
মোঃ তারেক রহমান মাল্টিমিডিয়া প্রতিনিধি
সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার শক্তিপুর ১০ শয্যাবিশিষ্ট মা ও শিশু স্বাস্থ্য কল্যাণ কেন্দ্রসহ চারটি স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ায় মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে চিকিৎসাসেবা। দীর্ঘদিনের বকেয়া বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ না করায় পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ এসব প্রতিষ্ঠানের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেছে। ফলে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন গর্ভবতী নারী, নবজাতক শিশু ও সাধারণ রোগীরা।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, শক্তিপুর মা ও শিশু স্বাস্থ্য কল্যাণ কেন্দ্রের পাশাপাশি গালা ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র, কায়েমপুর স্বাস্থ্য কল্যাণ কেন্দ্র এবং তালগাছি কমিউনিটি ক্লিনিকের বিদ্যুৎ সংযোগও বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার দুপুরে সরেজমিনে শক্তিপুর মা ও শিশু স্বাস্থ্য কল্যাণ কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, বিদ্যুৎ না থাকায় হাসপাতালের পরিবেশ অনেকটাই নিস্তব্ধ। তীব্র গরমে রোগী ও নবজাতকদের কষ্ট বেড়েছে। ফ্রিজে সংরক্ষিত টিকা ও জরুরি ওষুধ নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। হাসপাতালের বিভিন্ন কক্ষে পর্যাপ্ত আলো না থাকায় সেবাদান কার্যক্রমও ব্যাহত হচ্ছে।
হাসপাতাল ঘুরে দেখা যায়, এমআর রুম, আল্ট্রাসাউন্ড রুম, অপারেশন থিয়েটার, রোগীদের ওয়ার্ডসহ দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলার অধিকাংশ কক্ষ বন্ধ রয়েছে। কোটি টাকা মূল্যের আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম ও যন্ত্রপাতি ব্যবহারহীন অবস্থায় পড়ে আছে। এছাড়া পরিচ্ছন্নতার অভাবে হাসপাতালের বিভিন্ন স্থানে ময়লা-আবর্জনা জমে থাকতে দেখা যায়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হাসপাতালের এক কর্মকর্তা জানান, বিদ্যুৎ না থাকায় অনেক সময় মোমবাতি জ্বালিয়ে প্রসূতি মায়েদের সেবা দিতে হচ্ছে। ইনকিউবেটর, সাকশন মেশিনসহ গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসা সরঞ্জাম চালানো সম্ভব হচ্ছে না।
পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা মোছা. খাদিজা পারভীন ও ফার্মাসিস্ট মো. দেলোয়ার হোসেন জানান, প্রায় ১০ লাখ টাকা বিদ্যুৎ বিল বকেয়া থাকায় বুধবার পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে। তারা জানান, দীর্ঘদিন ধরে হাসপাতাল সংলগ্ন আবাসিক কোয়ার্টারে হাসপাতালের মিটার থেকেই বিদ্যুৎ ব্যবহার করা হয়েছে। বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন থাকায় গর্ভবতী নারী ও নবজাতকদের চিকিৎসা দিতে গিয়ে তারা চরম সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন।
তারা আরও জানান, হাসপাতালটিতে পরিবার কল্যাণ মেডিকেল অফিসার, স্বাস্থ্য পরিদর্শিকা, ফার্মাসিস্ট, টেকনোলজিস্ট, নার্স, আয়া ও পরিচ্ছন্নতা কর্মীসহ মোট সাতটি পদের বিপরীতে বর্তমানে ছয়জন কর্মী দায়িত্ব পালন করছেন। সম্প্রতি মেডিকেল অফিসার অবসরে গেলেও এখনো নতুন কাউকে নিয়োগ দেওয়া হয়নি।
এ বিষয়ে শাহজাদপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর ডিজিএম মো. সিদ্দিকুর রহমান বলেন, শক্তিপুর মা ও শিশু স্বাস্থ্য কল্যাণ কেন্দ্রের ৯ লাখ ৫৩ হাজার ৯১৬ টাকা, গালা ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের ৩ লাখ ৬৭ হাজার ৫০১ টাকা, তালগাছি কমিউনিটি ক্লিনিকের ৩৮ হাজার ৩১১ টাকা এবং কায়েমপুর স্বাস্থ্য কল্যাণ কেন্দ্রের ২৫ হাজার ৬৪ টাকা বিদ্যুৎ বিল বকেয়া রয়েছে। একাধিকবার নোটিশ দেওয়ার পরও বিল পরিশোধ না করায় নিয়ম অনুযায়ী সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে।
উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. হাসান তারেক বলেন, শক্তিপুর মা ও শিশু স্বাস্থ্য কল্যাণ কেন্দ্রের বিদ্যুৎ বিল পরিশোধের জন্য বর্তমানে কোনো বরাদ্দ নেই। আবাসিক কোয়ার্টারের জন্য পৃথক মিটার না থাকায় হাসপাতালের মিটার থেকেই বিদ্যুৎ ব্যবহার করা হয়েছে। বরাদ্দ পাওয়া গেলে বকেয়া বিল পরিশোধের ব্যবস্থা করা হবে। পাশাপাশি অন্যান্য তিনটি স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানের বকেয়া বিল পরিশোধের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত বকেয়া বিল পরিশোধ করে স্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলোর বিদ্যুৎ সংযোগ পুনঃস্থাপন করা না হলে জনস্বাস্থ্য সেবা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং সাধারণ মানুষ আরও ভোগান্তির শিকার হবেন।