
সুমন চন্দ্র দে, কক্সবাজার জেলা প্রতিনিধি:
কক্সবাজারের দ্বীপ উপজেলা মহেশখালীতে কক্সবাজার-মহেশখালী নৌরুটের গোরকঘাটা জেটিঘাটে সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে টাঙানো অতিরিক্ত টোলের বিতর্কিত মূল্যতালিকা সরিয়ে দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।
২ সেপ্টেম্বর (বুধবার) সকাল ১১টার দিকে মহেশখালী উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) রুবায়াত আহমেদের নেতৃত্বে ঘাট এলাকায় অভিযান চালিয়ে মূল্যতালিকাটি অপসারণ করা হয়।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) নির্ধারিত ট্যারিফ অনুযায়ী সাধারণ পারাপারের ক্ষেত্রে প্রবেশ ফি ভ্যাটসহ ৫ টাকা নির্ধারিত রয়েছে। তবে গোরকঘাটা জেটিঘাটে ইজারাদারের টাঙানো একটি মূল্যতালিকায় সরকারি নির্ধারিত হারের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ অতিরিক্ত ফি আদায়ের তথ্য পাওয়া যায়।
বিষয়টি নজরে আসার পর উপজেলা প্রশাসন তাৎক্ষণিকভাবে অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় সরকারি পরিপত্রের সঙ্গে মূল্যতালিকার অসঙ্গতি ধরা পড়লে সহকারী কমিশনার (ভূমি) রুবায়াত আহমেদ সেটি সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে ইজারাদারকে সরকারি নির্ধারিত ট্যারিফ অনুসরণ এবং যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায় না করতে সতর্ক করা হয়।
সহকারী কমিশনার (ভূমি) রুবায়েত আহমেদ বলেন, “বিআইডব্লিউটিএর মূল নির্দেশনার সঙ্গে ঘাটে টাঙানো মূল্যতালিকার কোনো মিল ছিল না। সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করে নির্ধারিত হারের চেয়ে বেশি টাকা আদায়ের সুযোগ দেওয়া হবে না। সরকারি অনুমোদিত ট্যারিফ অনুযায়ী ঘাট পরিচালনা করতে হবে। অনিয়মের বিরুদ্ধে উপজেলা প্রশাসনের তদারকি অব্যাহত থাকবে।”
উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ইমরান মাহমুদ ডালিম জানান, বিআইডব্লিউটিএ কতৃপক্ষ গত মঙ্গলবার যে পরিপত্র জারি করেছেন, তা আমি বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়ায় জেনেছি। মহেশখালী জেটি ঘাটের যাত্রীদের অভিযোগের ভিত্তিতে মহেশখালী প্রশাসনের মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়েছে এবং আগামীতেও এই কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
প্রশাসনের এ পদক্ষেপে সাধারণ যাত্রীদের মধ্যে স্বস্তি দেখা গেছে। তারা সরকারি নির্ধারিত ট্যারিফ কার্যকর ও ঘাটে অতিরিক্ত অর্থ আদায় বন্ধে নিয়মিত নজরদারির দাবি জানিয়েছেন।