1. admin@bangladeshkhabarpratidin.com : admin :
সরিষাবাড়ীতে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পরীক্ষার ফি আদায়ের অভিযোগ শিক্ষা কর্মকর্তা বলছেন—‘ফি নেওয়ার সুযোগ নেই’ - বাংলাদেশ খবর প্রতিদিন
শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ১১:১৮ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
সেন্টমার্টিনে বিদ্যুতের হাহাকার, দিনে মেলে মাত্র ৪ ঘণ্টা কয়েক দিন পরপর বাড়ে ইউনিটপ্রতি দাম ময়মনসিংহে বিজ্ঞান বিতর্ক উৎসবে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দিলেন রেঞ্জ ডিআইজি গাজীপুরের কালীগঞ্জে ১২ বছরের শিশুকে ধর্ষণ ও গর্ভপাতের অভিযোগ, আটক ৩ আলমডাঙ্গায় রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় বীর মুক্তিযোদ্ধা মহাব্বত আলীর দাফন সম্পন্ন । পাবনায় ডিবি পুলিশের পৃথক অভিযানে ৫ আগ্নেয়াস্ত্র ও গুলিসহ গ্রেপ্তার ৪ বিয়ের নামে অভিনব প্রতারণা, নিজের স্ত্রী’কে কখনো মেয়ে কখনো ভাইঝি বলে একাধিক বিয়ে দেন স্বামী! কৌশলে হাতিয়ে নেন লাখ লাখ টাকা। সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে শান্তিপূর্ণ ভাবে শারদীয় দুর্গাপূজা উৎসব উদযাপিত। উল্লাপাড়ায় দুর্গাপূজার মণ্ডপ পরিদর্শনে নাসির হোসেন, নির্বিঘ্নে পূজা উদযাপনে প্রশাসনের সঙ্গে তদারকি খেলাধুলায় মনোবল বাড়াতে জোড়া খাসি উপহার দিলেন মেয়র পদপ্রার্থী জামাল উদ্দিন মাস্টার নিয়োগের অপেক্ষায় ১-১২ তম নিবন্ধিত শিক্ষকগণ, নেই নিয়োগের চুড়ান্ত ঘোষণা নেই, নিয়োগের বাঁধা কোথায়!

সরিষাবাড়ীতে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পরীক্ষার ফি আদায়ের অভিযোগ শিক্ষা কর্মকর্তা বলছেন—‘ফি নেওয়ার সুযোগ নেই’

সরিষাবাড়ী (জামালপুর) প্রতিনিধি:
  • প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট, ২০২৬
  • ৫৯ বার পঠিত

সরিষাবাড়ী (জামালপুর) প্রতিনিধি:

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষা অবৈতনিক। শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে পরীক্ষার জন্য কোনো ফি নেওয়ার সুযোগ নেই—উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার এমন বক্তব্যের মধ্যেই জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে দ্বিতীয় প্রান্তিক মূল্যায়ন পরীক্ষাকে ঘিরে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ফি আদায়ের অভিযোগ উঠেছে।

উপজেলার ১৩৪টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণির প্রায় ১৪ হাজার ১৫০ শিক্ষার্থীর কাছ থেকে শ্রেণিভেদে ২০ থেকে ৫০ টাকা করে পরীক্ষার ফি নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, এভাবে মোট ৪ লাখ ৮০ হাজার ১২০ টাকা আদায় করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) থেকে উপজেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে ২০২৬ শিক্ষাবর্ষের দ্বিতীয় প্রান্তিক মূল্যায়ন পরীক্ষা শুরু হওয়ার কথা। এরই মধ্যে বিভিন্ন বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের কাছ থেকে ফি নেওয়ার বিষয়টি সোমবার জানা গেছে।

উপজেলা শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, প্রথম শ্রেণিতে ২ হাজার ৮৮১ জন, দ্বিতীয় শ্রেণিতে ২ হাজার ৭৮৩ জন, তৃতীয় শ্রেণিতে ২ হাজার ৮৪৪ জন, চতুর্থ শ্রেণিতে ২ হাজার ৮৪১ জন এবং পঞ্চম শ্রেণিতে ২ হাজার ৮০১ জন শিক্ষার্থী রয়েছে।

সরেজমিনে সাতপোয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে কয়েকজন শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা বলে ফি দেওয়ার তথ্য পাওয়া যায়। প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী মাহীন, আরশি ও বাইজিদ জানায়, তারা প্রত্যেকে ২০ টাকা করে দিয়েছে। তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী আরমান দিয়েছে ৩০ টাকা। চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী দর্পণ জান্নাত জানিয়েছে, তারা ৪০ টাকা করে দিয়েছে। পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী মিষ্টিও ৫০ টাকা দেওয়ার কথা জানায়।

সরিষাবাড়ী মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী আবির জানায়, সে পরীক্ষার জন্য ৩০ টাকা দিয়েছে।

সাতপোয়া গ্রামের অভিভাবক আরিফা সুলতানা বলেন, তাঁর দুই মেয়ে প্রথম ও চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ে। দুই মেয়ের পরীক্ষার ফি হিসেবে তিনি মোট ৬০ টাকা জমা দিয়েছেন।

এ বিষয়ে সাতপোয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সাবরিন নাহার বলেন, অসুস্থ থাকায় তিনি সংশ্লিষ্ট সভায় উপস্থিত ছিলেন না। তাঁর বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক কামরুন নাহার হ্যাপি সভায় উপস্থিত ছিলেন। তাঁর কাছ থেকে তিনি জানতে পেরেছেন, উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা, সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা ও শিক্ষক নেতাদের উপস্থিতিতে পরীক্ষার ফি আদায়ের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছিল। সেই সিদ্ধান্তের ভিত্তিতেই শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ফি নেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা নির্দেশ দিলে আদায় করা পরীক্ষার ফি শিক্ষার্থীদের ফেরত দেওয়া হবে।

সরিষাবাড়ী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. ছানোয়ার হোসেন বলেন, “সরকারি প্রাথমিক শিক্ষা যেহেতু অবৈতনিক, সেক্ষেত্রে পরীক্ষার ফি নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। কেউ যদি নিয়ে থাকে এবং তার প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আফরোজা আফসানা বলেন, “উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে জামালপুর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলী আহসানের মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।

এদিকে পরীক্ষার ফি আদায়ের অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত, কোথায় কত টাকা নেওয়া হয়েছে তার হিসাব যাচাই এবং অনিয়ম প্রমাণিত হলে আদায়কৃত অর্থ ফেরত দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন অভিভাবক ও সচেতন মহল। একই সঙ্গে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মূল্যায়ন পরীক্ষা পরিচালনায় শিক্ষার্থীদের পরিবারের ওপর যেন অতিরিক্ত আর্থিক চাপ না পড়ে, সে বিষয়ে কার্যকর নজরদারির দাবি উঠেছে

Facebook Comments Box
এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ
© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৪ বাংলাদেশ খবর প্রতিদিন
প্রযুক্তি সহায়তায় Shakil IT Park