
বেবি চক্রবর্ত্তী:– শনিবার, বিনোদন সাহিত্য পত্রিকা’র কলকাতা আন্তর্জাতিক বইমেলায় এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রকাশিত হল সঞ্জীব ঘোষের ‘ডাক’। কৃষ্ণপদ মেমোরিয়াল হলে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ‘ডাক’ এর আত্মপ্রকাশ। পাশাপাশি “ডাক” অর্থাৎ আহ্বান। সভ্যতার জন্মলগ্ন থেকে এই সৃষ্টিকে এগিয়ে নিয়ে চলেছে এই- ডাক, এই- আহ্বান। প্রকৃতি ডাকে ইশারায়, প্রিয়জন ডাকে তার নিজস্ব ভঙ্গিমায়। ভোরের প্রথম আলোর ডাক শুনে বৃক্ষ শাখায় ফুলের ঘুম ভাঙে। বিহঙ্গ দল ছুটে যায় নীলাকাশে। এ যেন এক অদৃশ্য হাতছানি। অন্তর্জগত থেকে বহির্জগত- সর্বত্র শোনা যায় এই ডাক।
মাতৃত্বের আহ্বানে ভূমিষ্ট হয় নবজাতক। বৃক্ষ করে অঙ্কুরোদগম। সেই ডাকেই সাড়া দিয়ে সমগ্র জগৎ সংসার ছুটে চলেছে তার লক্ষ্য পথে। অন্তর্জগতের ডাকে সাধক ঘর ছাড়ে। অরণ্যে, পর্বতের গুহায় দিনের পর দিন সমাধি মগ্ন হয়ে থাকে সেই বাক্য-মনের যিনি অতীত— “অবাঙমনোসগোচরম” তার আহ্বান শোনার জন্য। বহির্জগতের ডাকে সেই’ই আবার ধরা দেয় মোহের জালে। সামান্য মুহূর্ত সে ডাকের উপেক্ষা করার ক্ষমতা বিশ্ব সংসারে কারো নেই। বারবার সেই পৌরাণিক ঋষি বাক্য তাঁর মহাবাক্য স্মরণ করিয়ে দেয়- “মহামায়া প্রভাবেন সংসার স্থিতিকারিনা”।
যুগ পালটায়, বয়স বাড়ে পৃথিবীর। ডাক পরিবর্তন হয় সময়ের সাথে সাথে। মুঠোফোনের শব্দ কখনও বাড়িয়ে তোলে মনের চঞ্চলতা। কেড়ে নেয় রাতের ঘুম। আবার কখনো ক্ষনিকের সব কষ্ট ভুলিয়ে মুহূর্তে খুশিতে ভরে দেয়।
এরপর প্রথম প্রকাশিত গল্পের বইয়ের কি নামকরণ হবে সেই ভাবনায় বেশ কিছুদিন কেটে যায়। হঠাৎই একদিন রাতে কলেজের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক শ্রদ্ধেয় শ্রীসুরজিৎ বসুর, একটি আলোচনার প্রসঙ্গ হঠাৎই মনে পড়ে যায়। বাংলা পদাবলী সাহিত্য পড়ানোর সময় তিনি “ডাক” শব্দ নিয়ে একদিন ক্লাসে দীর্ঘ আলোচনা করেছিলেন। মা যেমন তার সন্তানকে ডাকে, ঠিক তেমনই বৈষ্ণব পদাবলীর কবির কলমে সেই ডাক প্রকাশ পেলো শ্রীকৃষ্ণের বংশীধ্বনিতে, শ্রীচৈতন্যের সংকীর্তনের মাঝে আর শাক্ত পদাবলীর কবি দেখালেন সাধকের প্রতি জগজ্জননীর ডাক। সেই একই ডাক রূপান্তরিত হলো স্বাধীনতা আন্দোলনের সময়। দেশমাতৃকা ডাক দিলেন তাঁর শৃঙ্খল মোচনের। গ্রন্থের নামকরণ নিয়ে আর কোনো সংশয় রইলো না।