
এ কে এম বাদরুল আলম,চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার চরবাগডাঙ্গা ইউনিয়নের এক সময়ের রাজমিস্ত্রী হেল্পার মোঃ আনোয়ার আলি হঠাৎ করেই অস্বাভাবিকভাবে আর্থিকভাবে ফুলেফেঁপে উঠেছেন। দুই বছর আগেও যিনি দিন আনা দিন খাওয়া করতেন, আজ তিনি বিলাসবহুল গাড়ির মালিক, নিজস্ব পাকা বাড়ি নির্মাণ করেছেন, এমনকি শহরে জমিও কিনেছেন বলে জানা গেছে।
স্থানীয় এক বাসিন্দা জানান, “দুই বছর আগে তার পরিবার চালাতে কষ্ট হতো। হঠাৎ দেখি সে দামি গাড়ি চালায়, বড় বাড়ি বানায়। শুনেছি শহরে জমিও কিনেছে।”
আরও একজন এলাকাবাসী বলেন, “আগে রাজমিস্ত্রির কাজ করতেন। এখন দেখি সপ্তাহে একাধিকবার ঢাকা থেকে আসেন-যান, এলাকার লোকজনকে নিয়ে বড় বড় পিকনিক দেন। প্রশ্ন জাগে—রাজমিস্ত্রির হেল্পার হয়ে এত টাকার উৎস কোথায়?”
সরেজমিনে অনুসন্ধানে জানা যায়, আনোয়ার আলির এই উত্থানের পেছনে রয়েছে মাদক ব্যবসার সুসম্পর্ক ও সংশ্লিষ্টতা। স্থানীয়দের দাবি, তিনি চাঁপাইনবাবগঞ্জের মাদক সিন্ডিকেটের একজন সক্রিয় সদস্য। তার বিলাসবহুল জীবনধারার পেছনে মাদকের টাকাই মূল উৎস।
তিনি বর্তমানে প্রায় ৩০ লাখ টাকা মূল্যের একটি গাড়ি এবং ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা দামের একটি মোটরসাইকেলের মালিক। অথচ, তার অতীত পরিচয় ছিল একজন সাধারণ রাজমিস্ত্রির সহকারী হিসেবে।
মাদক একটি ভয়াবহ সামাজিক ব্যাধি। বর্তমানে মাদকের বিস্তার শহর ছাড়িয়ে গ্রামাঞ্চলেও ছড়িয়ে পড়েছে। জাতীয়ভাবে মাদকাসক্তদের সংখ্যা ৭০ লাখ ছাড়িয়েছে, যার মধ্যে ৮০ শতাংশই কিশোর ও তরুণ। শিশু-কিশোরদের মধ্যে ৫৯.২৭ শতাংশ সঙ্গদোষে এবং ৩৬.৩৬ শতাংশ কৌতূহলবশত মাদকে আসক্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর।
মাদক সেবনে মানুষের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য ধ্বংস হয়। একজন মাদকাসক্ত ধীরে ধীরে সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে, এবং সামাজিক অপরাধ প্রবণতাও বেড়ে যায়। মা-বাবাকে খুন, ছিনতাই, চাঁদাবাজি ও রাহাজানির মতো ঘটনা নিত্যদিনের খবর হয়ে উঠেছে।
আনোয়ার আলির পিতা মৃত সাজ্জাদ হোসেন। স্থানীয়দের মতে, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর যদি আনোয়ার আলির ওপর নজরদারি করে, তবে চাঁপাইনবাবগঞ্জ অঞ্চলে ছড়িয়ে থাকা মাদক সিন্ডিকেটের শীর্ষ পর্যায়ের অনেক গোপন তথ্য ফাঁস হয়ে পড়বে। এতে মাদক নির্মূল কার্যক্রমে এক নতুন মোড় আসবে বলে আশা করা যায়।