
মোঃ তারেক রহমান মাল্টিমিডিয়া প্রতিনিধি
সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে সরকারি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, সেনাবাহিনী এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের স্বাক্ষর ও সিল জালিয়াতি করে নদী থেকে তোলা অবৈধ বালু বিক্রির চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর থানায় ৩ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা ৪/৫ জনকে আসামি করে একটি এজাহার দায়ের করা হয়েছে। শাহজাদপুর উপজেলা ভূমি অফিসের নাজির কাম-ক্যাশিয়ার রতন কুমার সাহা বাদী হয়ে গত ১৪ সেপ্টেম্বর এ মামলা দায়ের করেন।
মামলার এজাহারভুক্ত আসামিরা হলেন— মোছাঃ মিনা খাতুন (৩৯), রাজীব মোসাব্বের (৪২) এবং মেসার্স শিমুল কনস্ট্রাকশন ও মায়ার লিমিটেডের সাইড ম্যানেজার মোঃ রাসেল রানা (৩৬)।
এজাহারে উল্লেখ করা হয়, গত ১৪ সেপ্টেম্বর সকাল ১০টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায় যে, শাহজাদপুর থানাধীন চরনবীপুর গ্রামস্থ করতোয়া ব্রিজের পূর্ব পাশে কতিপয় ব্যক্তি অবৈধভাবে বালু বিক্রির উদ্দেশ্যে কার্যক্রম শুরু করেছে। খবর পেয়ে উপজেলা ভূমি অফিস ও সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের স্টাফরা যৌথভাবে বেলা ১১:৩০ ঘটিকায় ঘটনাস্থলে অভিযান চালান।
অভিযানের সময় উপস্থিত আসামিরা সরকারি অনুমোদন আছে দাবি করে কিছু কাগজপত্র উপস্থাপন করেন। তবে কাগজপত্র পর্যালোচনায় দেখা যায়, আসামিরা সিরাজগঞ্জের জেলা প্রশাসক, পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ২৪ ব্রিগেড ইঞ্জিনিয়ার এবং শাহজাদপুরের সহকারী কমিশনারের (ভূমি) স্বাক্ষর জালিয়াতি ও স্ক্যান করে ভুয়া নথি তৈরি করেছেন।
এমনকি সরকারি জমি ও সম্পদ আত্মসাৎ করতে মেকি সিল-মোহর ব্যবহার করে জালিয়াতির আশ্রয় নেওয়া হয়েছে। তদন্তে দেখা যায়, নথিতে উল্লেখিত স্বাক্ষরের তারিখে সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিসেবে যার নাম ব্যবহার করা হয়েছে, তিনি ঘটনার প্রায় ১ মাস আগেই অন্যত্র বদলি হয়ে যান।
প্রতারণার বিষয়টি ফাঁস হয়ে গেলে আসামিরা কৌশলে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসন আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করছে।