
বেবি চক্রবর্ত্তী: কলকাতা:- ১১ বছর পর অবশেষে বন্ধ থাকা ঠিকা-প্রজা সার্টিফিকেট বিতরণের প্রক্রিয়া আবারও শুরু করল কলকাতা পুরসভাএকই সঙ্গে রাজস্ব হারাচ্ছিল পুরসভাও।
২০১৪ সালের নভেম্বর মাস থেকে ঠিকা-প্রজা সার্টিফিকেট দেওয়া বন্ধ ছিল। অথচ প্রতি বছর হাজার হাজার আবেদন জমা পড়লেও কোনো কাজ এগোয়নি। এই অচলাবস্থা কাটাতে সম্প্রতি উদ্যোগী হয়েছেন কলকাতা পুর প্রশাসন। রাজ্য মন্ত্রিসভার নতুন করে তালিকা প্রণয়নের অনুমতি দেওয়ার পরই এই প্রক্রিয়া ফের শুরু হয়েছে। মেয়র ফিরহাদ হাকিমের বিশেষ নির্দেশে চলতি বছরের ২ জুন থেকে আবেদনপত্র বিতরণ শুরু হয়। কলকাতার ১ থেকে ১০০ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দারা এই সুবিধা পাবেন।
পুরসভা সূত্রের খবর, নির্দিষ্ট ফর্ম ও প্রয়োজনীয় নথি জমা দিলে যাচাই করে যোগ্য আবেদনকারীদের হাতে সার্টিফিকেট তুলে দেওয়া হচ্ছে। মেয়র নির্দেশ দিয়েছেন, আগামী ছয় মাসের মধ্যেই এই গোটা প্রক্রিয়া শেষ করতে হবে।
পুরসভার এক আধিকারিক জানিয়েছেন, সরকারি পরিভাষায় এই সার্টিফিকেট প্রদানের প্রক্রিয়াকে 'রিটার্ন' বলা হয়। এত দিন ঠিকা জমিতে যাঁরা বসবাস করতেন, তাঁদের কোনো আইনি স্বীকৃতি ছিল না। এই শংসাপত্র পাওয়ার পর আবেদনকারীরা সরাসরি সরকারকে জমির ভাড়া দিতে পারবেন। এছাড়াও বাড়ির মিউটেশন ও অ্যাসেসমেন্ট করা সহজ হবে। এমনকি পুরনো বাড়ি ভেঙে নতুন বাড়ি বানানোর অনুমতিও মিলবে।এই উদ্যোগের ফলে নাগরিকদের যেমন সুবিধা হবে, তেমনই পুরসভার রাজস্ব বৃদ্ধিতেও বড় ভূমিকা রাখবে এই সার্টিফিকেট। পুর কর্তৃপক্ষের আশা, জমির ভাড়া, মিউটেশন এবং অ্যাসেসমেন্ট বাবদ আয় উল্লেখযোগ্য হারে বাড়বে। দীর্ঘ ১১ বছর পর এই প্রক্রিয়া ফের শুরু হওয়ায় বহু নাগরিকের মনেই স্বস্তি ফিরেছে। এক আবেদনকারী বলেন, 'এত দিন নানা পরিষেবা পেতে সমস্যায় পড়ছিলাম। এখন আইনি স্বীকৃতি পেলাম। এতে ভবিষ্যতে আর কোনো অসুবিধা হবে না।' কলকাতা পুরসভার মতে, ঠিকা-প্রজা সার্টিফিকেট শুধু নাগরিকদের অধিকার সুরক্ষিত করবে না, শহরের আর্থিক ব্যবস্থাকে আরও সুশৃঙ্খল করবে।