
মাসুদ রানা , সাতক্ষীরা:
ব্যাপক উৎসাহ, উদ্দীপনা ও বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে সাতক্ষীরায় শুরু হয়েছে দক্ষিণ অঞ্চলের অন্যতম প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী গুড়পুকুর মেলা। জেলা প্রশাসনের আয়োজনে বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) দুপুর ২টা ৩০ মিনিটে শহরের শহিদ আব্দুর রাজ্জাক পার্কে আনুষ্ঠানিকভাবে ফিতা কেটে, বেলুন ও ফেস্টুন উড়িয়ে এই মেলার শুভউদ্বোধন করা হয়।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে মেলার উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক মিজ কাউসার আজিজ। উদ্বোধনের পর তিনি মেলা প্রাঙ্গণের বিভিন্ন স্টল ঘুরে দেখেন।
এ সময় জেলা প্রশাসক মিজ কাউসার আজিজ বলেন "এই গুড়পুকুর মেলা ৩০০ বছরের ঐতিহ্যবাহী মেলা। সাতক্ষীবাসীর ৩ শত বছরের এই ঐতিহ্যকে এই মেলার মাধ্যমে সারা বাংলাদেশে তুলে ধরা হবে। এবারের মেলায় আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য পুলিশ ও আনসারের পাশাপাশি সার্বক্ষণিক সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে এবং নজরদারি বাড়াতে একটি ওয়াচ টাওয়ার নির্মাণ করা হয়েছে।"পরিবেশ সুরক্ষায় অভিনব উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে তিনি আরও জানান, মেলায় পরিবেশ বিপর্যয় ও দূষণ রোধে প্রতিটি স্টলের সঙ্গে বাধ্যতামূলক ডাস্টবিন রাখা হয়েছে। পৌর কর্তৃপক্ষের নিয়মিত ব্যবস্থাপনায় প্রতিদিনের ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার করা হবে। ২০ দিনব্যাপী এই মেলা চলবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা পুলিশ সুপার আবু সালেহ আশরাফুল আলম। তিনি জানান, মেলায় আগত দর্শনার্থীদের নিরাপত্তায় ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে।সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে সার্বক্ষণিক মনিটরিং, ইউনিফর্মধারী ও সাদা পোশাকের পুলিশ নিয়োজিত রয়েছে।মেলাকালীন সময়ে শহরের ট্রাফিক ব্যবস্থা শৃঙ্খল রাখতে বিশেষ পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কোনো ধরনের গুজব বা অপ্রীতিকর তথ্য ছড়ানো রোধে সাইবার পেট্রোলিং জোরদার করা হয়েছে।
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির আহবায়ক এইচ এম রহমতুল্লাহ পলাশ,সদস্য সচিব আবু জাহিদ ডাবলু, প্রেসক্লাবের সভাপতি জি এম মনিরুল ইসলাম মিনি,অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট রিপন বিশ্বাস,সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অর্ণব দত্ত।এছাড়াও জেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
ঐতিহ্যবাহী এই মেলায় গ্রামীণ সংস্কৃতির ছোঁয়া ও বিনোদনের নানা আয়োজন রয়েছে। এবারের আসরে প্রধান আকর্ষণগুলো হলো,প্রায় ১৫০টিরও অধিক মনোহরি পণ্যের স্টল, লৌহজাত দ্রব্য ও হস্তশিল্প,বাঁশ ও বেতের তৈরি আকর্ষণীয় পণ্যের দোকান,গ্রামীণ বিনোদনের জন্য নাগরদোলা ও রেলগাড়ি,শিশু-কিশোরদের জন্য নৌকা ভ্রমণ ও খেলাধুলা, মিষ্টিসহ রকমারি খাবারের দোকান।দীর্ঘ ২০ দিন ধরে চলা এই মেলা ঘিরে সাতক্ষীরা জুড়ে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে এবং প্রতিদিন হাজারো মানুষের সমাগম ঘটবে বলে আশা করা হচ্ছে মেলা কর্তৃপক্ষ।