
বেবি চক্রবর্ত্তী:- লোকমাতা রাণী রাসমণির ২৩২-তম জন্মদিন পালন অনুষ্ঠানে রাসমণি ধাম গঠনের প্রস্তাব নেওয়া হলো। লোকমাতা রানী রাসমণি আবির্ভাব তিথি উদযাপন কমিটির উদ্যোগে হালিশহরের নিকটবর্তী চরনন্দনবাটি রানী রাসমণি ঘাট সংলগ্ন জগন্মাতা রামকৃষ্ণ সেবাশ্রম সঙ্ঘ আশ্রমের মাঠে এই অনুষ্ঠান হয়। অনুষ্ঠানের মুখ্য ব্যবস্থাপক সিদ্ধানন্দ পুরকাইত এই প্রস্তাব পেশ করেন। তিনি জানান যে,রানী রাসমণি চর্চার স্থায়ী কেন্দ্র গঠনের প্রস্তাব দেন। এই কেন্দ্র থেকে রানী রাসমণির জীবনাদর্শ চর্চা কেন্দ্র হিসাবে এই ধাম কাজ করবে। একই সঙ্গে শিক্ষা, সংস্কৃতি ও সেবা মূলক কর্মকান্ড পরিচালনার মাধ্যমে অনগ্ৰসর সমাজের উন্নয়নে বিশেষ নজর নেওয়া হবে।
সকালে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা চরনন্দনবাটি, শহীদ পল্লী, বাগমোড়, পৈত্রিক নিবাস গোলাবাড়ি প্রভৃতি এলাকা পরিক্রমা করে। হালিশহরের বাগমোড়ে অবস্থিত রানী রাসমণির মূর্তিতে পুষ্পার্ঘ্য দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন স্বামী কালীকৃষ্ণানন্দ মহারাজ এবং রানী রাসমণির সংক্ষিপ্ত জীবনাদর্শ আলোচনা প্রসঙ্গে তাঁকে ভারতীয় ধর্ম সংস্কৃতির নবজাগরণের প্রতীক বলে চিহ্নিত করেন বিশিষ্ট আইনজীবী তপনকান্তি মণ্ডল।
এরপর মূল মঞ্চে নক্ষত্র সমাবেশ ঘটে। চিকিৎসক, অধ্যাপক, শিল্পী, সাহিত্যিক আইনজীবী, প্রযুক্তিবিদ, প্রাক্তন পুলিশ অধিকর্তা প্রমুখ বহু গুণী মানুষের সমাগম ঘটে। পশ্চিম বঙ্গের প্রায় সকল জেলার ভক্ত অনুরাগী ও সাধারণ মানুষ এই অনুষ্ঠানে যোগ দেন। সভায় রানী রাসমণির জীবনের নানা দিক নিয়ে পর্যালোচনা করেন স্বামী পরমাত্মানন্দ পুরী, অধ্যাপক ডঃ ভাস্কর মহানায়ক, ডঃ জয়দেব বিশ্বাস, ডঃ কুঞ্জবন বিশ্বাস, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অরুণ কুমার মাজী, ডাঃ বৈদ্যনাথ মণ্ডল, ডঃ অমিয় সামন্ত, আই,পি, এস ,(অবসরপ্রাপ্ত) প্রমুখ। স্বাগত ভাষণ দেন আয়োজক সংস্থার উপদেষ্টা লোহারাম রায়। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন কোচবিহার থেকে অধ্যাপক অভিজিৎ গোলুই, মুর্শিদাবাদের আইনজীবী অনিকেত জোয়ারদার, ডায়মন্ড হারবারের নীহার রঞ্জন মণ্ডল, অধ্যাপক ডঃ অমিয় বাউল, সঙ্গীত পরিবেশন করেন দীপান্বিতা দাস বিশ্বাস, মনালি পুরকাইত, সত্যরঞ্জন বিশ্বাস এবং রানাঘাট সিঙ্গার্স অ্যাসোসিয়েশনের শিল্পীরা। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন স্বামী শ্রীধরানন্দ মহারাজ।