
আব্দুল হাকিম সবুজ,রাজারহাট (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি
কুড়িগ্রামের রাজারহাটে তিস্তা নদীর তীর সংরক্ষণ প্রকল্পে অনিয়ম ও দুর্নীতির সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে ‘ওয়ার্ক এসিস্ট্যান্ট’ শাহিন আলম কর্তৃক এক সাংবাদিক হেনস্থার শিকার হয়েছেন।
গত ৮ এপ্রিল দুপুরে উপজেলার বিদ্যানন্দ ইউনিয়নের চতুরা কালিরমেলা এলাকায় প্রকল্পের ৩ নম্বর প্যাকেজে এই ঘটনা ঘটে।
অভিযুক্ত কর্মচারী ওই সাংবাদিককে হেনস্থা করার পাশাপাশি ডিজিটাল মাধ্যমে অপপ্রচারের ভয়ভীতি ও দলীয় ক্যাডার দিয়ে শায়েস্তা করার হুমকি প্রদান করেন।
সরেজমিনে তদন্তে ও স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, রাজারহাটের ঘড়িয়ালডাঙ্গা ও বিদ্যানন্দ ইউনিয়নের তিস্তা নদীর ভাঙন রোধে কোটি কোটি টাকার সরকারি প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়ম চলছে।
৩ নম্বর প্যাকেজের স্লোপ কার্পেটিংয়ের কাজে নিম্নমানের বালু ও সিমেন্ট ব্যবহার এবং জিও ব্যাগের ওজন কম দেওয়ার অভিযোগ করে আসছেন এলাকাবাসী।
গত কয়েকদিনের অনুসন্ধানে সাংবাদিক হাফিজুর রহমান বেশ কিছু বস্তায় অনিয়ম খুজে পান। গত বুধবার দুপুরে তিনি সহ তার সহকর্মী ওজন মাপার মেশিন ও শ্রমিকদের নিয়ে বস্তার সঠিক ওজন যাচাই করতে গেলে বাধার মুখে পড়ে।
ভুক্তভোগী অভিযোগ করেন, প্রকল্পের ওয়ার্ক এসিস্ট্যান্ট শাহিন আলম কাজ পরিদর্শনে যাওয়া সাংবাদিকের ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন এবং শ্রমিকদের ওজন করতে নিষেধ করেন। এসময় তিনি ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ করে বলেন, "আপনার মতো বহু সাংবাদিক দেখেছি।
পারলে নিউজ করেন।
কাজ যেভাবে চলছে সেভাবেই চলবে।" এক পর্যায়ে শাহিন আলম ওই সাংবাদিকের ক্যামেরা ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। এতে ব্যর্থ হয়ে তিনি নিজের মোবাইল ফোনে সাংবাদিকের ভিডিও ধারণ করেন এবং জনসম্মুখে হুমকি দেন যে,ভিডিওটি ফেসবুকে ছড়িয়ে দিয়ে তাকে ‘চাঁদাবাজ’ হিসেবে সাব্যস্ত করা হবে।
শুধু তাই নয়, শাহিন আলম রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে দলীয় ক্যাডার দিয়ে সাংবাদিককে দেখে নেওয়ার হুমকিও দেন বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, এই অঞ্চলে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কাজ নিয়ে স্থানীয়দের ক্ষোভ নতুন কিছু নয়। ইতিপূর্বে কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার বিদ্যানন্দ ইউনিয়নে চতরা মৌলভীপাড়া এলাকায় অনিয়মের প্রতিবাদে এলাকাবাসী কাজ বন্ধ করে দেন।রবি এন্টারপ্রাইজ নামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ৭ মিটার সিনথেটিক জিও ব্যাগের পরিবর্তে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ ছিল। এছাড়াও ১ কোটি ৩৭ লাখ টাকার তিস্তা প্রকল্পে নিম্নমানের কাজের অভিযোগে ইতিপূর্বে টেকনিক্যাল টাস্কফোর্স ৬ হাজার জিও ব্যাগ বাতিল ঘোষণা করেন।
সরকারি বিধিমালা অনুযায়ী জিও ব্যাগের পুরুত্ব ৩ মিলিমিটার হওয়ার কথা থাকলেও অনেক ক্ষেত্রে তা বজায় রাখা হচ্ছে না।
ভুক্তভোগী সাংবাদিক হাফিজুর রহমান, প্রতিনিধি দৈনিক প্রতিদিনের কাগজ ও দৈনিক কালনেত্র, বৃহস্পতিবার সকালে কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী বরাবর লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন।অভিযোগে তিনি শাহিন আলমের অপেশাদার ও উদ্ধত্বপূর্ণ আচরণের বিরুদ্ধে বিভাগীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।আবেদনের অনুলিপি বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের মহাপরিচালককে পাঠানো হয়েছে।
এই বিষয়ে কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। রেল-নৌ যোগাযোগ ও পরিবেশ উন্নয়ন গণকমিটির সংগঠক খন্দাদকার আরিফ বলেন সরকারি প্রকল্পের অর্থ তছরুপ বন্ধে এবং গণমাধ্যমকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে অবিলম্বে অভিযুক্ত কর্মচারীর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।