
বেবি চক্রবর্ত্তী:- শনিবার কলকাতা সেন্ট্রাল মেট্রো স্টেশনের বিপরীতে অবস্থিত বিপ্লবী লীলা রায় সভা ঘরে লেখনী সাহিত্য পরিষদ বার্ষিক বৈশাখী উৎসব - এর আয়োজিত হয়। এখানে জ্ঞান ও সাহিত্য চেতনার আলোকায়নের প্রতীক হিসেবে একটি ঐতিহ্যবাহী প্রদীপ প্রজ্বলনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানটি শুরু হয়। এই অনুষ্ঠান চলাকালীন, চারটি সাম্প্রতিক সাহিত্যকর্ম উন্মোচন করা হয়, যা সমসাময়িক সাহিত্যের সমৃদ্ধি ও বৈচিত্র্যের প্রতি দর্শকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। ড. পার্থ প্রতিম বিশ্বাস ও ড. রুণা পালের সম্পাদনায় বিভিন্ন কবির লেখার সংকলন “লেখনী বৈশাখী কবিতা গ্রন্থ", “লে ন চৈ ই” লিটল ম্যাগাজিনের বিগত চারটি সংখ্যা এবং ঝরনা দত্ত, অপর্ণা পাতর, রণজিৎ ভট্টাচার্য রঞ্জন তিনজনের একক কবিতার বই এর মোড়ক উন্মোচন করা হলো। বৈশাখী উৎসবের উদযাপনটি ছিল শৈল্পিক প্রতিভার এক প্রাণবন্ত প্রদর্শনী, যেখানে কবিতা আবৃত্তি, সুমধুর সঙ্গীত, ঐতিহ্যবাহী ও সমসাময়িক নৃত্যশৈলী, শ্রুতি নাটক এবং কমেডি নৃত্যের মতো বিভিন্ন ধরনের পরিবেশনা ছিল। বেশ কয়েকজন বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বের অংশগ্রহণ অনুষ্ঠানটির মর্যাদা বৃদ্ধি করেছিল এবং ঠাসা কর্মসূচি দর্শকদের সম্পৃক্ত করে তুলেছিল।দূরদর্শন সঞ্চালিকা ও বাচিক শিল্পী নন্দিনী লাহা আজ এক জনপ্রিয় নাম। আবৃত্তিতে ধনী প্রক্ষেপণ দিয়ে তিনি সবাইকে মোহাবিষ্ট করে রেখেছিলেন । রতন সাহার নৃত্য পরিবেশনা বিশেষভাবে প্রশংসিত হয়, যা তার অভিব্যক্তিপূর্ণ কোরিওগ্রাফি দিয়ে দর্শকদের মুগ্ধ করে। এছাড়াও,সুরকল্লোলের স্রষ্টা অনুরাধা দে-র 'আমরা সবাই ভালো' শিরোনামের শ্রুতি নাটকটি তার অভিনব আখ্যান এবং আবেগঘন গভীরতার জন্য ব্যাপক প্রশংসা লাভ করে। অনুষ্ঠানের এর একটি অন্যতম আকর্ষণ ছিল কিংবদন্তী সলিল চৌধুরীর রচনা ও স্বপন বসু-এর কণ্ঠে জনপ্রিয় গান "ওহে নন্দলাল, শুনছি নাকি মেয়ের বিয়ে" ব্যঙ্গাত্মক গানের সঙ্গে সঞ্জয় বিশ্বাসের কৌতুক নৃত্য পরিবেশনা, যা বিপুল করতালির মাধ্যমে সমাদৃত হয়।
পাশাপাশি এই দিন উপস্থিত ছিলেন লেখিকা লীনা চাকী, ড. সিরাজুল ইসলাম ঢালী এবং প্রখ্যাত আনন্দ পাবলিশার্সের নিগমানন্দের মতো বিশিষ্ট অতিথিরা। লীনা চাকীর সাম্প্রতিক বই ‘ফেরিওয়ালা অ্যান্ড ট্রেন-হকার’ বইটিতে হকারদের সংগ্রামের প্রাণবন্ত চিত্রায়ণ এবং তাদের দৈনন্দিন কষ্ট ও সহনশীলতার উপর যে ভাবে আলোকপাত করেছেন তা আজও পাঠক মহলে আলোচিত হয়। অনুরাধা দে তাঁর শ্রুতিমধুর কন্ঠে মুখ্য সঞ্চালিকার ভূমিকায় অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন ।
ত্রিপুরা, বেঙ্গালুরু, ওড়িশা এবং বাংলাদেশ সহ বিভিন্ন অঞ্চলের প্রতিনিধিরা এই অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন এবং তাঁদের একত্রিত হওয়ার মঞ্চ হিসাবে উৎসবে ছিলেন। এছাড়াও পরিষদের মুখ্য সংগঠক অমলেশ ঘোষ সুচারুভাবে পুরো অনুষ্ঠান দারুণভাবে পরিচালনা করেছেন। তিনি বলেন যে "অফুরন্ত চালিকা শক্তিকে কুর্ণিশ জানাই।এডমিন ও মডারেটর এবং কবি বন্ধুদের ভালোবাসায় লেখনী সাহিত্য পরিষদ নিরন্তর এগিয়ে চলেছে। এই বর্ণময় অনুষ্ঠানের কিছু ছবি স্মৃতির ক্যামেরায় বন্দি হয়ে রইল।"