
আব্দুর রাজ্জাক বাবু,সিরাজগঞ্জ:
সিরাজগঞ্জের সলঙ্গায় প্রায় ৪০ বছর যাবত অবৈধভাবে সরকারি জায়গা দখল করে নিজ নামে দলিল করে বহুতল ভবনসহ দোকানপাট মার্কেট বানিয়ে ভাড়া দিয়ে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে ভুমি দস্যুরা,
এতে একদিকে যেমন সরকার হারাচ্ছে রাজস্ব, অপর দিকে হাটের জায়গা সংকুচিত হয়ে পড়ছে।
জানা যায় সলঙ্গা হাটের পেরিফেরি জায়গাসহ নদীর পুর্ব পাশে পানি উন্নয়ন বোর্ড ও খাস জায়গা ২১৪ জন দখলদার অবৈধভাবে দীর্ঘদিন যাবত দখল করে আছে।প্রশাসন কেন এই অবৈধভাবে দখলকৃত জায়গা দখলমুক্ত করছে না এ নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন উঠেছে,তাহলে কি প্রশাসনের মদদেই তারা দখল করে আছে সরকারি জায়গা। না কি মাসহারা পাচ্ছে তারা, আর এটাই যদি না হয়, তাহলে সারা দেশে যে ভাবে সরকারি অবৈধভাবে দখলকৃত জায়গা দখলদারদের হাত থেকে দখলমুক্ত হচ্ছে, সলঙ্গায় কেন হচ্ছে না, এ নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন উঠেছে।
এলাকারবাসি বলেন, সলঙ্গা গরুহাট,ধানহাট শত কোটি টাকার মুল্যের সরকারী জায়গা অবৈধ দখল করে সেখানে মার্কেট বানিয়ে ভাড়া দিয়ে সরকারের রাজস্ব ফাকি দিয়ে লাখ লাখ টাকার সুবিধা নিচ্ছে, ডা: মোহাম্মাদ আলীর ছেলে সলঙ্গা থানা কৃষক লীগের সহ-সভাপতি জেহাদ গং ও কালিপদ কুন্ড ভাতিজা থানা আওয়ামিলীগের সদস্য মৃদুল কুমার কুন্ডসহ ২১৪ জন অবৈধ দখলদার।
এ বিষয়ে সলঙ্গা বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবু রেজা জুলফিকার আলী রাঙ্গা বলেন, কালীপদ কুন্ডু একজন ধনাঢ্য হয়ে কি ভাবে, ডিসি অফিস থেকে ভুমিহীন হয়ে হাটের পেরিফেরি জায়গা ফসলি জমি দেখিয়ে ৩০ শতক জায়গা কবলিত নেয়,এবং সেখানে পাকা ভবন নির্মাণ করে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন,সরকারী খাস পেরিফেরি জায়গার উপর ভবন নির্মাণ ও বিক্রির বিধান না থাকলেও কালিপদ কুন্ড দখলকৃত ৩০ শতক জায়গা থেকে প্রায় ৮ কোটি টাকা মুল্যের ৮ শতক জায়গা আব্দুল মতিন সরকার এর কাছে বিক্রিও করছেন, একজন কোটিপতি ভুমিহীন সেজে কিভাবে হাটের পেরিফেরি জায়গা ফসলি জমি দেখিয়ে দলিল করে নিজ নামে নেয়, এ বিষয়ে তিনি প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন, এবং অনতিবিলম্বে হাটের খাস জমি ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের জায়গা দখলমুক্ত করে সলঙ্গা হাট বাচানোর দাবি জানান।
অবৈধ দখল বিষয়ে জানতে চাইলে কালিপদ কুন্ড এর ভাতিজা আওয়ামীলিগের নেতা মৃদুল কুন্ড বলেন, আমার জ্যাঠা বাবা এই জায়গা কার কাছ থেকে কিনেছে সেটা জানা নেই, এ জায়গার দলিল আছে, আগেও অনেক সাংবাদিক লেখালেখি করেছে প্রশাসন এসে কিছুই করতে পারেনাই আপনারা পারলে লিখে যা পারেন করেন।
এদিকে জেহাদ এর সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করে তাকে পাওয়া না গেলে,তার বড় ভাই মোজ্জামেল হোসেন বলেন,ধান হাটা ২০ শতকের উপর ভবন এটা আমার মা এর জায়গা এটা নিয়ে পত্রিকায় নিউজ প্রকাশ না করার অনুরোধ জানান।
ঘুড়কা ইউনিয়ন ভুমি অফিস থেকে জানা যায় হাটে মোট ঘাস জায়গা ৫.৬৭ একর, কিন্তু রায়গঞ্জ উপজেলা ভুমি অফিস বলছেন হাটের খাষ জায়গা ৯. ৯৪একর।
সলঙ্গা পানি উন্নয়ন বোর্ডের জায়গা অবৈধ ভাবে দখল করে পাকা ভবন নির্মাণ করে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে, এ বিষয়ে জানতে চাইলে জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোকলেছুর রহমান বলেন এখানে নতুন এসেছি তবে আমি সলঙ্গায় সরজমিনে গিয়ে দেখে অবৈধ দখলদারদের আইনের মাধ্যমে উচ্ছেদ করার চেষ্টা করব।
রায়গঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাসুদ রানার কাছে অবৈধ দখলদারদের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আপনার মাধ্যমে আমি জানতে পারলাম এই উপজেলায় আমি নব যোগদান করেছি, আমি উর্ধতন কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলবো,এই বিষয়ে সরজমিনে তদন্তের প্রয়োজন হলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেব,আর এই উপজেলা থেকে একটা ম্যাসেজ কোন রকম সরকারী সার্থ সংশ্লিষ্ট জমিতে যে কোন রকমের অবৈধ দখলদারদের প্রতি আমাদের জিরো ট্রলারেন্স।