
নান্দাইল (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি:
ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার শাইলধরা–সুন্দাইল–পাইকূরা সড়কের ৭১৮ মিটার পাকাকরণ প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। ৯৪ লাখ টাকা ব্যয়ের এ প্রকল্পে রাস্তার বেডে বালুর পরিবর্তে মাটি ভরাট করা হয়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। এতে চলমান বর্ষায় পুরো সড়ক কাদায় পরিণত হয়ে জনদুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে।
উপজেলা এলজিইডি কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) অর্থায়নে বাস্তবায়নাধীন এ প্রকল্পের কার্যাদেশ পায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান লিজেন্ড এগ্রো ফার্ম। ২০২৫ সালের ২ মার্চ কার্যাদেশ দেওয়া হলেও কাজ শেষ করার নির্ধারিত সময় ছিল একই বছরের ৩০ ডিসেম্বর।
স্থানীয়দের অভিযোগ, নির্ধারিত সময়ের মধ্যেও কাজ শুরু হয়নি। কার্যাদেশের মেয়াদ শেষ হওয়ার প্রায় পাঁচ মাস পর নির্মাণকাজ শুরু করা হয়। শুরুতেই রাস্তার বেড কেটে বালুর পরিবর্তে মাটি ভরাট করায় সামান্য বৃষ্টিতেই পুরো সড়ক কাদায় ঢেকে যায়। এতে যানবাহন চলাচল কার্যত বন্ধ হয়ে পড়েছে। দুর্ভোগে পড়েছেন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, কৃষক, ব্যবসায়ীসহ প্রতিদিনের পথচারীরা।
স্থানীয়দের ভাষ্য, নান্দাইল ও কেন্দুয়া উপজেলার মানুষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটি বর্তমানে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের বিষয়টি একাধিকবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তাদের অভিযোগ, প্রকল্প তদারকিতে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের গাফিলতির সুযোগে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ইচ্ছেমতো কাজ করছে।
এ বিষয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত উপ-সহকারী প্রকৌশলী শফিকুল ইসলামের কাছে অনিয়মের অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি সংক্ষিপ্ত জবাবে বলেন, এখন কাজ দেখার মতো সময় নেই।তাঁর এমন বক্তব্যে স্থানীয়দের মধ্যে আরও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
তবে উপজেলা প্রকৌশলী গোলাম কিবরিয়া পিয়াল বলেন, রাস্তা নির্মাণকাজে কোনো ধরনের অনিয়ম হয়ে থাকলে তদন্ত করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এলাকাবাসীর দাবি, প্রকল্পের নির্মাণকাজ দ্রুত তদন্ত করে নিম্নমানের কাজ বন্ধ করতে হবে। পাশাপাশি প্রকল্পটি যথাযথ মান বজায় রেখে পুনরায় বাস্তবায়ন এবং অনিয়মের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।