
বেবি চক্রবর্ত্তী :- শরতের নীল আকাশ, কাশফুলের দোলা আর উৎসবের আবহের সঙ্গে বাঙালির সাহিত্যচর্চার সম্পর্ক চিরন্তন। সেই সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে আরও সমৃদ্ধ করে শারদোৎসবের প্রাক্কালে প্রকাশিত হল কোজাগরী প্রকাশনীর বহুল প্রতীক্ষিত ‘শারদীয়া সংখ্যা ২০২৬’। গত রবিবার বিপ্লবী নলিনী গুহ সভাঘরে এক বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে এই বিশেষ সংখ্যার প্রকাশ ঘটে।
এবারের শারদীয়া সংখ্যাটি শুধু একটি পত্রিকা নয়, যেন এক মলাটে ধরা পড়েছে বাংলা সাহিত্যের নানা রঙ, নানা অনুভব ও নানা প্রজন্মের সৃষ্টির সম্ভার। গল্প, কবিতা, প্রবন্ধ, স্মৃতিচারণ-সহ বিভিন্ন স্বাদের সাহিত্যধর্মী লেখায় সমৃদ্ধ এই সংখ্যায় মোট দেড়শ জন লেখকের লেখা স্থান পেয়েছে। নবীন প্রতিভার স্বতঃস্ফূর্ত সৃষ্টির পাশাপাশি প্রতিষ্ঠিত লেখকদের অভিজ্ঞতা ও সাহিত্যবোধ এই সংখ্যাটিকে আরও বৈচিত্র্যময় করে তুলেছে।
অনুষ্ঠানকে ঘিরে ছিল সাহিত্য ও সংস্কৃতির এক মনোজ্ঞ পরিবেশ। শারদীয়া সংখ্যা প্রকাশের একাধিক বইয়ের মোড়ক উন্মোচন এবং গুণীজন সম্মাননার আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে বেশ কয়েকজন লেখক ও সাহিত্য অনুরাগীকে বিশেষভাবে সংবর্ধনা জ্ঞাপন করা হয়। তাঁদের সাহিত্যচর্চা, সৃজনশীলতা এবং বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির প্রতি অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে এই সম্মান প্রদান করা হয়। ফলে প্রকাশনা অনুষ্ঠানের পরিসর ছাপিয়ে তা হয়ে ওঠে লেখক, পাঠক ও সাহিত্যপ্রেমীদের মিলনমেলা।
কোজাগরী প্রকাশনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসব দুর্গাপুজোর সাংস্কৃতিক আবহের সঙ্গে সাহিত্যকে আরও নিবিড়ভাবে যুক্ত করতেই এই শারদীয়া সংখ্যা প্রকাশের উদ্যোগ।
শারদীয়ার ছুটিতে যখন চারপাশ উৎসবের রঙে রঙিন, তখন অবসর মুহূর্তে সাহিত্যের পাতায় ডুব দেওয়ার সুযোগ করে দেবে এই সংখ্যা। দেড়শ লেখকের সৃষ্টির সমাহারে কোজাগরী প্রকাশনীর শারদীয়া সংখ্যা পাঠকের মননে নতুন ভাবনার আলো জ্বালবে – এমনই প্রত্যাশা প্রকাশক ও সম্পাদনা পরিষদের সদস্যদের।