
বেবি চক্রবর্ত্তী : – রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের সংকটময় সময়ে রাজনৈতিক দলবদলের পারা আবার চড়ল। এবার বিজেপি, বামফ্রন্ট ও কংগ্রেস শিবিরে বড় ধস। সোমবার মেদিনীপুর বিধানসভা ও খড়গপুর গ্রামীণ বিধানসভায় আয়োজিত দুই জনসভায় এই তিন দল ত্যাগ করে লোক জনশক্তি পার্টি (রামবিলাস)-এ যোগ দিলেন প্রায় দেড়শতাধিক কর্মী-সমর্থক। জেলা সভাপতির উপস্থিতিতে নবাগতদের হাতে দলীয় পতাকা তুলে দেওয়া হয়। দীর্ঘদিনের বিজেপি-বামের শক্ত ঘাঁটি এলাকায় এই যোগদান সমীকরণ বদলে দিয়েছে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। যোগদানকারীদের মধ্যে প্রভাবশালী বুথ-স্তরের নেতারাও রয়েছেন। দলীয় সূত্রানুসারে, বিজেপি থেকে ৭০ জন, বামফ্রন্ট থেকে ৫০ জন এবং বাকিরা কংগ্রেস থেকে।বিজেপি-কংগ্রেস কর্মীরা নেতৃত্বের অন্তর্দ্বন্দ্ব ও নিম্নতলার অবহেলার অভিযোগ তুললেন। বাম সমর্থকরা চিরাগ পাসওয়ানের ‘বিহার ফার্স্ট, বিহারি ফার্স্ট’ নীতি ও জাতীয় উন্নয়ন ভাবনায় অনুপ্রাণিত হয়ে এসেছেন বললেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাজ্য সভাপতি মহম্মদ রফিক আলী, সহ-সভাপতি সেলিম মোল্লা, লালন পাসওয়ান, জেলা সভানেত্রী কাকলি দেবনাথসহ নেতৃত্ব বৃন্দ।রাজ্য সভাপতি রফিক আলী বললেন, “এটি শুরু মাত্র। আগামী দিনে আরও বড় চমক আসছে। মানুষ বুঝেছে, একমাত্র এলজেপি প্রকৃত পরিবর্তন আনে।” সহ-সভাপতি সেলিম মোল্লা যোগ করলেন, “দেশের উন্নয়নমুখী নীতি এবং নিম্নতলার কণ্ঠস্বর শোনার প্রতিশ্রুতিতে এই যোগদান। বিধানসভায় লোকজেপির শক্তি বাড়বে, তৃণমূলের একচ্ছত্রতা ভাঙবে।”
মেদিনীপুর-খড়গপুরের এই ভাঙন বিজেপির ঐতিহ্যবাহী আসনে চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। লোকজেপির বিহার-কেন্দ্রিক মডেল পশ্চিমবঙ্গে পাসওয়ান সম্প্রদায়কে টার্গেট করে প্রসার লাভ করছে। নির্বাচনী সমীকরণে এটি বিরোধীদের জোটকে তাজা শক্তি যোগাবে, তৃণমূলকে সতর্ক করবে।