
মাসুদ রানা, সাতক্ষীরা:
যথাযোগ্য মর্যাদা, ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশের মধ্য দিয়ে সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ৯ নম্বর ব্রক্ষ্মরাজপুর ইউনিয়নের ৩ নং ওয়ার্ডের মাছখোলা বাজার ঈদগাহ ময়দানে পবিত্র ঈদুল আজহার প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। সকাল ৭:৩০ মিনিটে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়।
এবারের ঈদ জামাতে দলমত ও বয়স নির্বিশেষে সর্বস্তরের মুসলিম উম্মাহর ঢল নামে। ছোট-বড়, ধনী-দরিদ্রের সব ভেদাভেদ ভুলে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে রইচপুর ও আশেপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা মুসল্লিরা নামাজে অংশ নেন। মাছখোলা বাজার জামে মসজিদের ইমাম আলহাজ্ব এরশাদ আলী ঈদের নামাজ পরিচালনা করেন। নামাজ শেষে দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সমৃদ্ধি এবং অগ্রগতি কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।
নামাজ ও খুতবা শেষে উপস্থিত সকল মুসল্লিরা সমবেত কণ্ঠে— “আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, ওয়া লিল্লাহিল হামদ” তাকবির ধ্বনি আদায় করেন। জিলহজ মাসের ৯ তারিখ ফজর থেকে ১৩ তারিখ আসর পর্যন্ত প্রত্যেক ফরয নামাজের পর এই তাকবির পড়ার বিশেষ গুরুত্ব তুলে ধরেন ইমাম সাহেব। তাকবিরের এই পবিত্র ধ্বনি উপস্থিত মুসল্লিদের মাঝে এক আবেগঘন ও আধ্যাত্মিক পরিবেশের সৃষ্টি করে।
ঈদ জামাতে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আলাউদ্দীন, সাংবাদিক মাসুদ রানা, সাংবাদিক সোহাগ হোসেন, হাফেজ মফিজুল ইসলামসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
নামাজ শেষে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে অতিথিরা বলেন, "ঈদ মানেই আনন্দ, ঈদ মানেই খুশি। আজ ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করার জন্য আমরা সকল মুসলমান ভাই এক জায়গায় সমবেত হতে পেরেছি, এটি অত্যন্ত আনন্দের।"
আলোচনায় বক্তারা আরও বলেন, পবিত্র ঈদুল আজহা বা কোরবানির ঈদ হলো ত্যাগের উৎসব। এটি মূলত হযরত ইব্রাহিম (আ.) ও হযরত ইসমাইল (আ.)-এর অনন্য আত্মত্যাগের ঐতিহাসিক স্মৃতি বহন করে এবং মানুষের ভেতরের পশুত্ব ও লোভ-লালসাকে বিসর্জন দেওয়ার শিক্ষা দেয়। কোরবানির মাংস আত্মীয়-স্বজন ও গরিব-দুঃখীদের মাঝে বিলিয়ে দেওয়ার মাধ্যমে সমাজে ধনী-দরিদ্রের বৈষম্য দূর হয় এবং সামাজিক সৌহার্দ্য বৃদ্ধি পায়।
ঈদের নামাজ, তাকবির পাঠ ও মোনাজাত শেষে মুসল্লিরা একে অপরের সাথে কোলাকুলি ও ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।