
পাবিপ্রবি প্রতিনিধি:
পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পাবিপ্রবি) স্বাধীনতা হলের প্রধান গেটের সামনে কয়েকদিন ধরে জমে থাকা ময়লার স্তূপে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন আবাসিক শিক্ষার্থীরা। হলের আবাসিক শিক্ষার্থীদের দৈনন্দিন বর্জ্য ও ডাইনিংয়ের খাবারের উচ্ছিষ্ট এক জায়গায় জমা হওয়ায় অল্প সময়েই বড় আকারের ময়লার স্তূপ সৃষ্টি হচ্ছে। এতে আশপাশের এলাকায় দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ার পাশাপাশি মশার উপদ্রবও আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে গেছে। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, মশা হলের বিভিন্ন কক্ষে ছড়িয়ে পড়ায় স্বাস্থ্যঝুঁকিও বৃদ্ধি পাচ্ছে।
এ ঘটনায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। তাদের দাবি, বিষয়টি একাধিকবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তুলে ধরা হলেও হল প্রশাসন কিংবা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, পাবনা পৌরসভার ময়লার ট্রাক কয়েকদিন পরপর এসে এসব বর্জ্য অপসারণ করলেও নিয়মিত সংগ্রহের ব্যবস্থা না থাকায় প্রতিদিনই নতুন করে ময়লা জমে বড় স্তূপে পরিণত হচ্ছে। এতে হলের প্রধান গেট দিয়ে শিক্ষার্থীদের চলাচল ব্যাহত হচ্ছে এবং পরিবেশ দূষণের পাশাপাশি স্বাস্থ্যঝুঁকিও বাড়ছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ডিউটিতে থাকা এক আনসার সদস্য বলেন, 'আমরা কয়েকবার হল প্রশাসনকে বিষয়টি জানিয়েছি। হলের পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা বিভিন্ন ফ্লোর থেকে ময়লা এনে গেটের সামনের ডাস্টবিন ও আশপাশে জমা করেন। পরে পৌরসভার ট্রাক এসে সেগুলো নিয়ে যায়। কিন্তু নিয়মিত অপসারণ না হওয়ায় ময়লা দ্রুত জমে যায়।'
স্বাধীনতা হলের আবাসিক শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ আল নোমান বলেন, 'হলের প্রধান গেট দিয়েই প্রতিদিন আমাদের যাতায়াত করতে হয়। কয়েকদিন ধরে এত বেশি ময়লা জমে আছে যে নাক চেপে চলতে হয়। দুর্গন্ধের কারণে অসুস্থ হয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।'
আরেক আবাসিক শিক্ষার্থী রিফাত হোসেন বলেন, 'পাবনা পৌরসভার ট্রাক কয়েকদিন পরপর এসে ময়লা নিয়ে যায়। কিন্তু ততদিনে পরিস্থিতি খুবই খারাপ হয়ে যায়। একটি আবাসিক হলের প্রধান গেটে এমন অব্যবস্থাপনা কোনোভাবেই কাম্য নয়। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উচিত পাবনা পৌরসভার সঙ্গে সমন্বয় করে সপ্তাহে অন্তত দুইবার নিয়মিত বর্জ্য অপসারণের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা।'
শিক্ষার্থীদের দাবি, দ্রুত নিয়মিত বর্জ্য অপসারণের ব্যবস্থা গ্রহণ করে হলের সামনে পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করা হোক। পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদে একটি কার্যকর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা গ্রহণেরও আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
এ বিষয়ে স্বাধীনতা হলের প্রভোস্ট মো.আল ফাহাদ ভূঁইয়া বলেন, 'আমরা প্রতি মাসে পৌরসভাকে তিন হাজার টাকা পরিশোধ করি, যাতে তাদের গাড়ি এসে নিয়মিত ময়লা নিয়ে যায়। নিয়ম অনুযায়ী অন্তত সপ্তাহে একদিন গাড়ি আসার কথা থাকলেও অনেক সময় দুই থেকে তিন সপ্তাহ পার হয়ে যায়, তবুও তারা আসে না। আমরা স্টেটের মাধ্যমে অর্থ পরিশোধ করি তারা ভাউচারের মাধ্যমে আমাদের হিসাব দেন। স্টেটের শাখার দায়িত্বশীল সুজাউদ্দিন বিষয়টি একাধিকবার পৌরসভার সংশ্লিষ্টদের জানালেও কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।
তিনি আরও বলেন, এভাবে ময়লা দীর্ঘদিন পড়ে থাকায় আমাদের শিক্ষার্থীদের জন্য অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। এতে শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে এবং তাদের পড়াশোনার স্বাভাবিক পরিবেশও ব্যাহত হচ্ছে।'