মোঃ মুকিম উদ্দিন জগন্নাথপুর প্রতিনিধি
সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার কলকলিয়া ইউনিয়নের শাহজালাল মহাবিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ সমাজ বিজ্ঞানের প্রভাষক আব্দুল মতিনের বিরুদ্ধে কলেজে অনুপস্থিতি সহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ করেন প্রভাষক সহ কলকলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও কলেজের শিক্ষার্থীরা। সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় থেকে অধ্যাবদি আব্দুল মতিন আত্মগোপনে আছেন। বিগত সরকারের সময় নির্মিত আইসিটি ভবনের কম্পিউটার রুমটি তালাবদ্ধ করে রাখা হয়েছে। ইতিমধ্যে একটি দরজার সিটকারী ভাঙা রয়েছে। বাথরুম সহ ক্লাসের আশেপাশে সিগারেটের বাক্স সহ ময়লা আর্বজনার স্তুপ পড়ে রয়েছে। এছাড়াও কলেজের সিসি ক্যামেরা থাকাবস্থায় তাহা নিয়ন্ত্রণ করা হয় আব্দুল মতিনের কলেজের বাসভবন থেকে এনকি রেকর্ডও করা হয়। একাদশ শ্রেণীর শিক্ষার্থী রুহুল আমিন বলেন, ভর্তি ফি দিয়েছি কিন্তু আমাদের মানি রিসিট দেওয়া হয়নি। শিক্ষার্থী সাদিকুর রাহমান বলেন, ২০ থেকে ৩০ টি কম্পিউটার থাকা সত্ত্বেও আমরা শিক্ষার্থীরা কোনদিন ল্যাব রুম দেখারও সুযোগ পাইনি। আরেকটি রুমে ১০টি ল্যাপটপ রয়েছে যা প্রতিটি ভাঙ্গা ও অকেজো। অথচ কোন শিক্ষার্থী ল্যাপটপ ব্যবহার করেনি। এদিকে গত ৯ সেপ্টেম্বর কলকলি ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান রফিক মিয়া শাহজালাল মহাবিদ্যালয়ের অবৈধ অধ্যক্ষ পদ থেকে অপসারণ চেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, সমাজবিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক আব্দুল মতিন বিধিবহির্ভূত ও অবৈধভাবে পূর্নাঙ্গ অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, ২০০২ সালে কলেজ প্রতিষ্ঠাকালিন সময়ে আব্দুল মতিনকে সমাজ বিজ্ঞান প্রভাষক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়, ২০১০ সালে কলেজটি এমপিওভুক্ত হলে আব্দুল মতিন সরকারি বেতনভুক্ত হন।
২০২১ নীতিমালা অনুযায়ী সর্ব নিম্ন উচ্চ মাধ্যমিক কলেজে অধ্যক্ষ হতে হলে ৩ বছরের প্রভাষকের দায়িত্ব পালনের অবিজ্ঞতা এমপিও ভুক্ত হওয়ার পর ৯ বছরের দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতাসহ অধ্যক্ষ হতে ১২ বছরের অবিজ্ঞাতা লাগবে কিন্তু আব্দুল মতিনের কোন ধরনের অভিজ্ঞতা না থাকা সত্বেও বিশেষ ধরনের গর্ভনিংবডিকে ম্যানেজ করে অধ্যক্ষ পদে নিয়োগ পেয়েছেন। অধ্যক্ষ পদে এমপিও ভুক্ত হবার আবেদন জানালে মাউশি কর্তৃপক্ষ সরাসরি আব্দুল মতিনের আবেদন বাতিল করেন। এ ব্যাপারে কলকলিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব রফিক মিয়া বলেন, আব্দুল মতিন হলেন সমাজ বিজ্ঞানের প্রভাষক, কিন্তু তিনি বিগত সময় থেকে অদ্যাবধি ফ্যাসিবাদী ব্যক্তিবর্গের ছত্র ছায়ায় অবৈধভাবে একই সাথে অধ্যক্ষ ও সমাজবিজ্ঞানের প্রভাষক হিসেবে দু'টি পদে দায়ীত্বপ্রাপ্ত আছেন।
শাহজালাল মহাবিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যক্ষ এনামুল কবির বলেন, অধ্যক্ষের অনিয়মের বিরুদ্ধে আমরা মানববন্ধন করেছি, বর্তমানে কলেজের সভাপতি ইউএনও বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছি, আমাদের অধ্যক্ষ ৯ সেপ্টেম্বর থেকে কাউকে কিছু না বলে এবং কাউকে দায়িত্ব না দিয়েই চলে গেছেন, তিনি অনুপস্থিত। প্রভাষকরা জানান, দুদকের মামলার প্রেক্ষিতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অর্ডারে ২৩ সালের সেপ্টেম্বর থেকে অধ্যক্ষ আব্দুল মতিনের বেতন এক বছর ধরে বন্ধ আছে। উল্লেখ্য, কলেজ তহবিল হতে প্রভাষকদের প্রাপ্য ৫ বছরের বেসরকারি অংশ ভাতাদি এবং ৮ বছরের বকেয়া প্রভিডেন্ট ফান্ড পরিশোধের দাবিতে গত ৯ সেপ্টেম্বর বৈষম্যের শিকার কলেজের প্রভাষকরা মানববন্ধন করেন এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করেন। শাহজালাল মহাবিদ্যালয়ের অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে দুটি অভিযোগের বিষয়ে জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আল বশিরুল ইসলাম বলেন, কলেজ শিক্ষক এবং এলাকাবাসীর পক্ষে দুটি আবেদন পেয়েছি এবং পরস্পর বিরোধী আবেদন রয়েছে, আবেদনে অনেক গুলো বিষয় তুলে ধরা হয়েছে, একটি তদন্ত কমিটি করে দেবো, তদন্ত কমিটি তাদের বিস্তারিত বিষয় দেখবে, তাদের ফান্ডের বিষয়, একাউন্ট এবং ডকুমেন্টস সহ অন্যান্য বিষয় দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।