1. admin@bangladeshkhabarpratidin.com : admin :
তবে কি রাজনৈতিক ফায়দার অপর নাম ‘ট্যাগিং’? - বাংলাদেশ খবর প্রতিদিন
সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ০৮:৩৩ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
ভালোবাসার মানুষ রাহিকে জন্মদিনে পাপানের আবেগঘন শুভেচ্ছা রাসায়নিক দিয়ে কদবেল পাকানোর দায়ে ফল ব্যবসায়ীকে জরিমানা বিরামপুরে দুই কিলোমিটার হেঁটে ফুটপাতের দখল দেখলেন ইউএনও, ব্যবসায়ীদের সতর্কবার্তা দামুড়হুদায় ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়নে সুপারভাইজার ও তথ্যসংগ্রহকারীদের প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত পাঁচবিবিতে যুব দিবসে গাছের চারা বিতরণ ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের উদ্যোগে নদীভাঙন রোধে জিও ব্যাগ স্থাপন নিহত সাংবাদিক আলিফ ফকিরের স্ত্রীকে চাকরি দিলেন : ডেপুটি স্পিকার সাতক্ষীরায় বাসের ধাক্কায় ভ্যানচালক নিহত। সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে জাতীয় যুব দিবস -২৬ উদযাপিত হয়েছে। গাঁওকান্দিয়া ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে দলীয় মনোনয়নপ্রত্যাশী নুরুজ্জামান রিপন

তবে কি রাজনৈতিক ফায়দার অপর নাম ‘ট্যাগিং’?

মনির খান পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়
  • প্রকাশের সময় : বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২৬
  • ১৯৯ বার পঠিত

মনির খান
পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়

মতপ্রকাশের স্বাধীনতা গণতন্ত্রের অন্যতম প্রধান ভিত্তি। কিন্তু কোনো অন্যায়, অনিয়ম কিংবা রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের সমালোচনা করলেই যদি কাউকে নির্দিষ্ট রাজনৈতিক পরিচয়ের তকমা দেওয়া হয়, তাহলে মুক্তচিন্তা ও গণতান্ত্রিক চর্চা বাধাগ্রস্ত হওয়া স্বাভাবিক। বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে এমন প্রবণতার পরিচিত নাম ‘ট্যাগিং’।

আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সরকারের সমালোচনা কিংবা ভিন্নমত প্রকাশের কারণে অনেককেই বিএনপি-ছাত্রদলের, জামায়াত বা শিবিরের অনুসারী হিসেবে চিহ্নিত করার অভিযোগ উঠত। কোনো বক্তব্যের যৌক্তিকতা যাচাইয়ের পরিবর্তে বক্তার রাজনৈতিক পরিচয় সামনে আনার প্রবণতা দেখা যেত। সময়ের পালাবদলে সরকার পরিবর্তন হয়েছে, কিন্তু ট্যাগিংয়ের সংস্কৃতি কি বদলেছে?
বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায়ও ভিন্নমত প্রকাশকারীদের ‘গুপ্ত’ বা নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগ বা আওয়ামী লীগের দোসর আখ্যা দেওয়ার প্রবণতা নিয়ে আলোচনা রয়েছে। কারও বক্তব্য পছন্দ না হলেই তাকে রাজনৈতিক পরিচয়ের ছাঁচে ফেলে বিচার করার এই প্রবণতা প্রশ্ন তোলে সরকার বদলালেও কি রাজনৈতিক অসহিষ্ণুতার সংস্কৃতি বদলায়নি?

ট্যাগিংয়ের সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো, এতে মূল বক্তব্যের চেয়ে বক্তার পরিচয় বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। কেউ সরকারের কোনো সিদ্ধান্তের সমালোচনা করলেই তিনি বিরোধী দলের সমর্থক হয়ে যান না। একইভাবে, কোনো সিদ্ধান্তের প্রশংসা করলেই কেউ ক্ষমতাসীনদের অনুসারী হয়ে যান না। একজন নাগরিকের নিজস্ব মতামত থাকতে পারে, যা কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের অবস্থানের সঙ্গে মিলতেও পারে, আবার নাও পারে।

অবশ্য কারও বক্তব্যে অসত্য তথ্য কিংবা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচারণা থাকলে তা তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে সমালোচনা করা উচিত। কিন্তু প্রমাণ ছাড়াই রাজনৈতিক তকমা দিয়ে কাউকে হেয় করা কিংবা তার বক্তব্যকে অগ্রাহ্য করা কোনোভাবেই সুস্থ রাজনৈতিক চর্চা নয়।

গণতন্ত্রের সৌন্দর্য শুধু ক্ষমতার পালাবদলে নয়; বরং ভিন্নমত প্রকাশের স্বাধীনতা ও সমালোচনা গ্রহণের মানসিকতায়। সরকার যে দলেরই হোক, নাগরিকের প্রশ্ন করার অধিকার অক্ষুণ্ন থাকা প্রয়োজন।

তাই আওয়ামী লীগ সরকারের আমল হোক কিংবা বর্তমান সময় ভিন্নমতকে রাজনৈতিক তকমা দিয়ে দমনের প্রবণতা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। কারণ, যুক্তি দিয়ে বক্তব্যের জবাব দেওয়ার পরিবর্তে কাউকে ট্যাগ দেওয়া সহজ। কিন্তু এই সহজ পথই সমাজে বিভাজন বাড়ায় এবং গণতান্ত্রিক পরিবেশকে দুর্বল করে।

সরকার বদলালেই রাজনৈতিক সংস্কৃতি বদলায় না; তার জন্য বদলাতে হয় ভিন্নমতকে দেখার দৃষ্টিভঙ্গি।

Facebook Comments Box
এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ
© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৪ বাংলাদেশ খবর প্রতিদিন
প্রযুক্তি সহায়তায় Shakil IT Park