভিযোগে উঠেছে এই সুকান্ত নামে। পারিবারিকভাবে পরিচয়য়ের কারণেই নাকি বেশ কিছু দিন ধরে পরকীয়া সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন রেনুকা দাস।
রেনুকার স্বামী প্রসাদ দাস জানান, প্রায় ১০ বছর আগে তিনি মনিরামপুর উপজেলার খানপুর (ঋষিপাড়া) গ্রামের পরিমল দাসের মেয়ে রেনুকা দাসের সঙ্গে বিয়ে করেন। তাদের একটি ছেলে সন্তান আছে। পূর্ব পরিচিত হওয়ার কারনে প্রসাদ দাসের মুদির দোকানে মালামাল তুলে দেওয়ার সুবাদে পারিবারিকভাবে ঘনিষ্ঠতা সূত্রে তাঁর বাড়িতে আসেন। এরপর থেকে সুকান্তোর সঙ্গে তাঁর স্ত্রীর পরকীয়ার সম্পর্ক তৈরি হয়। বিষয়টি নিয়ে মনোমালিন্য হলে স্ত্রী বাবার বাড়িতে চলে যান।
সেখান থেকে কিছু দিন আগে পোস্ট অফিসের মাধ্যমে প্রসাদের কাছে ডিভোর্স লেটার পাঠায় রেনুকা। তবে প্রসাদ ডিভোর্স লেটারটি গ্রহণ করেননি। পরে প্রসাদ শ্বশুরবাড়িতে রেনুকাকে নিতে যান। কিন্তু রেনুকা আসতে অস্বীকৃতি জানাই।
প্রসাদ দাস বলেন, ‘আমার কাছে সে একাধিকবার বলেছে, ‘‘আমি (রেনুকা) সুকান্ত ঘোষকে ভালোবাসি, আমি তাঁকে বিয়ে করব। সুকান্ত আমাকে বাড়িতে রাখবে।’ ’ এরপর সে আমাকে ডিভোর্স লেটারও পাঠিয়েছে। কিন্তু আমি নিইনি। আমিতো ওকে ১০ বছর ধরে ভালোবাসি। এছাড়া আমাদের একটা পুত্র সন্তানও আছে। বলেই হাউমাউ করে কেঁদে ওঠেন প্রসাদ।
স্থানীয়রা বলেন, প্রসাদ নিরীহ ছেলে। পাটকেলঘাটা কালীবাড়ি রোডে একটি সেলুনের দোকান চালায়। সুকান্ত ঘোষ ওদের সংসারটা শেষ করে দিল। খানপুর (রেনুকার বাবার বাড়ি) সাধারণ মানুষের কাছে সুকান্ত ঘোষের সঙ্গে ওই নারীর পরকীয়ার বিষয়টি ওপেন-সিক্রেট। এমনকি উভয় গ্রামের লোকজন, রেনুকাকে বিয়ে করেছেন। তবে এ বিষয়ে কেউ প্রকাশ্যে কথা বলতে রাজি হননি।
প্রতিবেশীরা বলেন, সুকান্ত ঘোষ খানপুরে আসা-যাওয়া করেন এবং এই পরিবারের সঙ্গে তাদের নিয়মিত যোগাযোগ আছে। রেনুকার সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রেখে আর্থিকভাবে খরচ বহন করে যাচ্ছেন সুকান্ত ঘোষ। এছাড়াও রেনুকার মাকে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে লেনদেনের কথা বলে রেনুকাকে ভোগ করে আসছে।
সূত্রটি আরও জানায়, সুকান্তের প্রথম স্ত্রীর ঘরে দুটি সন্তান রয়েছে। তবে প্রথম স্ত্রী অসুন্দরী হওয়ার সুবাদে সুকান্ত বিভিন্ন নারীকে প্রলোভনে দেখিয়ে পরকীয়া করে আসছিলেন। রেনুকার বিয়ে করে খুলনায় রাখার প্রলোভন দেখিয়ে পরকীয়ার সম্পর্ক গড়ে তোলেন। এমনকি বটিয়াঘাটায় এই সুকান্তর অত্যাচারে পারিবারিকহলের জেরে পরিতোষ (ছদ্মনাম) আত্মহত্যা করেছেন এক ব্যাক্তি।
এ বিষয়ে সুকান্ত ঘোষের মোবাইল নম্বরে একাধিকবার কল করা হলে তিনি এ বিষয়ে কোন কথা বলতে অস্বীকৃতি জানান।
এগুলোই কি সম্পর্ক ভাঙার অনুঘটক? নেপথ্যে এই কারণই কী? উত্তর অজানা।