
মাসুদ রানা:
সাতক্ষীরা জেলার অন্যতম প্রধান বিদ্যাপীঠ সাতক্ষীরা সরকারি কলেজ ক্যাম্পাসের অভ্যন্তরে ধান চাষ করাকে কেন্দ্র করে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ক্যাম্পাসের স্বাভাবিক শিক্ষা ও শিক্ষার্থী-বান্ধব পরিবেশ বিসর্জন দিয়ে বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে কৃষিকাজ পরিচালনা করায় তাদের চলাফেরা ও সহশিক্ষা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
শিক্ষার্থীদের দেওয়া তথ্যমতে, কলেজের মহিলা হোস্টেলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার অজুহাতে গত কয়েক বছর ধরে প্রায় ১০ বিঘারও বেশি জমি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হয়েছে। বর্তমানে সেই বিশাল এলাকায় পুরোদমে ধান চাষ করা হচ্ছে। এর ফলে কলেজের খেলার মাঠের পরিসর উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। নিয়মিত খেলাধুলা, শারীরিক চর্চা এবং শিক্ষার্থীদের অবসরে বসার জায়গাগুলো এখন ফসলি জমিতে পরিণত হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, ধান চাষের কারণে ক্যাম্পাসের স্বাভাবিক নান্দনিকতা নষ্ট হয়েছে। গ্রুপ স্টাডি, মুক্ত আলোচনা কিংবা সৃজনশীল চর্চার জন্য প্রয়োজনীয় খোলা জায়গার অভাবে বিপাকে পড়েছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা।
১৫ এপ্রিল ২০২৬, বুধবার বেলা আনুমানিক ১১টার দিকে একদল শিক্ষার্থী এই সমস্যার স্থায়ী সমাধানের দাবিতে কলেজের অধ্যক্ষের সাথে সাক্ষাৎ করেন। প্রতিনিধি দলে ছিলেন— গণিত বিভাগের শিক্ষার্থী বখতিয়ার হোসেন, প্রাণিবিদ্যা বিভাগের ফাহমিদ আলম, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের মুস্তাফিজুর রহমান, এবং গণিত বিভাগের মোস্তাকিম, সাজিদ, ফাহমিদ হায়দার, নুহা আনসারী ও লোহানসহ আরও অনেকে।
শিক্ষার্থীদের দাবি ছিল, দ্রুততম সময়ের মধ্যে ক্যাম্পাসের ভেতরে থাকা কাঁটাতারের বেড়া অপসারণ করে জমি শিক্ষার্থীদের ব্যবহারের জন্য অবমুক্ত করতে হবে। তবে অভিযোগ উঠেছে, শিক্ষার্থীদের কথা শোনার এক পর্যায়ে অধ্যক্ষ মহোদয় উত্তেজিত হয়ে পড়েন।
বখতিয়ার হোসেন বলেন"আমরা যখন যৌক্তিক দাবি নিয়ে অধ্যক্ষ স্যারের কাছে যাই, তিনি বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে কাঁটাতারের বেড়া বহাল রাখার চেষ্টা করেন। এক পর্যায়ে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে আমাদের কক্ষ থেকে বেরিয়ে যেতে বলেন। একজন অভিভাবকের কাছ থেকে এমন আচরণ আমাদের মর্মাহত করেছে।"
অধ্যক্ষের কক্ষ থেকে শিক্ষার্থীদের বের করে দেওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়লে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। শিক্ষার্থীদের দাবি স্পষ্ট— কলেজ ক্যাম্পাস কোনো কৃষি খামার নয়। এখানে শিক্ষার উপযুক্ত পরিবেশ এবং শিক্ষার্থীদের অবাধ বিচরণের অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। দ্রুত এই কাঁটাতারের বেড়া সরিয়ে মাঠ ও খালি জায়গা শিক্ষার্থীদের ফিরিয়ে না দিলে বড় ধরনের কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তারা।
এই বিষয়ে কলেজ প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।