
আব্দুর রাজ্জাক বাবু , সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি:
সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার সলঙ্গা এলাকায় তিন ফসলি জমির টপসয়েল কেটে ইটভাটায় বিক্রির অভিযোগ উঠেছে কাইয়ুম ইসলাম নামে এক ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে।
শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) বিকেলে সরেজমিনে দেখা যায়, সলঙ্গা থানার দত্তকুশা কালিপুর গ্রামে কৃষিজমি খনন করে মাটি বিক্রি করা হচ্ছে ইটভাটায়। স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব টপসয়েল কেনাবেচাকে কেন্দ্র করে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে।
এক্সকাভেটর দিয়ে জমির উর্বর উপরিভাগ কেটে ১০-১৫ ফুট গভীর গর্ত তৈরি করা হচ্ছে, যা ধীরে ধীরে জলাশয়ে পরিণত হচ্ছে। এর ফলে আশপাশের ফসলি জমি ও বসতভিটা ভেঙে পড়ার ঝুঁকিতে পড়েছে। অনেক কৃষক বাধ্য হয়ে কম দামে তাদের জমি এই সিন্ডিকেটের কাছে বিক্রি করে দিচ্ছেন।
এভাবে দিন দিন কমে যাচ্ছে চাষাবাদযোগ্য জমি। শুধু জমির শ্রেণি পরিবর্তনই নয়, নষ্ট হচ্ছে মাটির উর্বরতাও। অন্যদিকে ট্রলি ও ট্রাকে করে মাটি পরিবহনের কারণে গ্রামীণ কাঁচা-পাকা সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এতে ভোগান্তিতে পড়ছেন সাধারণ মানুষ। অভিযোগ রয়েছে, এসব যানবাহনের বেশিরভাগই অবৈধ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ক চালকদের মাধ্যমে পরিচালিত হওয়ায় দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বাড়ছে।
ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইনে কৃষিজমি, পাহাড় বা টিলা থেকে মাটি কেটে ইটের কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহার করা নিষিদ্ধ থাকলেও, এর যথাযথ প্রয়োগ না থাকায় ভাটা মালিকরা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বাশিদবকোল, জোনজালী পাড়া ও দত্তকুশা কালিপুর এলাকায় দিনরাত কৃষিজমি খনন করা হচ্ছে। অভিযুক্ত কাইয়ুম ইসলাম সলঙ্গা থানা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক হওয়ায় তার প্রভাবের কারণে কেউ প্রতিবাদ করতে সাহস পাচ্ছেন না।
অভিযোগের বিষয়ে কাইয়ুম ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে গিয়ে অন্য এক ছাত্রদল নেতার সঙ্গে কথা বলতে বলেন।
এ বিষয়ে রায়গঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল খালেক পাটোয়ারী বলেন, “ফসলি জমির শ্রেণি পরিবর্তনের কোনো সুযোগ নেই। যে-ই হোক না কেন, অবৈধভাবে পুকুর খনন বা জমি নষ্ট করলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”