
নিজস্ব প্রতিনিধি:
সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দীর্ঘদিন স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে কাজ করা তরুণ-তরুণীদের বাদ দিয়ে অর্থের বিনিময়ে নতুন লোক নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে ‘সাতক্ষীরা পাঁচ সংগঠন সমন্বয় নাগরিক ঐক্য’। একই সঙ্গে আগামী ২০ আগস্টের মধ্যে অভিযোগের বিষয়ে ব্যবস্থা না নেওয়া হলে মানববন্ধন, স্মারকলিপি প্রদানসহ কঠোর আন্দোলন কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দিয়েছে সংগঠনটি।
নাগরিক ঐক্যের সভাপতি করিম রেজাউল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক আব্বাস আলী খান স্বাক্ষরিত এক যৌথ বিবৃতিতে এসব অভিযোগ ও কর্মসূচির কথা জানানো হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে একদল যুবক-যুবতী দীর্ঘদিন ধরে বিনা পারিশ্রমিকে শ্রম দিয়ে আসছেন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও ওয়ার্ড মাস্টারের পক্ষ থেকে তাঁদের পরবর্তী সময়ে আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে নিয়োগ দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি করা হয়েছে। সেই আশ্বাসে ভরসা রেখে তাঁরা দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করলেও সম্প্রতি টেন্ডারের মাধ্যমে সম্পন্ন হওয়া আউটসোর্সিং নিয়োগে স্বেচ্ছাশ্রম দেওয়া কাউকেই সুযোগ দেওয়া হয়নি।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী তরুণ-তরুণী ও তাঁদের পরিবারের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা তৈরি হয়েছে বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।
নাগরিক ঐক্যের নেতৃবৃন্দ অভিযোগ করেন, হাসপাতালের ওয়ার্ড মাস্টার ফারুক জনপ্রতি ৩ থেকে সাড়ে ৩ লাখ টাকা পর্যন্ত উৎকোচ নিয়ে নতুন লোক নিয়োগে ভূমিকা রেখেছেন। তাঁদের দাবি, হাসপাতাল পরিচালকের সঙ্গে অর্থ লেনদেনের পর হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করানোর কাজে ওয়ার্ড মাস্টারকে ব্যবহার করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে কোনো নথি বা প্রমাণ বিবৃতিতে উপস্থাপন করা হয়নি।
বিবৃতিতে ওয়ার্ড মাস্টার ফারুকের সম্পদের বিষয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে। সংগঠনটির নেতারা দাবি করেন, একজন সাধারণ ওয়ার্ড মাস্টারের আয় দিয়ে খাদ্যগুদামের পাশে পাঁচ কাঠা জমিসহ বাড়ি এবং ঢাকায় বিলাসবহুল ফ্ল্যাট কেনার মতো সম্পদের উৎস কী—তা তদন্ত করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে হাসপাতালের পরিচালক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সম্পদের উৎসও খতিয়ে দেখার দাবি জানানো হয়।
নাগরিক ঐক্যের অভিযোগ, অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে আস্থার সংকট তৈরি হয়েছে। এ কারণে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কোনো অনিয়ম, অর্থ লেনদেন বা ক্ষমতার অপব্যবহার হয়েছে কি না, তা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে খুঁজে বের করার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
বিবৃতিতে নাগরিক ঐক্য ও ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা, অভিযোগ তদন্তে স্বাধীন ব্যবস্থা গ্রহণ এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।
একই সঙ্গে দীর্ঘদিন স্বেচ্ছাশ্রম দেওয়া তরুণ-তরুণীদের বিষয়টি মানবিক ও ন্যায়সংগতভাবে বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
নাগরিক ঐক্যের নেতৃবৃন্দ বলেন, আগামী ২০ আগস্টের মধ্যে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে প্রথমে মানববন্ধন ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে স্মারকলিপি প্রদান করা হবে। পরবর্তী সময়ে বৃহত্তর আন্দোলনসহ আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।