লেখক: খন্দকার মোহাম্মাদ আলী বাবু
বর্তমান রাজনৈতিক পেক্ষাপটে দৃশ্যমান ঘটনা জনমনে ব্যপাক চাঞ্চল সৃষ্টি করেছে। হতাশা,নিরাশার মাঝে সাধারণ মানুষ দিশেহারা। রাজনীতির সাথে জড়িত ব্যক্তিরা পথ হাড়া পথিকের মত হয়েছে। এর মাঝে জ্ঞানীরা ভাবনার অন্তরালে ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে পরিত্রাণের কথা ভাবছে। কর্মজীবীরা অলসমনে কাজ করতে গিয়ে জিবন জীবিকার অন্ধকারে হাবুডুবু খাচ্ছে।বেকার জীবনের বোঝা নিয়ে কোটি কোটি মানুষের স্বপ্ন এক দুঃস্বপ্নে প্ররিনত হচ্ছে। সময় সে তো তার গতিতেই চলছে সাভাবিক ভাবে, শিশুরা যুবক হচ্ছে, যুবকরা বৃদ্ধ হচ্ছে সময়ের ব্যবধানে। অজ্ঞরা জ্ঞানী হচ্ছে জ্ঞানীরা প্রবীন ও স্হবীর হচ্ছে। প্রকৃতির হাজারো নিয়ামত খেয়ে ও ব্যবহার করে বেঁচে থাকা মানুষগুলো শুধুই বহন করে চলছে রক্ত, মাংস,হাড়ে গড়া দেহগুলো। বেঁচে থাকার মাঝে সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ অর্জন হলো মানুষের মাঝে মনুষ্যত্বের বিকাশ করা।
প্রকৃত মানুষ রুপের মাঝে দৃশ্যত মানুষ হওয়া।কিন্তু দুঃখের বিষয় রাজনীতিতে আদর্শ না থাকায় মানুষ আজ ক্ষমতার বলে অমানুষ হচ্ছে। ধর্মের সঠিক জ্ঞান না থাকায় জ্ঞান ব্যবসায়িরা অন্য মানুষগুলোকে আরো অন্ধকারে নিমজ্জিত করছে। ক্ষুধা নিবারনে খাদ্য সংগ্রহে ভেজাল খাদ্যে জিবন বিপন্ন করছে। শিক্ষা আঙ্গনে অশিক্ষা,কুশিক্ষায় জীবনের মুল্যবান সময় গুলে নষ্ট করছে।ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে কাণ্ডজ্ঞানহীন জড়বস্তুর মত আতুর করতে মাদকের ভয়াবহতা ছড়িয়ে দিয়েছে। একটা মুসলিম সভ্য জাতিতে ধংস করতে মাদক, শিক্ষাব্যবস্হায় কুশিক্ষা, জ্ঞান চর্চার মাধ্যমগুলো শয়তানের লেজুর ভিত্তিক মাধ্যমে পরিনত করছে। স্রষ্টার সৃষ্টির অফুরন্ত নিয়ামত রাশির শুকুরিয়া ভুলে গিয়ে কৃত্তিম পল্লবীতে পুলকিত হচ্ছে মানুষ অজানা ধংসের উদ্দেশ্যে।
যার কারণে মানুষের মস্তিষ্কে স্থান পাচ্ছে না ভালো কিছু করার প্ররিকল্পনাগুলো। শুধু ধংসের নতুন নতুন প্ররিকল্পনা কিছু মেধাবীদের মস্তিষ্কে অহেতুক মাকড়সার জালের মতো বিস্তার করে আছে শিকারী ধরার ফাটকের মতো। প্রতিনিয়ত সেই ফাটকে শিকার হচ্ছে সহজ সরল মানুষগুলো। বর্তমান পেক্ষাপটে বিশ্ব রাজনীতির ছায়াতলে আশ্রয় নেওয়া ব্যক্তিরাই বেশি ক্ষতিগ্রস্ত দৃশ্যমান হচ্ছে। রাজনীতির মূল সেবাটাই মানুষের জন্য নীতি বাক্য হলেও সেটা এখন দূর্ভাগ্য হয়ে পরেছে রাজনীতির বাস্তব পেক্ষাপটে।
রাজনীতির ছায়াতলে আশ্রয় নেওয়া ব্যক্তিরাই সমাজে ভয়াংকর অপরাধী হিসেবে পরিচিত হচ্ছে। হামলা,মামলা,হত্যা,গুম,খুন,ফাঁসি,জেল, জুলুম, চুরি, ডাকাটি, ধর্ষণসহ অবৈধ হাজারো কাজে জড়িয়ে নিজেকে যেমন অপরাধী ও কলঙ্কিত করছে তেমনি তার পরিচয়টা এক সময় তার পুরো পরিবারকে ধংসের দ্বার প্রান্তে পৌঁছে দিচ্ছে। অবশেষে লোক চক্ষুর আড়ালে গিয়ে জিবন রক্ষা করতে হচ্ছে তাকে। একদিকে আইনের শাসন তাড়া করে অপরদিকে জনগন খুঁজে ফেরে তার কলঙ্কিত মুখ। যে জনগন এক সময় ফুলের মালা গলায় পড়িয়ে রাজনীতির নেতাকে সম্মান করত সেই জনগনই জুতার মালা দিতে অথবা হত্যা করতে মরিয়া হয়ে ওঠে। এমন মর্মান্তিক এক পরিনতির নাম রাজনীতি আর এই রাজনীতির প্রতিচ্ছবি বহন করে চলা গণমাধ্যমগুলো এক সময় তাদের আগুলে জ্বলে পুড়ে ধংস হয়। অবশেষে জনস্বার্থে নিঃস্ব হয়ে ফিরে আসে ভালো মানুষগুলোর স্বভাব চরিত্র নকল করে রাজনীতির নেতা ও গণমাধ্যমের কিছু কর্তা ব্যক্তিরা। এদের ফিরে আসা নকল স্বভাব চরিত্র যেনো সমাজের ভালো মানুষগুলোকে আর ধংস করতে না পারে তার জন্য নিরপেক্ষ সৎ বিবেকবান ব্যক্তিদের সজাক দৃষ্টি যেনো যুদ্ধের তরবারীর মতই কার্যকর হয়।