শাহিন আলম টেকনাফ :
কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যং সীমান্ত এলাকায় মিয়ানমার থেকে ছোড়া গুলিতে এক বাংলাদেশি শিশু গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এদিকে মিয়ানমারে থেকে প্রাণে বাঁচতে ৫৩ জন মিয়ানমারের সন্ত্রাসী সদস্য সীমান্তে অনুপ্রবেশের দায়ে আটক করে বিজিবি।
বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) জানায়, মিয়ানমারের অভ্যন্তরে আরাকান আর্মির সঙ্গে সংঘর্ষে প্রাণ বাঁচাতে বাংলাদেশ সীমান্তে অনুপ্রবেশের সময় ৫৩ জন মিয়ানমারের সন্ত্রাসী গুষ্টির সদস্য ও একজন বাংলাদেশিকে আটক করা হয়েছে। পরে তাদের টেকনাফ থানায় হস্তান্তর করা হয়।
টেকনাফ মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানান, গুলিবিদ্ধ শিশুটি মারা যায়নি। তবে তার অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে।
এদিকে মিয়ানমার থেকে অনুপ্রবেশের দায়ে ৫৩ জন মিয়ানমারের সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সদস্যকে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) টেকনাফ মডেল থানায় হস্তান্তর করেছে। তাদের পরিচয় ও সংশ্লিষ্টতা যাচাই-বাছাই শেষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
রোববার (১১ জানুয়ারি) ভোরে হোয়াইক্যং ইউনিয়নের লম্বাবিল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
গুলিবিদ্ধ শিশুর নাম আফনান (১২)। স্থানীয়ভাবে সে ‘পুতুনি’ নামে পরিচিত। সে লম্বাবিল এলাকার জসিম উদ্দিনের মেয়ে। ঘটনার খবরে এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা কক্সবাজার–টেকনাফ প্রধান সড়কের লম্বাবিল ও টেচ্ছাবিজ্র এলাকায় সড়ক অবরোধ করেন। এতে ওই সড়কে কিছু সময় যান চলাচল ব্যাহত হয়। পরে প্রশাসনের আশ্বাসে পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয়।
এদিকে সীমান্তের ওপারে গোলাবর্ষণের শব্দে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। নিরাপত্তাহীনতায় অনেক সীমান্তবাসী ঘর ছেড়ে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিচ্ছেন বলে স্থানীয়রা জানান।
(ওসি) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম আরো বলেন,“হোয়াইক্যং সীমান্তের ওপারে রাতভর গোলাগুলির শব্দ শোনা যাচ্ছিল। একপর্যায়ে মিয়ানমার দিক থেকে আসা গুলিতে এক শিশু গুলিবিদ্ধ হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কাজ করছে।”
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েক দিন ধরে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সশস্ত্র সংঘর্ষ চলছে। সেখানে আরাকান আর্মির সঙ্গে আরসা, আরএসও ও নবী হোসেন গ্রুপের মধ্যে চলমান গোলাগুলির প্রভাব পড়ছে বাংলাদেশের সীমান্ত এলাকায়। এতে টেকনাফের হোয়াইক্যং সীমান্তে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।