
মো ইয়াকুব আলী তালুকদার
স্টাফ রিপোর্টার
সিরাজগঞ্জ জেলা শহরের এক প্রতিভাবান শিশু শিল্পীর মুখ নাম জাকিয়াতু বিনতে মোস্তফা তাকওয়া। সে সিরাজগঞ্জ জেলা শহরে অবস্থিত ইবনে হাইসাম বিজ্ঞান মাদরাসার নার্সারী শ্রেণীর ছাত্রী এবং সিরাজগঞ্জের ব্যতিক্রম সাহিত্য সাংস্কৃতিক সংসদের শিশু শিক্ষার্থী।
তার সাংস্কৃতিক জিবনের শুরু ছিলো মাদরাসার সাংস্কৃতিক ক্লাস থেকে যখন সে ২০২৪ সালে প্লে শ্রেণীর ছাত্রী। চুপচাপ নিরিবিলি ছোট্ট একটা শিশু তার মায়ের হাত ধরে মাদরাসা যেত এবং প্রত্যেক শনিবার সাংস্কৃতিক ক্লাসে সংগীত আবৃত্তি অভিনয় ইত্যাদি বিষয় শিখতো এবং পরবর্তীতে ২০২৫ এর শেষের দিকে বাংলাদেশ টেলিভিশন কর্তৃক আয়োজিত শিশুতোষ রিয়্যালিটি শো ‘নতুন কুঁড়ি-২৫ “শুরু হলে আঞ্চলিক পর্যায়ে আবৃত্তি এবং অভিনয়ে ইয়েস কার্ড পেয়ে বিভাগীয় পর্যায়ে অংশগ্রহণ করে বাদ পড়ে যায় তাকওয়া। সেটাই ছিলো তার জিবনের ১ম প্রতিযোগীতা এবং অর্জন।
তবে তাকওয়া পরাজিত হবার পরেও থেমে থাকেনি তার ইচ্ছাশক্তি এবং প্রবল মনোবল আবার তাকে জাগিয়েছে।
তারপর মার্কস অলরাউন্ডারে আঞ্চলিক পর্যায়ে অভিনয় এবং আবৃত্তিতে অংশগ্রহণ করে সেখানে বাছাইপর্বে ৫ জনের একজন হয়ে বাদ পড়ে যায়। তার ইচ্ছাশক্তি তাকে থামায়নি আবার নতুন করে শুরু করে সে বছরেই সেরাদের সেরা সিজন-৬ অনুষ্ঠিত হয় উপজেলা জেলা বিভাগীয় এবং চূড়ান্ত রাউন্ডে সেরা-১০ হয়ে সেখানে তার আকাশচুম্বি সফলতা আসে।
সব সময় তাকে যেন সুর,,তাল,লয় ছন্দ বার বার কাছে টানে এবং তার প্রতিভাগুলো ছিলো অসাধারণ, ছোট্ট বেলা হতে পড়াশুনার পাশাপাশি সংগীত, আবৃত্তি এবং অভিনয়ে ছিলো দারুণ আগ্রহী যার ফলে খুব অল্প বয়সেই হয়ে ওঠে দক্ষ প্রতিভাবান এবং মেধাবী।
তার সম্মানিত পিতা মো:গোলাম মোস্তফা এবং মাতা মাহবুবা খানমের আগ্রহ এবং ইচ্ছা শক্তিতে একজন সাধারণ শিশু থেকে তাকওয়া হয়ে উঠে অসাধারণ এবং একজন প্রতিভাবান শিশু ।
সে জন্মসূত্রে পাবনা জেলার হলেও বাবার ব্যবসার সুবিধার্থে সিরাজগঞ্জে বসবাস এবং সিরাজগঞ্জের মাটি এবং প্রকৃতি তার অনেক আপন এবং কাছের।
প্রতি বছরের ন্যায় জাতীয় সাংস্কৃতিক প্রতিযোগীতা সেরাদের সেরা সিজন-৬ অনুষ্ঠিত হয়।
উপজেলা,জেলা এবং বিভাগ পর্যায়ে সেরাদের বাছাই করে জাতীয় পর্যায়ে চূড়ান্ত রাউন্ডে সারা দেশ হতে বাছাইকৃত সেরা ৩০ অভিনয় এ সুযোগ হয়েছিলো জাকিয়াতু বিনতে মোস্তফা তাকওয়ার।
পরবর্তিতে ঢাকার তেজগাঁও কলেজ অডিটোরিয়ামে গত ১লা জানুয়ারী,২৬ ইং সেরা ৩০ নিয়ে চূড়ান্ত রাউন্ড অনুষ্ঠিত হলে তার অভিনয়ের দক্ষতায় সবাইকে পিছনে ফেলে ও প্রতিভা দেখিয়ে সেরা ১০ এ স্থান করে নেয় তাকওয়া।
সে সিরাজগঞ্জ শহরের ব্যতিক্রম সাহিত্য সাংস্কৃতিক সংসদের থিয়েটার বিভাগের শিক্ষার্থি।
তার মাদরাসার সাংস্কৃতিক শিক্ষক এবং প্রশিক্ষক আহসান হাবীব মানিক বলেন,তার এই ৬ বছর বয়সে এই অসামান্য অর্জন শুধু অর্জন নয় দেশ এবং এই সেরাদের সেরা রিয়েলিটি শো তে বিরল।
আমার জানামতে এত অল্প বয়সে এতদূর পর্যন্ত যাওয়া এটা কোন সহজ ব্যপার নয়,শুধু চেষ্টা আত্মবিশ্বাস এবং যোগ্যতা ছাড়া কোন ভাবেই সম্ভব নয়।তার অর্জন এবং প্রতিভাকে স্বাগতম জানাই।
সে আমাদের প্রতিষ্ঠানের গর্ব, আমাদের সিরাজগঞ্জ জেলার গর্ব। তার ভবিষ্যত জীবন আরও উজ্জ্বল হোক, দেশ বিদেশে সুনাম এবং প্রতিভা ছড়িয়ে পড়ুক এই প্রত্যাশা করি।
তাকে নিয়ে তার বাবা বলেন,
আমার ইচ্ছা আমার মেয়ে ভবিষ্যৎ-এ আরো অগ্রসর হোক এবং সুস্থ্য সাংস্কৃতিতে তার প্রতিভা ছড়িয়ে যাক,তার প্রতিভা দেশ জাতি এবং দ্বীনের কল্যানে কাজে লাগুক ও ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে সকল মানুষের কাছে তার জন্য দোয়া কামনা করছি।
তাকওয়া শুধু তার পরিবারের গর্ব নয়! তাকওয়া সিরাজগঞ্জ জেলাসহ সারা দেশের একজন গর্বিত শিশু শিল্পী। বাংলাদেশের আগামী দিনের রত্ন। সম্ভাবনাময় ভবিষ্যত বিখ্যাত শিল্পী।