
সুমন চন্দ্র দে,মহেশখালী (কক্সবাজার) প্রতিনিধি:
মহেশখালী উপজেলার মাতারবাড়ীতে পরিবেশ ও জেলেদের জীবন-জীবিকা সুরক্ষা বাস্তবায়নের দাবীতে বাপা- মহেশখালী শাখার উদ্যোগে "মানববন্ধন" অনুষ্ঠিত হয়েছে ।
১৮ নভেম্বর (মঙ্গলবার) বিকাল তিনটার সময় বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) মহেশখালী আঞ্চলিক শাখা , মহেশখালী জন-সুরক্ষা মঞ্চ ও উপকূল সুরক্ষা ফাউন্ডেশনের যৌথ উদ্যোগে মাতারবাড়ী কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্প সংলগ্ন সাইরার ডেইল বাজারে অনুষ্ঠিত উক্ত মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন বাপা মহেশখালী শাখার নির্বাহী সদস্য ও সাবেক ইউপি সদস্য হামেদ হোছাইন।
মানববন্ধনে সঞ্চালনা করেন বাপা মহেশখালী শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক ও মহেশখালী জন-সুরক্ষা মঞ্চের সাধারণ সম্পাদক মোঃ মহসিন, স্বাগত বক্তব্য রাখেন বাপা মহেশখালী শাখার সাধারণ সম্পাদক ও উপকূল সুরক্ষা ফাউন্ডেশনের সভাপতি আবু বক্কর ছিদ্দিক, বক্তব্য রাখেন মাতারবাড়ী ৯ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মোহাম্মদ আলী, মহেশখালী জন-সুরক্ষা মঞ্চের সভাপতি নুর মোহাম্মদ, মহেশখালী উপজেলা সিনিয়র মৎস্য অফিসের মৎস্য প্রতিনিধি জাহাঙ্গীর আলম, মাতারবাড়ী ইউপি'র ৭, ৮ ও ৯নং ওয়ার্ডের মহিলা মেম্বার রেহেনা আফছার, আব্দুল জব্বার প্রমূখ।
মানববন্ধনে বাপা'র নেতৃবৃন্দগণ বলেন— মাতারবাড়ীতে পরিবেশ বিধ্বংসী কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্রের কারনে মানুষের পেশা হারিয়ে এখন বেকারত্ব জীবন যাপন করছেন। এই কয়লা প্রকল্পের ধারা মহেশখালীর কোন ভাগ্য পরিবর্তন হয়নি, বরং মানুষ তাদের কর্ম হারিয়ে মহেশখালীতে বেকারত্ব বেড়েছে। মহেশখালীতে এখন প্রতিটি ঘরে ঘরে মানুষের শরীরে এলার্জি জনিত রোগ দেখা যাচ্ছে, যা অতীতে এধরনের রোগ এভাবে গণহারে দেখা যায়নি। এই এলার্জি রোগ জলবায়ু দিক পরিবর্তন বা পরিবেশগত কারনে হচ্ছে কিনা তা খতিয়ে দেখা উচিৎ বলেও জানান।
বক্তারা বলেন— কোহেলিয়া নদী ধ্বংস করেছে, ফলে হাজারো অধিক জেলে কর্ম হারিয়ে তাদের সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। নদী কিংবা সাগরে মাছ আহরণ করা জেলেদের প্রতিনিয়ত হয়রানি করছে সরকারের সংশ্লিষ্ট বাহীনির লোকজন, অবিলম্বে এসব অহেতুক হয়রানি বন্ধ করার আহবান জানান।
মাতারবাড়ীর পশ্চিমের সাগর থেকে বালু উত্তোলনে মাতারবাড়ীর বেড়িবাঁধ ভাঙ্গনের সৃষ্টি হয়েছে। বিগত সময়ে বর্ষাকালে শত শত পরিবার সাগরে বিলিন হয়ে গেছে, কিন্তু সরকার এই বেড়িবাঁধ নির্মাণের কোন উদ্যোগ নিচ্ছে না। দ্রুত মহেশখালীর কোহেলিয়া নদী খনন ও জেলেদের নিরাপত্তা জোরদার করার জন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের প্রতি দাবী জানান বাপা'র কর্মীরা।