
মো: সফিকুল ইসলাম নাহিদ, নবীগঞ্জ উপজেলা প্রতিনিধি হবিগঞ্জ জেলা:-
বিগত স্বৈরাচার শেখ হাসিনা সরকারের দুঃশাসন আমলে হবিগঞ্জের স্থানীয় আওয়ামী যুবলীগের সভাপতি ও সাবেক পৌর মেয়র আতাউর রহমান সেলিমের নির্যাতন ও মিথ্যা যড়যন্ত্র মূলক মামলার শিকার হয়ে দু বারে প্রায় ২ বছর জেল হাজতে ছিলেন। এসব মামলার খরচে নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন, দৈনিক আমার সংবাদ ও দ্যা ডেইলি পোস্ট পত্রিকার হবিগঞ্জ প্রতিনিধি ও হবিগঞ্জ জেলা সাংবাদিক ফোরামের ৩ বারের অর্থ সম্পাদক মীর মোঃ আব্দুল কাদির। বিগত দিনের জেল জুলুম ও নানান নির্যাতনের কথা দৈনিক বাংলাদেশ খবর প্রতিদিনকে জানান, আমার কি অপরাধ ছিল? আমাকে একটি হত্যা মামলায় জড়িয়ে, শিক্ষা জীবন ও অর্থ নষ্ট, অমানুষিক নির্যাতন কেন করা হয়েছিল? আতাউর রহমান সেলিম মিডিয়ার সামনে বলে, আমি কারো কোন ক্ষতি করিনি। জেলে গিয়ে এখন সাধু সাজতে চান। সে আরো বলে, আমি একজন মাছুম, ফেরেস্তা। তখন তো একবারও ভাবেননি যে, আমি নিরপরাধ একটি ছেলেকে অন্যায় ভাবে হত্যা মামলায় জড়াচ্ছি? জীবন নষ্ট করছি? তারও তো পরিবারের লোকজন আছে? হয়তো বা সে আমার ক্ষমতার কাছে কিছু না। কিন্তু একজন সব কিছুর বিচার করবেন। শুধু সময়ের অপেক্ষা। আমি যার কথা বলছি, তিনি হবিগঞ্জে দীর্ঘ ২০ বছর যাবৎ জেলা যুব লীগের সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন, সাবেক হবিগঞ্জ পৌর মেয়র আতাউর রহমান সেলিম। বিগত ২০১০ সালে হবিগঞ্জ শহরে তরুণ লীগের নেতা পাভেল হত্যা মামলার ঘটনায় বাদীনি কাদিরকে কোন মামলায় দেয়নি। তখন ক্ষমতার প্রভাব কাটিয়ে আতাউর রহমান সেলিম হবিগঞ্জ সদর মডেল থানায় নিজে গিয়ে বাদীনি মৌসুমীর এজাহার ছিড়ে ফেলে উক্ত হত্যা মামলায় সাংবাদিক কাদিরকে আসামী করেন। শুধু রাজনীতি প্রতিহিংসার কারণ কাদির বিএনপি'র রাজনীতি করে বলে এসব অনৈতিক নানান কর্মকান্ড করেছে সে। বর্তমানে সেলিম হবিগঞ্জে বৈষম্য ছাত্র- জনতা আন্দোলনে মৃত মোস্তাক ও রিপন শীল হত্যা মামলার আসামী। গত কয়েক দিন পূর্বে ঢাকা থেকে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা সেলিমকে গ্রেফতার করে। এ খবর পেয়ে হবিগঞ্জ সদর মডেল থানার একদল পুলিশ ঢাকা থেকে হবিগঞ্জ নিয়ে আসেন সেলিমকে। পরে বিজ্ঞ চীফ জুডিশিয়াল আদালতে হাজির করা হলে, বিজ্ঞ বিচারক তার জামিন না মঞ্জুর করে জেল হাজতে প্রেরনের নির্দেশ দেন। পরে, পুলিশ মোস্তাক হত্যা মামলায় ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করলে, আদালত ১ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। গতকাল তাঁকে পুলিশ রিমান্ডে আনলে এসময় সেলিম বলেন, আমি কোন অপরাধ করিনি। মাসুম, ফেরেস্তা বলে দাবি করেন মিডিয়ার সামনে। সাংবাদিক কাদির আরো বলেন, আমার কি অপরাধ ছিল? আমাকে পুলিশ ও ডিবি দিয়ে নির্মমভাবে নির্যাতন করিয়ে ছিলেন যা বর্ণনা করার মতো নয়। আমার মা চিন্তায়- চিন্তায় পাগল মতো হয়ে রাস্তায় রাস্তায় হাঁটতেন আর কাঁদতেন, এমন কি পরে মারাও জান। ২০১৫ সালের (৩০ ডিসেম্বর) হবিগঞ্জ পৌরসভার নির্বাচনের দিন সদর মডেল থানার সামনে জেলা পরিষদে ভোট কেন্দ্রে আওয়ামী যুবলীগের ৩০/৩৫ জনের একদল দুর্বৃত্তরা আমাকে নির্যাতন করে আমার ক্যামেরা ছিনিয়ে নেয়। পূর্বে আরও দুটি মামলায় জড়িয়ে আমার জীবনটি ধ্বংস দিকে ফেলে দেয়ার চেষ্টায় লিপ্ত ছিল সেলিম সহ সৈরাচার আওয়ামীলীগের লোকজন। বিগত দিনের দুটি রাজনৈতিক মামলা, বিএনপি'র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান দেশনায়ক তারেক রহমান এর নির্দেশে ২০০৩ সালে রাজনৈতিক বিবেচনায় অব্যাহতি পাই। আমি একজন সংবাদকর্মী ছিলাম। তখনও তার বিরুদ্ধে কোন প্রতিবাদ করতে পারছিলাম? না, পারিনি। তাদের ক্ষমতার কাছে আমি ছিলাম তুচ্ছ। নিরবে চোখের জ্বল অঝরেছে। অবশেষে ন্যায় বিচারের মালিক আল্লাহর নিকট অপেক্ষায় থাকি। এসব নানান ঘটনায় অসহায় হয়ে নিরবে কত চোখের জ্বল ফেলেছি এর কোন হিসাব নেই। আমাকে যে হত্যা মামলায় জড়িয়ে ছিলেন। মামলার বাদীও মৃত্যু পাভেলের মায়ের সত্য স্বাক্ষীতে যড়যন্ত্র মূলক মামলা থেকে দীর্ঘ সাড়ে তিন বছর হবিগঞ্জ ও সিলেট দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল আদালতে স্বাক্ষী- প্রমানের ভিত্তিত্বে হত্যা মামলা থেকে ২০১৪ সালে বিজ্ঞ আদালত থেকে বেখসুল খালাসে মুক্ত হই। উক্ত মামলায় আরও দুজনকে যড়যন্ত্র মূলক ভাবে জড়িত করেছিল। তারা হলেন, দৈনিক লোকালয় বার্তা পত্রিকার সম্পাদক মোঃ এমদাদুল ইসলাম সোহেল ও সাংবাদিক আব্দুর রাজ্জাক রাজু। তারাও খালাসে মুক্তি ফেলেও সেই যড়যন্ত্র মামলা থেকে মুক্ত হতে পারেনি বিএনপি'র কর্মী শাহীন মিয়া। তাঁর সাজা হয়ে যায়। সে উক্ত যড়যন্ত্র মূলক মামলার এজাহার ভুক্ত আসামী নয়, পুলিশ চার্জশিটে থাকে লাগিয়ে দেয়, রাজনৈতিক প্রতিহিংসায়।