মোঃমহাজামিল,স্টাফ রিপোর্টার
শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্টের আওতায় জাতীয় বিশ্বিবিদ্যালয় অধীনে মোহনপুর সরকারি কলেজ ৪ জন মেধাবী শিক্ষার্থীদের মাঝে উপবৃত্তির চেক বিতরণ করা হয়।জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কলেজ-শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক (পাস) ও সমমান পর্যায়ের অধ্যয়নরত আর্থিকভাবে অসচ্ছল পরিবারের মেধাবী শিক্ষার্থীদের শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্টের আওতায় ২০২৫ সালে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে উপবৃত্তি, টিউশন ফি ও অন্যান্য সুবিধা অনার্স ৪র্থ বর্ষ আবু জাফর মাসুদ, শাপলা খাতুন, রাজিয়া খাতুন, ইসমা খাতুন নিপা ৬ হাজার টাকা চেক বিতরন করা হয় ।
চেক বিতরন করেন (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যক্ষ শেখ মোঃ বানী ইয়ামিন বখতিয়ার উপস্থিত ছিলেন সহকারী অধ্যাপক একে এম সুলতানুল ইসলাম,সহকারী অধ্যাপক সাইফুল ইসলাম, প্রভাষক মফিজুর রহমান মধু, প্রভাষক আশরাফুল আলম, প্রদর্শক মোজাম্মেল হক, প্রধান সহকারী ওয়াহিদুজ্জামান মোহন প্রমুখ।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ধার্যকৃত বর্ধিত ১৩৫০ টাকা ফি ট্যাগ লাগিয়ে রহস্যজনক কারণে গর্বিত মোহনপুর সরকারী কলেজ ও অধ্যক্ষের কাঁধে অপবাদ চাপিয়ে গুটি কয়েক শিক্ষার্থী মিছিলের চেষ্টা করেছে । জানা গেছে,গত সোমবার ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫,বর্ধিত ফি ও অন্যান্য খাতে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ এনে মোহনপুর সরকারী কলেজের কয়েকজন দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী মিছিলের চেষ্টা চালায় । কয়েকজন শিক্ষার্থীর এমন অভিযোগ ও মিছিল বিষয়ে জানতে চাইলে মোহনপুর সরকারী কলেজ অধ্যক্ষ মোঃ বানী ইয়ামিন বখতিয়ার ডকুমেন্ট সহ জানিয়েছেন, “কোন ক্রমেই শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে একটি পয়সাও বেশী নেয়া হয়নি। প্রকৃত ঘটনা হলো, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় স্বারক নং জাতীঃ বিঃ/পনি/অর্নাস ২য় বর্ষ/৪৬/২০২৩/২০২৪/১০১৯০ ৭ জুলাই ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ ২০২৩ সালের অর্নাস ২য় বর্ষ পরীক্ষার ফরম পূরণের বিজ্ঞপ্তি তুলনায় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় স্বারক নং জাতীঃ বিঃ/পনি/অর্নাস ২য় বর্ষ/৪৬/২০২৪/১০৩০০ ২১ আগষ্ট,২০২৫ পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় মোঃ এনামুল করিম স্বাক্ষরিত খ্রিস্টাব্দ ২০২৪ সালে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ১৩৫০ টাকা বেশী ধার্য করেছে।
বিষয়টি না জেনে না শুনেই কয়েকজন শিক্ষার্থী মিছিলের চেষ্টা করেছে। যা নিতান্তই দুঃখজনক, অনভিপ্রেত এবং অনাকাঙ্ক্ষিত। আর সেশন চার্জসহ অন্যান্য খাত অপরিবর্তিত রয়েছে”। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে গিয়েও কলেজ অধ্যক্ষের দেয়া তথ্যের মিল পাওয়া গেছে। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কতৃপক্ষ দ্বিতীয় বর্ষের ফি বাবদ ২০২৩ সালের চেয়ে এবার ২০২৪ সালে ১৩৫০ টাকা ফি (ব্যবহারিক ব্যতীত, ব্যবহারিক ভেদে বেশী হবে) বেশী ধার্য করেছে। যে কেউ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে গেলে ফি সংক্রান্ত তথ্য জানতে পারবেন।এছাড়াও ২০১৮ বিধি মোতাবেক রাজশাহী জেলার জাতীয়করণ কলেজ গুলোতে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, তাদের তুলনায় মোহনপুর সরকারী কলেজ অনেক কম খরচে শিক্ষার্থীদের সুযোগ করে দিয়েছে। বরং মোহনপুরের গর্বিত এই সরকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বেশী ফি আদায় দুরের কথা, তুলনামূলক কম খরচে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা বান্ধবের পথ সুগম করতে আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
এদিকে মোহনপুর সরকারী কলেজ অধ্যক্ষ মোঃ বানী ইয়ামিন বখতিয়ারের ব্যক্তিত্ব সম্পর্কে জানতে গেলে জানা যায়, বাল্যকাল থেকেই দলমত নির্বিশেষে সকলের কাছে একজন শতভাগ পরিচ্ছন্ন ইমেজ সম্পন্ন মানুষ হিসেবে সমাজে সমাদৃত। সম্পূর্ণ বিতর্ক মুক্ত এই মানুষটি এবং প্রতিষ্ঠানটিকে একটি মহল কলুষিত ও বিতর্কিত করে স্বার্থ সিদ্ধির চেষ্টায় গায়ে কাদা ছিটিয়ে গুটি কয়েক শিক্ষার্থীকে উৎসাহিত করে এমন দুরভিসন্ধি মিছিলের চেষ্টা চালিয়েছে মর্মে সাধারণ মানুষ জানিয়েছেন। যা কোন ক্রমেই বিশ্বাস যোগ্য নয়। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের অনেকেই জানেন না, বর্তমান নানান ইস্যু নিয়ে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীরা আন্দোলন করছেন। এমনো হতে পারে, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে আন্দোলন না করে শিক্ষার্থীরা ভুল করে মোহনপুর সরকারী কলেজের বিরুদ্ধে মিছিলের চেষ্টা করেছে।
সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থী ও সাধারণের অবগতি ও ত্রুটি নিরসনে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে পাওয়া ২০২৩ এবং ২০২৪ সালের নির্ধারিত ফি সম্বলিত তথ্যের কপি পাওয়া যাবে।