
তাওহীদ হাসান পিয়াল – খুকৃবি প্রতিনিধি
উৎসবমুখর ও সংক্ষিপ্ত কর্মসূচির মধ্য দিয়ে পালিত হয়েছে খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুকৃবি) ১১তম বিশ্ববিদ্যালয় দিবস। আজ ১৪ জুলাই ২০২৬, মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস-এ দিনব্যাপী নানা বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। কর্মসূচির মধ্যে ছিল সকাল ৯:৫০ মিনিটে আনন্দঘন পরিবেশে জাতীয় ও বিশ্ববিদ্যালয় পতাকা উত্তোলন, সকাল ১০:০০ মিনিটে কেক কাটা, বাঁধন কর্তৃক রক্তদান কর্মসূচির উদ্বোধন, আন্তঃঅনুষদীয় বিতর্ক প্রতিযোগিতা, ইংরেজি ভাষা দক্ষতা প্রতিযোগিতা, আলোচনা সভা এবং পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান।
এসময় উপাচার্য প্রফেসর ডা. নাজমুল আহসান তার বক্তব্যে বলেন, দেশের উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার ক্ষেত্রে খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ইতোমধ্যে আস্থা তৈরিতে সক্ষম হয়েছে। জ্ঞান-বিজ্ঞানের প্রায় সব শাখার সম্মিলনে বিশ্ববিদ্যালয়টি পূর্ণাঙ্গরূপ পাওয়ার পথে এবং সমৃদ্ধির বাংলাদেশ গড়ার লক্ষে খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অনেক দূর এগিয়ে যাবে। তিনি আরও বলেন, জমি অধিগ্রহণসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদ্যমান সীমাবদ্ধতা দূর করতে তিনি সকলের সহযোগিতা কামনা করেছেন।
ট্রেজারার প্রফেসর ডা. শামীম আহমেদ কামাল উদ্দিন খান তার বক্তব্যে বলেন, ভবিষ্যতে আমরা খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়কে উদ্ভাবন, মানবিকতা, সৃজনশীলতা ও দায়িত্ববোধে পরিপূর্ণ এক জ্ঞানচর্চার কেন্দ্রে পরিণত করতে চাই। পরিবর্তনশীল পৃথিবীতে তরুণদের সৃষ্টিশীল মনন ও নৈতিক দৃষ্টিভঙ্গিই গড়ে তুলবে আগামী দিনের বাংলাদেশ; আর সেই যাত্রায় খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় থাকবে পথপ্রদর্শকের ভূমিকায়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের এই শুভক্ষণে একদিকে যেমন ছিল উৎসবের আমেজ, অন্যদিকে দীর্ঘ ১১ বছরেও স্থায়ী ক্যাম্পাস পূর্ণাঙ্গ রূপ না পাওয়ায় শিক্ষার্থীদের মনে কিছুটা হতাশা ও আকাঙ্ক্ষার সুরও শোনা গেছে। শিক্ষার্থীরা চান, তাদের প্রিয় বিদ্যাপীঠটি দ্রুত নিজস্ব স্থায়ী রূপ পাক, যাতে শিক্ষা ও গবেষণার পরিধি আরও বিস্তৃত হয়।
বিশ্ববিদ্যালয় দিবস নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে কৃষি অনুষদের এক শিক্ষার্থী বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্মদিনে আমাদের অনেক আনন্দ হচ্ছে। তবে আমাদের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন একটি স্থায়ী ক্যাম্পাস। অস্থায়ী ভবনে ক্লাসরুম ও ল্যাবের কিছু সীমাবদ্ধতা থাকায় আমরা পূর্ণাঙ্গ সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছি না। আমরা আশা করি, প্রশাসন আমাদের এই মৌলিক চাহিদার দিকে দ্রুত নজর দেবে।”
আবাসন সংকটের কথা উল্লেখ করে এক নারী শিক্ষার্থী সুমাইয়া সিদ্দীকা বলেন, “স্থায়ী ক্যাম্পাস না থাকায় আমাদের নিজস্ব কোনো হল নেই। ভাড়া করা হলে বা বাসায় থেকে আমাদের পড়ালেখা চালাতে হচ্ছে, যা চরম অনিরাপদ ও ব্যয়বহুল। প্রতি বছর বিশ্ববিদ্যালয় দিবস আসে, কিন্তু আমাদের ভাগ্যের কোনো পরিবর্তন হয় না।”
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, “শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ ও আবাসন সংকটের বিষয়টি আমরা অনুধাবন করছি। তবে সীমিত সম্পদের মধ্যেও আমাদের শিক্ষকরা মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন। ইতিমধ্যে আমাদের শিক্ষার্থীরা জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় সাফল্য অর্জন করে বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম বাড়াচ্ছে। স্থায়ী ক্যাম্পাসে স্থানান্তরিত হলে এই বিশ্ববিদ্যালয়টি দেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় কৃষি গবেষণা কেন্দ্রে পরিণত হবে।”