
মো: আজাদ হোসেন, যশোর জেলা প্রতিনিধি: যশোর-বেনাপোল মহাসড়কের ঝিকরগাছা থানাধীন সদর ইউনিয়নের লাউজানী রেলক্রসিং এলাকায় হাইওয়ে পুলিশ ও থানা পুলিশের নিয়মিত তল্লাশির সময় বৈধ কাগজপত্র ও ড্রাইভিং লাইসেন্সবিহীন অনেক মোটরসাইকেল, প্রাইভেটকার ও ইজিবাইক চালক পুলিশের চোখ এড়াতে বিকল্প গ্রামীণ সড়ক ব্যবহার করছেন। এতে লাউজানী-জয়কৃষ্ণপুর গ্রামের ভেতরের সড়কে বেপরোয়া গতিতে মোটরসাইকেল, প্রাইভেটকার ও ইজিবাইক চলাচল বেড়ে যাওয়ায় জননিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, তল্লাশির সময় অনেক মোটরসাইকেল, প্রাইভেটকার ও ইজিবাইক চালক যশোর সদর ইউনিয়নের গাজীর দরগাহ তেলপাম্প হতে জয়কৃষ্ণপুর গ্রামের ভেতরের সড়ক দিয়ে লাউজানী গ্রাম অতিক্রম করে পুনরায় মহাসড়কে উঠে যান। দ্রুত পালিয়ে যাওয়ার উদ্দেশ্যে অতিরিক্ত গতিতে মোটরসাইকেল, প্রাইভেটকার ও ইজিবাইক চলাচল গ্রামের সরু সড়ক ব্যবহারকারী সাধারণ মানুষের জন্য ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন অসংখ্য স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, শিশু, নারী, বয়স্ক ব্যক্তি ও পথচারীরা চলাচল করেন। বেপরোয়া মোটরসাইকেল, প্রাইভেটকার ও ইজিবাইক চলাচলের কারণে যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে তারা আশঙ্কা করছেন।
লাউজানী গ্রামের বাসিন্দা হোসেন আলী বলেন, পুলিশ মহাসড়কে তল্লাশি শুরু করলেই অনেক মোটরসাইকেল, প্রাইভেটকার ও ইজিবাইক গ্রামের রাস্তা দিয়ে দ্রুতগতিতে ছুটে যায়। আমাদের শিশুদের নিয়ে সব সময় দুশ্চিন্তায় থাকতে হয়, প্রশাসনের উচিত এই বিকল্প সড়কেও নজরদারি বাড়ানো।
জয়কৃষ্ণপুর গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, গ্রামের রাস্তা সাধারণ মানুষের চলাচলের জন্য। কিন্তু এখন প্রায়ই মোটরসাইকেলগুলো এত দ্রুতগতিতে চলে যে রাস্তা পার হতে ভয় লাগে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, শুধু মহাসড়কে নয়, তল্লাশির সময় বিকল্প গ্রামীণ সড়কেও নজরদারি জোরদার, প্রয়োজনে অস্থায়ী পুলিশি টহল, ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা চালু এবং আইন অমান্যকারী মোটরসাইকেল, প্রাইভেটকার ও ইজিবাইক চালকদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, এতে দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমবে এবং লাউজানী, জয়কৃষ্ণপুরসহ আশপাশের এলাকার মানুষ নিরাপদে চলাচল করতে পারবে।