
সুমন চন্দ্র দে, কক্সবাজার জেলা প্রতিনিধি:
কক্সবাজারের পাহাড়ী দ্বীপ মহেশখালী উপজেলা কৃষি অফিসের আয়োজনে “সুস্বাস্থ্যের জন্য ফলিত পুষ্টি” বিষয়ক ৩ দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালা সম্পন্ন হয়েছে। উপজেলার সাধারণ মানুষের মধ্যে পুষ্টি সচেতনতা বৃদ্ধি, নিরাপদ খাদ্যাভ্যাস গড়ে তোলা এবং পুষ্টিকর খাদ্য উৎপাদনে উদ্বুদ্ধ করার লক্ষ্যে এ প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়েছে।
২৭ এপ্রিল থেকে ২৯ এপ্রিল পর্যন্ত উপজেলা হল রুমে সম্পন্ন হওয়া এই প্রশিক্ষণ কর্মশালা টানা তিনদিনব্যাপী অনুষ্ঠিত হয়। কর্মশালায় দুইটি পৃথক ব্যাচে মোট ৬০ জন অংশগ্রহণ করেন। অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ছিলেন মাঠ পর্যায়ের কৃষাণ-কৃষাণী, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, এনজিও কর্মী, চিকিৎসক ও বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তারা।
প্রশিক্ষণে পুষ্টিকর খাদ্যের গুরুত্ব, সুষম খাদ্য গ্রহণের উপকারিতা, নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন ও সংরক্ষণ, পারিবারিক পুষ্টি ব্যবস্থাপনা, শাক-সবজি ও ফলমূল চাষের মাধ্যমে পুষ্টি ঘাটতি দূরীকরণসহ বিভিন্ন বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। এছাড়াও দৈনন্দিন জীবনে স্বাস্থ্যসম্মত খাদ্যাভ্যাস গড়ে তোলার বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়।
প্রশিক্ষণে মহেশখালী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ আব্দুল গাফ্ফার বলেন, বর্তমানে অপুষ্টি ও খাদ্যাভ্যাস জনিত বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধি অত্যন্ত জরুরি। বিশেষ করে গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর মধ্যে পুষ্টিবিষয়ক জ্ঞান ছড়িয়ে দিতে এ ধরনের প্রশিক্ষণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তারা বাড়ির আঙিনায় পুষ্টিবাগান গড়ে তোলা এবং পরিবারের সদস্যদের জন্য নিরাপদ ও পুষ্টিকর খাদ্য নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
উক্ত প্রশিক্ষণ কর্মশালা প্রশিক্ষক হিসেবে ছিলেন, উর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা (বারটান) ড. গোলাম ছগির আহমেদ, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ আবদুল্লাহ আল মাসুদ, উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা, সহকারী প্রশিক্ষক (বারটান) মোঃ অহিদুল ইসলাম, উপ-সহকারী কৃষি অফিসার হোসাইন আহমদ মাহফুজ সহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
কৃষি মন্ত্রণালয়ের অধীন প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ফলিত পুষ্টি গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট (বারটান) এর পক্ষ থেকে প্রশিক্ষণটি পরিচালনা করা হয়।
এছাড়াও বড় মহেশখালী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মাঝেও ফলিত পুষ্টি বিষয়ক সচেতনতা ক্যাম্পেইন কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।
প্রশিক্ষকরা অংশগ্রহণকারীদের হাতে-কলমে বিভিন্ন বিষয় শেখানোর পাশাপাশি পুষ্টিসমৃদ্ধ খাদ্য উৎপাদনে আধুনিক পদ্ধতি সম্পর্কেও ধারণা দেন।
প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারীরা বলেন, পুষ্টিসমৃদ্ধ খাদ্য গ্রহণ এবং সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে সুস্থ ও কর্মক্ষম সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব। এ ধরনের প্রশিক্ষণ গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর মধ্যে পুষ্টি ও স্বাস্থ্য সচেতনতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।